অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী: বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, আদর্শিক দৃঢ়তা আর কৃষিতে যাঁর অনন্য অবদান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬

আরও খবর

শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক

২০২৩ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অঙ্গীকার, ২০২৬ সালে বিনিয়োগে আগ্রহ ও সহযোগিতাঃ জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা

ইরানে ফের মার্কিন হামলার শঙ্কায় বেড়েছে তেলের দাম

ট্রাম্প কোণঠাসা করলেও নতি স্বীকারের লক্ষণ নেই ইরানের

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন ৩ দিন ধরে নিখোঁজ

সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রয়াণে ছাত্রলীগের গভীর শোক ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মব ও নিপীড়নের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের

অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী: বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, আদর্শিক দৃঢ়তা আর কৃষিতে যাঁর অনন্য অবদান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬ |
আজ অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আলোকিত হয়ে ছিলেন তিনি—যার বর্ণাঢ্য জীবন ছিল সংগ্রাম, আদর্শ এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মিশ্রণ। ১৯৪২ সালের ৩০শে জুন পিরোজপুরের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই নারী নেত্রী তার তীব্র বক্তৃতা, সাহসী সংগ্রাম এবং কৃষি সেক্টরে অসামান্য অবদানের জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গত বছরের আজকের এদিন- ১৬ই অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি চির বিদায় নেন। আজ তাঁর স্মৃতিতে রাজনৈতিক মহল, কৃষক সমাজ এবং নারী আন্দোলনের কর্মীরা শোকাহত। মতিয়া চৌধুরীর জীবন ছিল একটি মহাকাব্য—যেখানে বামপন্থী আদর্শ থেকে আওয়ামী লীগের প্রধান সারথির সঙ্গে যাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা স্মৃতি এবং কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দেশের কৃষক মানুষের

জীবন গড়ার অসাধারণ সাফল্য মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠেছে। ছাত্রজীবন থেকে ‘অগ্নিকন্যা’র উত্থান মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল ছাত্র আন্দোলনের আগুনে। পিরোজপুরের স্থানীয় স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি ঢাকায় আসেন এইচএসসির জন্য। ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬০-এর দশকে, পাকিস্তান আমলে যখন ছাত্ররা ভাষা আন্দোলনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে আসছিল, তখন মতিয়া চৌধুরীর তীক্ষ্ণ বক্তৃতা এবং অদম্য সাহস তাঁকে ‘অগ্নিকন্যা’র নামে খ্যাতি অর্জন করায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন এবং ১৯৬৪ সালে ডাকসুর জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। এই সময় তাঁর বক্তৃতায় ছিল আগুনের ঝলকানি—যা তরুণদের হৃদয় জয় করে নিত। পাকিস্তানি শাসকদের

অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ ছিল নির্ভীক; বহুবার কারারুদ্ধ হন এবং নির্যাতিত হন।তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা বামপন্থী আদর্শের সঙ্গে জড়িত ছিল। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এ যোগ দিয়ে তিনি কৃষক-শ্রমিকের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেন। ১৯৭০-এর দশকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর আদর্শ আরও পরিমার্জিত হয়। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছাপা হয়, যা তাঁর স্বামী বজলুর রহমানের সম্পাদিত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই যোগদান ছিল তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। আওয়ামী লীগের নারী শাখায় সক্রিয় হয়ে তিনি নারী অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নতুন গতি দেন। তাঁর বক্তৃতায় ছিল সাম্যবাদী চেতনা, কিন্তু তা মিশ্রিত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে। শেখ মুজিবুর রহমানের

‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্নকে তিনি নিজের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিময় অংশগ্রহণ: আদর্শের পরীক্ষা এবং জয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল মতিয়া চৌধুরীর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার মুখে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে তিনি গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল যুদ্ধের আহ্বান, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মনে আগুন জ্বালাত। পিরোজপুরের স্থানীয় গ্রামাঞ্চলে তিনি গোপন সংগ্রাম চালান, অস্ত্র সংগ্রহ এবং খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। যুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী বজলুর রহমানও স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁদের দম্পতির জীবনকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের পর তাঁর আদর্শ আরও দৃঢ় হয়। তিনি বিশ্বাস

