গণভোটে সরকারি চাকুরিজীবীরা কি রাষ্ট্রসৃষ্ট ‘দণ্ডনীয় অপরাধের’ মুখে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না

রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩

২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে?

রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা

আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি

শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম

গণভোটে সরকারি চাকুরিজীবীরা কি রাষ্ট্রসৃষ্ট ‘দণ্ডনীয় অপরাধের’ মুখে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ স্থান দখল করতে যাচ্ছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদভিত্তিক সংস্কার’ প্রশ্নে গণভোট। সরকার এই দ্বৈত আয়োজনকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠের বাস্তবতা ভিন্ন। এই যুগল আয়োজন প্রশাসনিক ইতিহাসে এমন এক নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই তার নিরপেক্ষ কর্মচারীদের এক ভয়ংকর আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দৃশ্যত পরিস্থিতিটি স্ববিরোধী। একদিকে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে—প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান

নিলে তা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই দুই প্রবল শক্তির সংঘর্ষে মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এখন এমন—রাষ্ট্র বলছে ‘প্রচার করো’, আর আইন বলছে ‘করলে জেল’। আইনি প্রেক্ষাপটটি বেশ স্পষ্ট। ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’-এর বিধান কার্যকর হবে। আরপিওর ৮৬ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, সরকারি পদমর্যাদা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড। নির্বাচন কমিশনও বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীরা কেবল তথ্য সরবরাহ করতে পারেন, কিন্তু কোনো পক্ষের হয়ে ভোট চাইতে পারেন না।

অর্থাৎ, নিরপেক্ষতা এখানে কেবল নৈতিকতার বিষয় নয়, এটি ফৌজদারি আইনের আওতাভুক্ত। তবু সরকার কী করছে? ‘জনসচেতনতা’ সৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাঁড় করিয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র। প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা, প্রেস উইংয়ের একপাক্ষিক কনটেন্ট, প্রায় ১৪০ কোটি টাকার বিশাল প্রচার বাজেট, সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পোস্টার-ব্যানার—এ সবই কি নিছক তথ্য? বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার টানানোর যে লিখিত নির্দেশ গেছে, তাকে কি নিরপেক্ষ অবস্থান বলা চলে? এগুলো স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় পক্ষাবলম্বন। যখন রাষ্ট্র নিজেই একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের পক্ষে অবস্থান নেয়, তখন মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য ‘নিরপেক্ষ’ থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে মন্ত্রণালয়ের ‘অনুরোধ’ বা

‘নির্দেশনা’ উপেক্ষা করা অধস্তন কর্মচারীদের জন্য প্রায় অসম্ভব। সেখানে প্রশ্ন তোলা বা দ্বিমত পোষণ করাকে প্রায়শই ‘অসহযোগিতা’ বা ‘সরকারবিরোধী অবস্থান’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই অলিখিত প্রাতিষ্ঠানিক চাপ অনেক সময় প্রকাশ্য হুমকির চেয়েও কার্যকর। ফলে অধিকাংশ কর্মচারী স্বেচ্ছায় নয়, বরং একটি কাঠামোগত বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে আইন লঙ্ঘনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে নির্বাচন কমিশনের বিলম্বিত বোধোদয়। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসি যখন ঘোষণা দিল—সরকারি কর্মচারীদের পক্ষাবলম্বন দণ্ডনীয় অপরাধ—ততক্ষণে রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় সরকারি গাড়ি, অফিস সময় এবং অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই অপরাধের দায় কার? যে কর্মচারী আদেশ পালন করেছেন তাঁর, নাকি যে

রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে? সবচেয়ে বিপজ্জনক যুক্তিটি আসছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে। সংস্কার ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে আইন লঙ্ঘনটাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক গণভোটে সরকারপ্রধানরা অবস্থান নেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবশ্যই অবস্থান নিতে পারেন। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী ও নিরপেক্ষ কর্মচারীদের সেই দলীয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বাস্তবায়নে বাধ্য করা সংবিধান ও আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। আইনের শাসনে ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ দিয়ে অপরাধকে জায়েজ করার সুযোগ নেই। সরকার হয়তো বলবে, তারা কাউকে লিখিতভাবে আইন ভাঙতে বলেনি। কিন্তু এটি একধরনের প্রশাসনিক ভণ্ডামি। রাষ্ট্র যখন বাজেট বরাদ্দ দেয়, লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয় এবং মনিটরিং করে, তখন আলাদা করে ‘আইন ভাঙো’ বলার প্রয়োজন হয় না। এটি

রাষ্ট্রসৃষ্ট এমন এক ‘ঝুঁকি-পরিবেশ’, যেখানে কর্মচারীরা নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং রাষ্ট্রের নকশায় অপরাধী হতে বাধ্য হন। আসন্ন গণভোট তাই কেবল একটি ভোট নয়; এটি জনপ্রশাসনের নিরপেক্ষতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার শামিল। সংস্কার এজেন্ডার নামে রাষ্ট্র তার কর্মচারীদের আইনি সুরক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজ যদি এই দৃষ্টান্ত স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এবং দিন শেষে দায় চাপাবে নিচের সারির কর্মচারীদের ওপর। যে সংস্কার আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতাকে বিসর্জন দিয়ে বাস্তবায়িত হয়, তা গণতন্ত্রকে সংহত করে না বরং এর ভিত্তিকেই দুর্বল করে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংস্কার প্রস্তাব পাস হবে কি না, তা

সময় বলবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসনের যে ক্ষতি হলো, তা কি আদৌ পূরণ করা সম্ভব? ইঞ্জিনিয়ার এম. হোসেন: ফেলো, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ছাত্রলীগ নেতা দেশে ফিরেছেন ভেবে চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পেটালো পুলিশ দিনাজপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করলেন জামায়াতের গুপ্ত কর্মী তারেক নানা অজুহাতে সাধারণ কৃষকদের ধান ফেরত, প্রভাবশালীদের নিম্নমানের ধান কিনছে সরকার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না বগুড়ায় একরাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, জড়িতদের পরিচয় অজানা রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩ ২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে? ফায়ার স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত নারী এনে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর স্টেশন অফিসারের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন ইরানে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয় যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার এডিসিকে ২৪ দিনে ৩ বার বদলি, নেপথ্যে কে?