একুশের বিশ্বজয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি ও শেখ হাসিনার ভূমিকা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একুশের বিশ্বজয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি ও শেখ হাসিনার ভূমিকা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
বাঙালির রক্তস্নাত ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এই গৌরবময় ইতিহাস বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক প্রেক্ষাপট। আর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চূড়ান্ত ধাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রবাসীদের উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে তুলে ধরার মাধ্যমেই এসেছিল ঐতিহাসিক এই অর্জন। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্রভাগ হলেও মাতৃভাষার প্রশ্নে বাঙালি বরাবরই ছিল আপসহীন। উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঙালি। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় দুর্বার আন্দোলন। এই মুক্তিসংগ্রামে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দেন ভাষা

শহিদেরা। সেই থেকে দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু একে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার পথটি তৈরি হয় নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে। যেভাবে শুরু স্বীকৃতি আদায়ের এই প্রক্রিয়ার শুরুটা হয়েছিল কানাডাপ্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের হাত ধরে। ১৯৯৮ সালে তাঁরা ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটি’র পক্ষ থেকে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে একটি চিঠি লেখেন। এতে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সাত জাতি ও সাত ভাষার ১০ জন সদস্য ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে মহাসচিবের দপ্তর থেকে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, এ বিষয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা—ইউনেস্কোর

সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও চূড়ান্ত স্বীকৃতি ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ ইউনেস্কো প্রবাসীদের জানায়, স্বীকৃতি আদায়ের এই প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে সাধারণ পরিষদের সভায় তুলতে হবে। ব্যক্তি বা কোনো সংগঠনের প্রস্তাব ইউনেস্কো গ্রহণ করে না। এ সময় রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি জানার পর তিনি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি তৈরি করে প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সরকারের এই দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপই ছিল স্বীকৃতির পথে সবচেয়ে বড় মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়েই ১৯৯৯ সালে প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে বসে। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব

দেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক। তিনি বিভিন্ন দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করে প্রস্তাবটির পক্ষে জোরালো জনমত গড়ে তোলেন। ফলস্বরূপ, ওই বছরের ১৭ নভেম্বর সম্মেলনে ১৮৮টি দেশের সমর্থনে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে ২১শে ফেব্রুয়ারি যথাযথ মর্যাদায় বিশ্বজুড়ে পালিত হতে শুরু করে। মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের স্বীকৃতি স্বীকৃতি আদায়ের পরপরই পৃথিবীর বিকাশমান এবং বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর মর্যাদা রক্ষা ও গবেষণার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সরকার গঠন করে ২০১০ সালের ২১শে

ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই ইনস্টিটিউট ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর জাতিসংঘের মূল পর্যায় থেকেও দিনটির স্বীকৃতি আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি বৈশ্বিক ক্যালেন্ডারে চিরস্থায়ী আসন লাভ করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঠাকুরগাঁও বার নির্বাচনে আ’লীগ পন্থী প্রার্থীদের বড় চমক ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল: একাত্তরের এ দিনে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার চাঁদপুর ও মাদারীপুরে মিড ডে মিলের নিম্নমানের খাবারে প্রাথমিক শিশুরা অসুস্থ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাখামাখির ফল: বাংলাদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দেয়নি ইরান নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ অ্যাটলেটিকোর কাছে হারের পর উয়েফার কাছে বার্সেলোনার নালিশ গার্বেজ গিলে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের, এতে ইতিহাসের সত্য বদলায় না চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপে আন্তর্জাতিক জোটের উদ্বেগ-নিন্দা মানুষ সুখী নারীকে সহ্য করতে পারে না: হানিয়া ২ বিভাগে বৃষ্টির আভাস পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম অনলাইনে কিভাবে টিন সার্টিফিকেট করবেন শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে সমঝোতা না হলে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প বাঁধাকপির বস্তার নিচে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৬ টন মাদক জব্দ বিয়ে করছেন টেইলর সুইফট, অনুষ্ঠান হবে নিউইয়র্কে দেশে আজ সোনার ভরি কত