ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
নিউইয়র্কে ১২ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন ৩ দিন ধরে নিখোঁজ
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া জবাব দিলেন মামদানি
নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর; জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
জাতিসংঘে সাইড ইভেন্টে ‘সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব’ তুলে ধরলেন ইউনূস; উপস্থিত ছিলে হাতেগোণা অতিথি
নিউইয়র্কে ব্যাপক আয়োজনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন
খোকন ভাইয়ের বিদায় এবং কিছু প্রশ্ন? আসলাম আহমাদ খান
আজ দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল হক খোকন ভাইয়ের জানাজার নামাজ। তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে আজ দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল জ্যাকসন হাইটসে। মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল শোক, আর বিদায়ের মুহূর্তে ছিল প্রিয় মানুষটিকে হারানোর গভীর বেদনা।
খোকন ভাই চিরতরে চলে গেছেন, কিন্তু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন — মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে টাকা, পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কিংবা জৌলুসের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন একটি সুন্দর মন, পবিত্র আত্মা, আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।
৩০ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। নিজের সংসার গড়েননি। আওয়ামী লীগই ছিল তাঁর সংসার, দলের মানুষগুলোই ছিল তাঁর আপনজন। যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানেই
খোকন ভাই। ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রতিকূলতা কিংবা দুঃসময়ে শ্রমিক লীগের ব্যানার হাতে তাঁকে দেখা গেছে মিছিলের অগ্রভাগে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কখনো মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়নি। আওয়ামী লীগ করলেও বিএনপি তাঁর শত্রু ছিল না। তাঁর মৃত্যুতে তাঁরাও কেঁদেছেন, শোক প্রকাশ করেছেন সমান আন্তরিকতায়। এটাই খোকন ভাইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু মানুষের আপনজন। কিন্তু তাঁর এই বিদায় আমাদের সামনে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে গেছে। আমরা কি শুধু হাসির বন্ধু, আড্ডার বন্ধু, খেলার বন্ধু আর মিছিলের বন্ধু? আমরা কি একে অপরের অন্তরের মানুষ হতে পেরেছি? নাকি পাশাপাশি থেকেও একে অপরের ভেতরের খবর রাখি
না? একজন মানুষ পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর মরদেহ পাওয়া গেল ব্রুকলিনের একটি মর্গে। কী ঘটেছিল তাঁর জীবনে? কে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন? কে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন? তাঁর অসুস্থতা কিংবা বিপদের খবর কেউ জানতেন কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের অজানা। এই মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল, আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। একই মিছিলে হাঁটি, একই মঞ্চে দাঁড়াই, একই টেবিলে বসে খাই; অথচ কখনো কখনো পাশের মানুষটির নিঃসঙ্গতা, অসুস্থতা কিংবা বিপদের খবরটুকুও রাখি না। আমরা গাছের শুকনো পাতার মতো কাছাকাছি থাকি, অথচ কতো বিচ্ছিন্ন। প্রবাসে আমরা যারা একটিভিটি করি, নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিই, মিছিল-মিটিং করি, পিকনিক করি,
বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করি, ছবি তুলি, হাসিমুখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াই, কিন্তু এসব আয়োজনের বাইরে আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? বিপদের দিনে আমরা কতজনের পাশে দাঁড়াই? কতজনের নিঃসঙ্গতা ভাগ করে নিই? প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। প্রিয়জনদের কাছে ফেরা, নিজের জন্মভূমির মাটিতে পা রাখা— এসব আকাঙ্ক্ষা হয়তো বুকের ভেতর নিয়েই তাঁকে এতগুলো বছর কাটাতে হয়েছে। জীবিত অবস্থায় যে মানুষটি দেশে ফিরতে পারেননি, আজ তাঁর নিথর দেহ দেশে ফিরে যাচ্ছে। কী নির্মম পরিহাস! যে মানুষটি প্রবাসের মাটিতে এত মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর নিজের জীবনের অসহায়ত্বটুকু আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। এই প্রশ্ন শুধু খোকন ভাইকে ঘিরে নয়, এটি
আমাদের পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য একটি আত্মজিজ্ঞাসা। যাঁরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, যাঁরা সমাজের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ, যাঁদের ঘিরে নানা আয়োজন আবর্তিত হয়— তাঁদের কাছে বিনীত প্রশ্ন, আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু কি সত্যিই মানুষের প্রয়োজন, নাকি আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়াবেন ? কথাটি এজন্য বললাম, মিছিলকে যারা প্রাণবন্ত করেন, পিকনিককে যারা আনন্দমুখর করেন, সামাজিক অনুষ্ঠানকে যারা সফল করেন— এমন অনেক কাগজপত্রবিহীন মানুষ আছেন, তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তা, অসুস্থতা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা দেশে ফেরার আকুতির খোঁজ আমরা কতটা রাখি? আমরা কি কখনো তাঁদের পাশে বসে জিজ্ঞেস করি— ভাই, আপনি কেমন আছেন? কোনো সমস্যা হচ্ছে? আপনার কোনো সাহায্য প্রয়োজন? সামাজিক নেতৃত্বের সার্থকতা শুধু
