খলিল-তৈয়্যব-আখতার বিমানের নতুন পরিচালক: নেপথ্যে বোয়িং কেনার ‘প্যাকেজড ডিল’? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

খলিল-তৈয়্যব-আখতার বিমানের নতুন পরিচালক: নেপথ্যে বোয়িং কেনার ‘প্যাকেজড ডিল’?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:৫৩ 32 ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যেই ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদকে নিয়োগ পেয়েছেন এমন এক সময়ে, যখন বোয়িং কিনতে অন্তর্বর্তী সরকার জোরেসোরে চেষ্টা করছে। অথচ এই বহুমূল্যের আন্তর্জাতিক কেনাকাটার জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দর যাচাই কমিটি গঠন হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা এই নিয়োগ কি নিছক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার পথ আগেভাগেই পরিষ্কার করে নেওয়ার কৌশল? অনুসন্ধানে

দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু বাণিজ্যিক বিবেচনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক, সরকার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের কৌশলগত পণ্য—অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম কিংবা বোয়িংয়ের মতো উড়োজাহাজ—দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর কাছে স্বাভাবিক বাজারদরে বিক্রি করে না। একটি নির্ধারিত মূল্য ও শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ কার্যত সীমিত। বিশেষ করে যেসব দেশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও প্রকট। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার আগে এই সীমিত দরকষাকষির জায়গাটুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনায় সরকার মূল্য ও শর্ত পুনর্বিবেচনার আগ্রহ

দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকাস্থ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং বোয়িং চুক্তিকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত মূল্য ও শর্ত সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা একটি সূত্র তৎকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিডি ডাইজেস্টকে জানায়, বোয়িংয়ের প্রস্তাবনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল সুবিবেচনাপ্রসূত। কারণ বোয়িংয়ের প্যাকেজড ডিল-এ

দাম কমানো বা শর্ত শিথিলের কার্যকর কোনো সুযোগ ছিল না। সে কারণেই শেখ হাসিনার সরকার বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে শেখ হাসিনার সরকার বোয়িংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী- ফরাসি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস-এর কাছ থেকে দশটি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। বোয়িং বাদ দিয়ে এয়ারবাসকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট ছিল না এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলে সেই অসন্তোষ প্রকাশ পায়। আর এর কয়েক মাসের মধ্যেই আগস্টে, শেখ হাসিনার সরকারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তুষ্টির যোগসূত্রের দালিলিক প্রমাণ দেখানো সম্ভব নয়। তবুও

সময়ের এই মিল এবং ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনে পূর্বতন জো বাইডেন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের তথ্য-প্রমাণ উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার বক্তব্যে অসংখ্যবার বলেছেন বাংলাদেশের সরকার পতনে বাইডেন প্রশাসন বিপুল অর্থায়ন করেছে। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ২০২৫ সালের ২৪শে নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবার উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব পাঠায়। এবার ইউনূস সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দেয়। বোয়িং থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সিদ্ধান্তের পরও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়নি। অথচ এর মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ

এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে খলিল, তৈয়্যব ও আখতারকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নিয়োগ বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে— আন্তর্জাতিক দরপত্র কাঠামো নির্ধারণের আগেই কেন পরিচালনা পর্ষদে এই পরিবর্তন? বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির শর্ত, মূল্য ও দায়বদ্ধতা কি আগেই অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গেছে? বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজ কেনার মতো কয়েকশ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ। সেখানে দরকষাকষির সক্ষমতা, স্বচ্ছতা এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের ক্ষেত্রে সেই জায়গা কতটা বাস্তব—তা নিয়েই মূল প্রশ্ন। বোয়িং বনাম এয়ারবাসের এই অবস্থান পরিবর্তন বাংলাদেশের কৌশলগত

স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে আসে। সরকার বদলালেই যদি আন্তর্জাতিক বড় চুক্তির দিকনির্দেশনা বদলে যায়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাংলাদেশের নিজস্ব, আর কতটা আন্তর্জাতিক চাপের প্রতিফলন? বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলে তার মূল্য, শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়ই বলে দেবে—বাংলাদেশ এবার সত্যিকারের দরকষাকষি করতে পেরেছে, নাকি আবারও একটি নির্ধারিত দামে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
“হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন একাত্তর থেকে আবার৭১ কেমন আছে বাংলাদেশ? নির্বাচন বৈধতা দিতে এক ব্যক্তির সাইনবোর্ডসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ‘পাশা’, একাই সাপ্লাই দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক! উপদেষ্টা আদিলুর ও শিক্ষা উপদেষ্টা আবরারের পারিবারিক বলয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক তালিকা গণভোট নয়, এটা সংবিধান ধ্বংসের আয়োজন হাজার হাজার প্রোফাইল ছবিতে একটাই কথা—“নো বোট, নো ভোট।” ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহবান জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূস সাহেব ঈদ করবেন কোথায়! Plebiscite or Refounding? The Constitutional Limits of the Referendum in Bangladesh Former Bangladeshi Minister Ramesh Chandra Sen Dies in Custody