করতেন যে, স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক সীমান্ত নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ার লড়াই। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীকালে ১৯৮০-৯০ এর দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সামনে ছিলেন। ১৯৯১ সালে শেরপুর-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেন। তাঁর আদর্শ ছিল সহজ: “রাজনীতি হলো মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।” এই আদর্শ তাঁকে সাদামাটা জীবনযাপনের প্রতীক করে তোলে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে সাফল্য: কৃষকের জীবন গড়ার অসাধারণ অধ্যায় মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ ছিল কৃষিমন্ত্রী হিসেবে

তাঁর অবদান। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম সরকার গঠনের পর তিনি কৃষিমন্ত্রী হন। এই সময় বাংলাদেশ কৃষি সেক্টরে বড় সংকটের মুখে ছিল—খাদ্য সংকট, বন্যা এবং দারিদ্র্য। মতিয়া চৌধুরী তার অক্লান্ত পরিশ্রমে কৃষকদের জন্য ‘কৃষিতে ভর্তুকি’ প্রকল্প চালু করেন, যা বীজ, সার এবং সেচের খরচ কমিয়ে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ান। ১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর নেতৃত্বে ধান উৎপাদন ২৫ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যায়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্মূল করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সরকারে আবার কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময় তিনি ‘কৃষি বিপ্লব’ এর নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। জেনেটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) ফসলের পরীক্ষামূলক চাষ চালু করেন, যা উৎপাদনশীলতা ৩০ শতাংশ বাড়ায়। ২০১৩ সালে তৃতীয়বার

মন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল পলিসি’ প্রণয়ন করেন, যা কৃষকদের জন্য ঋণ, বীমা এবং বাজার সুবিধা নিশ্চিত করে। তাঁর সরকারে বাংলাদেশ খাদ্য অব্যয়মুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কৃষক নেতা মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, “মতিয়া আপা কৃষকের মা ছিলেন। তাঁর সময়ে আমরা প্রথমবার সেচের জল পাই, সারের দাম কমে।” তাঁর সফলতা ছিল তাঁর আদর্শের প্রতিফলন—কৃষককে কেন্দ্র করে রাজনীতি। ২০১৪ সালের সরকারেও তিনি মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু ২০১৮ সালে বাদ পড়লেও তাঁর অবদান অমর। আদর্শের দৃঢ়তা: সংগ্রামী জীবনের মূল স্তম্ভ মতিয়া চৌধুরীর আদর্শ ছিল সাম্যবাদী এবং নারীমুক্তির স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “নারী ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ।” আওয়ামী লীগের মহিলা শাখায় তাঁর নেতৃত্বে হাজারো নারী রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০১-২০০৬ সালে বিরোধী দল হিসেবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই নয়, জনগণের সেবা। তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন—সাধারণ শাড়ি, গ্রামীণ কৃষকদের সঙ্গে মিশে থাকা—তাঁকে জনগণের কাছে নিয়ে আসে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মতিয়া চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগের মেরুদণ্ড। তাঁর আদর্শ ছিল অটুট, যা তাঁকে কট্টর বিরোধী থেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী করে তোলে। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামের কাহিনি।” ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়। ২০২৩ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের ১নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক শক্তি ছিলেন। অমর অবদান এবং স্মৃতির আলোকে আজ মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা স্মরণ করছি এক অগ্নিকন্যার যাত্রা—যিনি ছাত্র আন্দোলন থেকে মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কৃষি সংস্কার, সবকিছুতে আদর্শের আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর সাফল্য ছিল কৃষকের হাসিতে, নারীর সাহসে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় লুকিয়ে আছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় আমাদের শেখায়, রাজনীতি হলো মানুষের জন্য সংগ্রাম। মতিয়া চৌধুরী চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ চিরকাল জ্বলবে। জয় বাংলা, জয় মতিয়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভাবি, দাও কই’ বলার পর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ চুরির অভিযোগে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা’র প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অপতথ্য প্রচার দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর কূটনৈতিক কর্মকর্তার কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম ন্যূনতম মজুরির জন্য শ্রমিক যখন মরছে, তখন ২০০ কোটি টাকা খরচে সরকারি কর্মচারীদের ফ্ল্যাট তৈরির ঘোষণা তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার সিলেট টেস্ট: ক্যারিবীয় পেসারদের তোপে দিনশেষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’