ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’
ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের
বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম
জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ
জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে?
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল
জগন্নাথ হলে মব করে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহাকে থানায় দিল ছাত্রদল
রাজনীতি করব কিনা তা শিক্ষার্থীরা নির্ধারণ করবে
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ। একই সঙ্গে ঢাবি ক্যাম্পাসে রাজনীতি শিবির করবে কি-না তা শিক্ষার্থীরা নির্ধারণ করবে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাবির টিএসসিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরহাদ বলেন, আমরা সভাপতি ও সেক্রেটারি আত্মপ্রকাশ করেছি এবং খুব শিগগিরই আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করবো। আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন।
শিবিরের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলে যেমন ক্যান্ডিডেটরা পদের জন্য দাঁড়িয়ে যান সেখানে আমাদের শিবিরে তার কর্মী পর্যায় থেকে জনশক্তিরা সেটা নির্ধারণ করে দেয়। তারাই বলে দেয়
আমরা তাকে সভাপতি বা সেক্রেটারি হিসেবে চাই। এখানে অন্য কোনো অথরিটি নাই। ছাত্রশিবির রগকাটে কি-না, জানতে চাইলে বলেন, আপনি রগকাটা নিয়ে গুগলে সার্চ দেবেন, দেখবেন শিবিরের বিরুদ্ধে এমন কোনো ডকুমেন্টস পান কি-না। যা পাবেন সব ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পাবেন। ফ্যাসিবাদ দীর্ঘদিন ধরে একটা বিষয় প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছে। কথা বললে, শিবির ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলবে। সুতরাং কেউ সমর্থন না করলেও বিরোধীতা করতে পারে নাই। সামগ্রিক ইফোর্ট দিয়ে তারা এটা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি-না। সবকিছু প্রশাসন ঠিক করবে। তারপর ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তিত রূপ চালু হবে। বহির্বিশ্বের কাছে কেন আপনাদের নিষিদ্ধ সংগঠন
বলে প্রচার করে আসছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পরে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তারা ফ্যাসিবাদ কায়েমের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে বাধা মনে করেছে। তার মধ্যে প্রথম হলো সেনাবাহিনী। তাই তারা বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এরপর তারা শিবিরকে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। শিবিরের এমন কোনো লেয়ার নেই যেখানে হামলা হয়নি। শিবির সভাপতিকে কারণ ছাড়া টানা ৫৬ দিন রিমান্ডে নিয়েছে। এমনকি নামাজের সময়ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। শিক্ষার্থীরা শিবিরকে কীভাবে গ্রহণ করেছে, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বলে রাখা ভালো, ফ্যাসিবাদ দুটি বিষয় কায়েম করেছে, প্রথমত, শিবিরের সব অফিস বন্ধ করে তাদের কার্যক্রম
বন্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, শিবিরের প্রতি ভীতি তৈরি করেছে। আমাদের আত্মপ্রকাশের পর এই ভিত্তি ভেঙে গেছে। প্রায় সব শিক্ষার্থী আমাদের পজেটিভলি গ্রহণ করেছে। যারা আমাদের দীর্ঘ ৫ বছর ধরে দেখেছে, আমাদের আচরণ, ব্যক্তিত্ব দেখেছে তারা অনলাইনে ফিডব্যাক দিচ্ছে। বড় একটা জেনারেশন শিবিরকে চেনে না, এ ব্যাপারে আপনাদের উদ্যোগ কী হতে পারে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আত্মপ্রকাশই বড় একটা উদ্যোগ। আপনারা যদি সার্ভে করেন, দেখতে পারবেন প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী আমাদের ব্যাপারে পজেটিভ ধারণা পোষণ করে। আমাদের বিরুদ্ধে যে বয়ান ছিল সেটাকে তারা মিথ্যা বলেই ধরে নিয়েছে। ফরহাদ বলেন, কোন দল কী বলল সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি করা বা না করা
নির্ভর করে না। কোনো দল চাইলে আমরা রাজনীতি করব আর কেউ না চাইলে রাজনীতি করব না সেটার সুযোগ নেই। দেশে আমরা রাজনীতি করব কি-না সেটা নির্ধারণ করবে প্রশাসন। আর আমরা ঢাবি ক্যাম্পাসে রাজনীতি করব কি-না তা শিক্ষার্থীরা নির্ধারণ করবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ভেতরে থেকে শিবির শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের বলব, শুধু ভাসা ভাসা তথ্য দিয়ে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন কথা বলবেন না। এমন যদি কখনো হয়ে থাকে আপনারা প্রমাণ পান সেটা আমাদের দেবেন। যেখানে বিগত বছরগুলোতে শিবির সবচেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, শিবির সবচেয়ে মজলুম সংগঠন, সেখানে প্রমাণ ছাড়া এমন প্রশ্ন করা ভ্যালিড নয়। ‘শিবির যখন মার
খেত তখন কোনো দল কথা না বললেও এখন শিবিরের আত্মপ্রকাশে তারা বিরুদ্ধে কথা বলছে’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, আমাদের ওপর নির্যাতনের সময় আমাদের পক্ষে কেউ একেবারেই কথা বলেনি এমন নয়। কিছু সুবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন যারা শিবিরের উপর টর্চারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এখন অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে বলছেন, তাদের বলব, কোন ভাসা ভাসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে না বরং শিক্ষার্থীরা কী চায়, আসলেই শিবির কেমন সেটা জেনে বুঝে কথা বলবেন। এই আন্দোলনে যেমন সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে অংশ নিয়েছিলেন, সামনেও এ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আন্দোলন কারও ব্যক্তিগত