মানুষকে একত্রিত করার মধ্যে নয়; মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেও। একটি সমাজ তখনই মানবিক হয়ে ওঠে, যখন তার সবচেয়ে অসহায় মানুষটিকেও আপনি অনুভব করবেন। তাই আসুন, আমরা শুধু মিছিলের বন্ধু না হয়ে মানুষের অন্তরের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। শুধু উৎসবে নয়, অসুস্থতায়, বিপদে, নিঃসঙ্গতায়ও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর কালচার তৈরী করি। খোকন ভাই আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর বিদায় আমাদেরকে শিখিয়ে যাক, মানুষকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিছিলে আর আনন্দ আয়োজনে পাশাপাশি হাঁটা নয়, জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো।
খোকন ভাই। ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রতিকূলতা কিংবা দুঃসময়ে শ্রমিক লীগের ব্যানার হাতে তাঁকে দেখা গেছে মিছিলের অগ্রভাগে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কখনো মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়নি। আওয়ামী লীগ করলেও বিএনপি তাঁর শত্রু ছিল না। তাঁর মৃত্যুতে তাঁরাও কেঁদেছেন, শোক প্রকাশ করেছেন সমান আন্তরিকতায়। এটাই খোকন ভাইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু মানুষের আপনজন। কিন্তু তাঁর এই বিদায় আমাদের সামনে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে গেছে। আমরা কি শুধু হাসির বন্ধু, আড্ডার বন্ধু, খেলার বন্ধু আর মিছিলের বন্ধু? আমরা কি একে অপরের অন্তরের মানুষ হতে পেরেছি? নাকি পাশাপাশি থেকেও একে অপরের ভেতরের খবর রাখি
না? একজন মানুষ পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর মরদেহ পাওয়া গেল ব্রুকলিনের একটি মর্গে। কী ঘটেছিল তাঁর জীবনে? কে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন? কে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন? তাঁর অসুস্থতা কিংবা বিপদের খবর কেউ জানতেন কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের অজানা। এই মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল, আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। একই মিছিলে হাঁটি, একই মঞ্চে দাঁড়াই, একই টেবিলে বসে খাই; অথচ কখনো কখনো পাশের মানুষটির নিঃসঙ্গতা, অসুস্থতা কিংবা বিপদের খবরটুকুও রাখি না। আমরা গাছের শুকনো পাতার মতো কাছাকাছি থাকি, অথচ কতো বিচ্ছিন্ন। প্রবাসে আমরা যারা একটিভিটি করি, নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিই, মিছিল-মিটিং করি, পিকনিক করি,
বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করি, ছবি তুলি, হাসিমুখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াই, কিন্তু এসব আয়োজনের বাইরে আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? বিপদের দিনে আমরা কতজনের পাশে দাঁড়াই? কতজনের নিঃসঙ্গতা ভাগ করে নিই? প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। প্রিয়জনদের কাছে ফেরা, নিজের জন্মভূমির মাটিতে পা রাখা— এসব আকাঙ্ক্ষা হয়তো বুকের ভেতর নিয়েই তাঁকে এতগুলো বছর কাটাতে হয়েছে। জীবিত অবস্থায় যে মানুষটি দেশে ফিরতে পারেননি, আজ তাঁর নিথর দেহ দেশে ফিরে যাচ্ছে। কী নির্মম পরিহাস! যে মানুষটি প্রবাসের মাটিতে এত মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর নিজের জীবনের অসহায়ত্বটুকু আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। এই প্রশ্ন শুধু খোকন ভাইকে ঘিরে নয়, এটি
আমাদের পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য একটি আত্মজিজ্ঞাসা। যাঁরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, যাঁরা সমাজের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ, যাঁদের ঘিরে নানা আয়োজন আবর্তিত হয়— তাঁদের কাছে বিনীত প্রশ্ন, আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু কি সত্যিই মানুষের প্রয়োজন, নাকি আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়াবেন ? কথাটি এজন্য বললাম, মিছিলকে যারা প্রাণবন্ত করেন, পিকনিককে যারা আনন্দমুখর করেন, সামাজিক অনুষ্ঠানকে যারা সফল করেন— এমন অনেক কাগজপত্রবিহীন মানুষ আছেন, তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তা, অসুস্থতা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা দেশে ফেরার আকুতির খোঁজ আমরা কতটা রাখি? আমরা কি কখনো তাঁদের পাশে বসে জিজ্ঞেস করি— ভাই, আপনি কেমন আছেন? কোনো সমস্যা হচ্ছে? আপনার কোনো সাহায্য প্রয়োজন? সামাজিক নেতৃত্বের সার্থকতা শুধু
মানুষকে একত্রিত করার মধ্যে নয়; মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেও। একটি সমাজ তখনই মানবিক হয়ে ওঠে, যখন তার সবচেয়ে অসহায় মানুষটিকেও আপনি অনুভব করবেন। তাই আসুন, আমরা শুধু মিছিলের বন্ধু না হয়ে মানুষের অন্তরের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। শুধু উৎসবে নয়, অসুস্থতায়, বিপদে, নিঃসঙ্গতায়ও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর কালচার তৈরী করি। খোকন ভাই আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর বিদায় আমাদেরকে শিখিয়ে যাক, মানুষকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিছিলে আর আনন্দ আয়োজনে পাশাপাশি হাঁটা নয়, জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো।



