ক্রমশ বেপরোয়া রোহিঙ্গারা: ১৩ লাখ জনঅধ্যুষিত ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা চরমে, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

ক্রমশ বেপরোয়া রোহিঙ্গারা: ১৩ লাখ জনঅধ্যুষিত ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা চরমে, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ |
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, সেই সঙ্গে ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির রেশন বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সক্রিয় অপরাধী চক্রের উসকানিতে এই অস্থিরতা দিন দিন গভীর হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র সতর্ক করে দিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই এলাকায় দাঙ্গাসহ ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যেভাবে ভাঙছে শৃঙ্খলা সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মানতে অনীহা দেখাচ্ছে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ। বিশেষ করে রেশন কার্ড

আপডেট, ঘর মেরামত বা জরুরি সেবার টোকেন সংগ্রহের সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায়ই তর্কে জড়াচ্ছে তারা। নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না পেলে কর্মকর্তাদের হেনস্তা করার চেষ্টাও করছে কেউ কেউ, যা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উখিয়ার কুতুপালং (ক্যাম্প-১ ও ২) এবং বালুখালী (ক্যাম্প-৯ ও ১০) এলাকায় এই শৃঙ্খলাহীনতা সবচেয়ে প্রকট। সম্প্রতি এসব ক্যাম্পের সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) কার্যালয়ের সামনে রেশন কার্ডের ডিজিটাল এন্ট্রি এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যা যাচাইকালে একদল রোহিঙ্গা উত্তেজিত হয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। উদ্বেগজনকভাবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও তাদের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন ক্যাম্পের একাধিক স্বেচ্ছাসেবক জানান, আগে রোহিঙ্গারা প্রশাসনের কথা মানত, এখন অনেকেই কথা

মানতে চায় না। সিআইসি অফিসের লোকজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করাটা যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেশন কমেছে, বেড়েছে হাহাকার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কর্তৃক মাসিক রেশন বরাদ্দ হ্রাসের পর থেকেই ক্যাম্পগুলোতে ক্ষোভ ও হাহাকার তৈরি হয়েছে এবং এই মানবিক সংকটকে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানী একটি গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে। ডব্লিউএফপি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক তহবিল সংকটের কারণে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ সহায়তা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সহায়তা তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে — সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ পাচ্ছেন মাসে মাত্র ৭ ডলার, প্রায় ৩৩ শতাংশ পাচ্ছেন ১২ ডলার (বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩ ডলারসহ) এবং

অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পাচ্ছেন ১০ ডলার করে। কুতুপালং ৪ নম্বর বর্ধিত ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ কেফায়াত বলেন, “মানুষ যখন না খেয়ে থাকে, তখন অনেকেই বাধ্য হয়ে ভুল পথে পা বাড়ায়। এতে করে ক্যাম্পের ভেতরে চুরি-ডাকাতি ও নানা অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। দিন যত যাচ্ছে, মানুষের কষ্ট তত বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।” রোহিঙ্গা নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ যখন স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে না, তখন তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।” কুতুপালং ১ নম্বর (ওয়েস্ট) ক্যাম্পের ডি/৮ ব্লকের রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন বলেন, “রেশন কার্ডের এন্ট্রি নিয়ে কিছু মানুষ

আবেগতাড়িত হয়ে উত্তেজিত আচরণ করে। ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিরা নিয়ম-শৃঙ্খলা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” ক্যাম্পে বাড়ছে অস্ত্র ও অপরাধ পরিস্থিতির আরও উদ্বেগজনক দিক হলো ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধি। একাধিক স্বেচ্ছাসেবক জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পথে আসা অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সন্ত্রাসীরাও ক্যাম্প থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করছে। ক্যাম্পের পেছনে পাহাড় ও জঙ্গলে অস্ত্র আনা-নেওয়া, মজুদ ও বিক্রির একাধিক চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তারা। অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত সংঘাতে প্রায়ই হত্যা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে

অধিকাংশ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ঘটে। এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এপিবিএন সদস্যরা সার্বক্ষণিক সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।” নয়াপাড়া ২৬ নম্বর নিবন্ধিত ক্যাম্পের কমিউনিটি লিডার আবুল কালাম বলেন, “কিছু কিছু বেপরোয়া অপরাধীর কারণে ক্যাম্পে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা কারও কথা শুনতে চায় না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই যায়। তাদের বিচরণে দিন দিন পরিবেশ গুমোট হয়ে উঠছে। এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি। শান্তিতে বসবাস করতে চাই আমরা সাধারণ রোহিঙ্গারা।” কাঁটাতারের বেড়া এখন অর্থহীন: ২০০ অবৈধ পথ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরেকটি বড় ফাঁকফোকর হলো কাঁটাতারের বেড়া কেটে অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,

ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে বেআইনিভাবে দুই শতাধিক ছোট-বড় প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পথ ব্যবহার করে কিছু রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরে যাচ্ছে এবং কেউ কেউ স্থানীয় এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মনির উল্লাহ ওরফে মনিয়া বলেন, “কাঁটাতারের বেড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেকেই বিকল্প পথ হিসেবে বেড়ার বিভিন্ন জায়গায় ফাঁক তৈরি করেছে।” গত ৮ই ফেব্রুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ও আশপাশের এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৬ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যারা বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযান পরিচালনাকারী সেনাবাহিনীর ৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর আহসানুল হাই সৌরভ সে সময় জানিয়েছিলেন, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।” তিনি কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় চেকপোস্ট সক্রিয় রেখে নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান। বনধ্বংস, অপহরণ ও ডাকাত দলের উত্থান রাতের আঁধারে বন থেকে কাঠ কাটা এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়াও এখন ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার নিত্যচিত্র হয়ে উঠেছে। পালংখালী বনবিট কর্মকর্তা জানান, ক্যাম্পসংলগ্ন বনাঞ্চলে রাতের আঁধারে কাঠ কাটার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নিয়মিত টহল ও অভিযান চালিয়ে এই কার্যক্রম ঠেকানোর চেষ্টা হলেও অনেক সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর বাইরে টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বেশ কিছু ডাকাত দলের উপস্থিতির কথাও জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এসব গোষ্ঠীর একটি অংশ মাদক পাচার, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তাহীনতা: মানবিক সহানুভূতি থেকে ভয়ের বাস্তবতায় ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার সময় উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় মানুষ মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন — খাবার ভাগ করে দেওয়া, নিজের আঙিনায় আশ্রয় দেওয়া — সে চিত্র আজ অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে কিছু রোহিঙ্গা চক্র অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারাও এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা। টেকনাফ ও উখিয়ার মোট স্থানীয় জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, অথচ ৩৩টি ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় বসবাস করছেন প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রা গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক বর্তমান পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংকটে স্থানীয়দের নিরাপত্তা, জীবিকা ও পরিবেশ — সবকিছুই চাপে পড়ছে।” তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, “মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও বর্তমান বাস্তবতায় ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেশনসংকট, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট হতাশা অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে।” শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক সহায়তা জোরদার এবং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রোহিঙ্গা-অপরাধবিষয়ক গবেষক রাফি আল ইমরান বলেন, “অপরাধবিজ্ঞানের স্ট্রেইন থিওরি অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না হলে কিছু মানুষ অবৈধ পথে ঝুঁকে পড়ে, যার প্রতিফলন হিসেবে মাদক পাচার, অপহরণ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থান ও সমুদ্রপথের সহজলভ্যতা অপরাধী চক্রের সহায়ক হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রহীনতা ও আইনি পরিচয়ের অভাব অনেকের মধ্যে আইনের ভয় কমিয়ে দিচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রেশন বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং এ লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি সংকট, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু টহল দিয়ে এই গভীরমূল সংকট সামলানো সম্ভব নয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা আরও বড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে — এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে জরুরি বার্তা হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন ‘মানুষ চেয়েছিল ম্যারাডোনার মাথা ভেঙে দিই’ বিশ্বকাপ খেলে ২৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে কেপ ভার্দে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি গাজা যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল ‘দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়’ আদর্শকে হত্যা করা যায় না, ট্রাম্পের ‘এক আঘাতেই সবাই শেষ’ মন্তব্যের জবাবে ইরান গাজা যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল ‘দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়’ কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন মা-মেয়েকে ধর্ষণ: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা মার্কিন বাজারে ঝড় তুলেছে চীনের নতুন এআই মডেল নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়াকে কি বলেছিলেন মেসি? বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর আটটি যুদ্ধ মিটমাট করেছি, তাও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?