আন্দোলন ছিল না। এখানে সকল দল মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। একটা কমন টার্গেটে সবাই মাঠে ছিল। প্রথমে সেটা কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল, পরে শিক্ষার্থীরা শহীদদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। এরপর সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছে। এখানে কোনো দলের আলাদা ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ নেই।
আমরা তাকে সভাপতি বা সেক্রেটারি হিসেবে চাই। এখানে অন্য কোনো অথরিটি নাই। ছাত্রশিবির রগকাটে কি-না, জানতে চাইলে বলেন, আপনি রগকাটা নিয়ে গুগলে সার্চ দেবেন, দেখবেন শিবিরের বিরুদ্ধে এমন কোনো ডকুমেন্টস পান কি-না। যা পাবেন সব ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পাবেন। ফ্যাসিবাদ দীর্ঘদিন ধরে একটা বিষয় প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছে। কথা বললে, শিবির ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলবে। সুতরাং কেউ সমর্থন না করলেও বিরোধীতা করতে পারে নাই। সামগ্রিক ইফোর্ট দিয়ে তারা এটা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি-না। সবকিছু প্রশাসন ঠিক করবে। তারপর ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তিত রূপ চালু হবে। বহির্বিশ্বের কাছে কেন আপনাদের নিষিদ্ধ সংগঠন
বলে প্রচার করে আসছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পরে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তারা ফ্যাসিবাদ কায়েমের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে বাধা মনে করেছে। তার মধ্যে প্রথম হলো সেনাবাহিনী। তাই তারা বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এরপর তারা শিবিরকে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। শিবিরের এমন কোনো লেয়ার নেই যেখানে হামলা হয়নি। শিবির সভাপতিকে কারণ ছাড়া টানা ৫৬ দিন রিমান্ডে নিয়েছে। এমনকি নামাজের সময়ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। শিক্ষার্থীরা শিবিরকে কীভাবে গ্রহণ করেছে, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বলে রাখা ভালো, ফ্যাসিবাদ দুটি বিষয় কায়েম করেছে, প্রথমত, শিবিরের সব অফিস বন্ধ করে তাদের কার্যক্রম
বন্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, শিবিরের প্রতি ভীতি তৈরি করেছে। আমাদের আত্মপ্রকাশের পর এই ভিত্তি ভেঙে গেছে। প্রায় সব শিক্ষার্থী আমাদের পজেটিভলি গ্রহণ করেছে। যারা আমাদের দীর্ঘ ৫ বছর ধরে দেখেছে, আমাদের আচরণ, ব্যক্তিত্ব দেখেছে তারা অনলাইনে ফিডব্যাক দিচ্ছে। বড় একটা জেনারেশন শিবিরকে চেনে না, এ ব্যাপারে আপনাদের উদ্যোগ কী হতে পারে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আত্মপ্রকাশই বড় একটা উদ্যোগ। আপনারা যদি সার্ভে করেন, দেখতে পারবেন প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী আমাদের ব্যাপারে পজেটিভ ধারণা পোষণ করে। আমাদের বিরুদ্ধে যে বয়ান ছিল সেটাকে তারা মিথ্যা বলেই ধরে নিয়েছে। ফরহাদ বলেন, কোন দল কী বলল সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি করা বা না করা
নির্ভর করে না। কোনো দল চাইলে আমরা রাজনীতি করব আর কেউ না চাইলে রাজনীতি করব না সেটার সুযোগ নেই। দেশে আমরা রাজনীতি করব কি-না সেটা নির্ধারণ করবে প্রশাসন। আর আমরা ঢাবি ক্যাম্পাসে রাজনীতি করব কি-না তা শিক্ষার্থীরা নির্ধারণ করবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ভেতরে থেকে শিবির শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের বলব, শুধু ভাসা ভাসা তথ্য দিয়ে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন কথা বলবেন না। এমন যদি কখনো হয়ে থাকে আপনারা প্রমাণ পান সেটা আমাদের দেবেন। যেখানে বিগত বছরগুলোতে শিবির সবচেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, শিবির সবচেয়ে মজলুম সংগঠন, সেখানে প্রমাণ ছাড়া এমন প্রশ্ন করা ভ্যালিড নয়। ‘শিবির যখন মার
খেত তখন কোনো দল কথা না বললেও এখন শিবিরের আত্মপ্রকাশে তারা বিরুদ্ধে কথা বলছে’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, আমাদের ওপর নির্যাতনের সময় আমাদের পক্ষে কেউ একেবারেই কথা বলেনি এমন নয়। কিছু সুবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন যারা শিবিরের উপর টর্চারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এখন অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে বলছেন, তাদের বলব, কোন ভাসা ভাসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে না বরং শিক্ষার্থীরা কী চায়, আসলেই শিবির কেমন সেটা জেনে বুঝে কথা বলবেন। এই আন্দোলনে যেমন সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে অংশ নিয়েছিলেন, সামনেও এ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আন্দোলন কারও ব্যক্তিগত
আন্দোলন ছিল না। এখানে সকল দল মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। একটা কমন টার্গেটে সবাই মাঠে ছিল। প্রথমে সেটা কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল, পরে শিক্ষার্থীরা শহীদদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। এরপর সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছে। এখানে কোনো দলের আলাদা ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ নেই।





