কুয়াশার দাপটে বাড়ছে শীতের অনুভূতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




কুয়াশার দাপটে বাড়ছে শীতের অনুভূতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
পৌষের শুরুতেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশার দেখা মিলেছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন এই কুয়াশার দাপট আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দিনের তাপমাত্রা কম অনুভূত হবে এবং শীতের প্রকোপ বাড়বে। কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। সকাল ১০টার দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও দিনভর কুয়াশা কাটেনি। একই চিত্র ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে, ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরই রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, সেখানে তাপমাত্রা ছিল ১২

দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে, ৩১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, শীতকালে কুয়াশা স্বাভাবিক বিষয়। তবে আগামী কয়েক দিন কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে পারে। দিনে কুয়াশা থাকলে সূর্যের আলো দেরিতে পৌঁছায় বা কম পৌঁছায়। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বেশি হয়। তিনি জানান, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে কুয়াশা বেশি থাকবে। এসব এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম অনুভূত হতে পারে। এ সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক

১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে তা অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজশাহীতে গতকাল দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। পুরো দিনই কুয়াশায় ঢাকা ছিল প্রকৃতি। উত্তরের হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার

ব্যবধান কমে যাওয়ায় সারাদিনই হিমশীতল অনুভূতি ছিল। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পৌঁছাচ্ছে না। এ কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীত বেশি লাগছে। উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় শীত জেঁকে বসেছে। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। চারদিক ঢেকে ছিল ঘন কুয়াশায়। সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে। কুয়াশার কারণে জেলার নৌঘাটগুলো থেকে সকালে প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে নৌকা ছেড়েছে। কুড়িগ্রামে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। কুড়িগ্রামে

শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর মহুবর আলী বলেন, সকালে এত ঠান্ডা থাকে যে, কাজে বের হতে দেরি হয়। অনেক সময় কাজই মেলে না। জয়পুরহাটে টানা চার দিন ধরে পশ্চিমা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন প্রায় স্থবির। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। মহাসড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। যাত্রী সংকটে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, জয়পুরহাট ও আশপাশের এলাকায় রোববার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা এত ঘন যে, হালকা বৃষ্টির মতো অনুভূত হচ্ছে। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, শীত বাড়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা খুব নিচে না নামলেও কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে আগামী কয়েক দিন শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেখ মুজিব-বাঙালির একমাত্র মাহানায়ক গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের ঈদে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানো নিয়েও ইউনুসের ছলচাতুরী ম্যানেজিং কমিটিতে দলীয় লোক নেওয়া হলে আদালতে যাওয়ার হুশিয়ারি রাশেদা কে চৌধুরীর বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি মমতায় গড়া এক নেতৃত্বের নাম শেখ মুজিব কাবুলে হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা: পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধ ও বর্বরতা ১৯৭১ এর মতোই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি হচ্ছে স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত শেখ হাসিনার ডেল্টা প্লানকে তারেক রহমান চালাচ্ছেন খালকাটা কর্মসূচি হিসেবে ‘ইউনূসকে ঠিকই চিনেছিলেন শেখ হাসিনা’, কারামুক্ত হয়ে আনিস আলমগীর ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ উপাধি দিতেন: আনিস আলমগীর রাতে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস, বিপাকে যেসব জেলা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব শুধু ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রো রেল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি, অডিও ফাঁস পদত্যাগ করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চীনে আল্ট্রা-ট্রেইল শিয়ামেনে অংশ নিলেন ইমামুর রহমান ১০০ দেশ ভ্রমণের লক্ষ্য তরুণ তুর্কী শাকিব উদ্দিনের