ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সুনামগঞ্জে এক বছরে অন্তত ১৫ ছাত্র মাদ্রাসার মুহতামিমের ধর্ষণের শিকার, ধামাচাপার চেষ্টা স্থানীয় মাওলানাদের
সীতাকুণ্ডে বিএনপি কর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করল আওয়ামী লীগ কর্মীকে
যুবলীগ নেতা ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, মামলা করতে গিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধা মা বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে!
ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু: পরিবারের বরাতে পুলিশ
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১১ বোতল ভারতীয় কিংডিল সিরাপ জব্দ।
শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সন্তানের আঙুল কেটে নিলেন পুলিশ কনস্টেবল
আবারও রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল
রাজধানীতে আট মাসে ৪০০ বেওয়ারিশ লাশ দাফন, বেড়ে চলেছে সংখ্যা
রাজধানীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটি এই ৪০০টি মরদেহের দাফন ও সৎকার সম্পন্ন করেছে। গত তিন বছরের হিসাবে দেখা যায়, বেওয়ারিশ মরদেহের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে।
মাসওয়ারি হিসাব
২০২৬ সালের মাসওয়ারি হিসাবে জানুয়ারিতে ৩০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৯টি, মার্চে ৫২টি, এপ্রিলে ৪৬টি, মে মাসে ৫৬টি, জুনে ৬৭টি, জুলাইয়ে ৪২টি এবং আগস্টে ৪৮টি মরদেহ দাফন বা সৎকার করা হয়েছে। এ হিসাবে মাসিক গড় দাঁড়ায় ৫০টি। সবচেয়ে কম মরদেহ দাফন হয়েছে জানুয়ারিতে, সবচেয়ে বেশি জুনে।
দাফনের স্থানের হিসাবে ৭৪টি মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে এবং ৩২৫টি মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা
হয়েছে। একটি মরদেহ সৎকার করা হয়েছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে। আগের বছরগুলোর তুলনা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১০৪টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বছরভিত্তিক চিত্র: সাল দাফন-সৎকারকৃত বেওয়ারিশ মরদেহ মাসিক গড় (আনুমানিক) ২০২৩ ৪৯০ ৪১ ২০২৪ ৫৭০ ৪৭–৪৮ ২০২৫ ৬৪৪ ৫৪ ২০২৬ (জানু–আগস্ট) ৪০০ ৫০ ২০২৩ সালে ৪৯০টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৫ সালে ৭৪টি বেড়ে ৬৪৪টি মরদেহ দাফন হয়েছিল। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বেড়েছে ৮০টি (প্রায় ১৬ শতাংশ), আর ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭৪টি (প্রায় ১৩ শতাংশ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৪৪ মাসে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৪৮টি। চলতি বছরের মাসিক গড় ৫০টি। এই ধারা বছরের বাকি চার মাসেও বজায়
থাকলে বছর শেষে মোট সংখ্যা ৬০০-এর কাছাকাছি হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে সামান্য কম। তবে এটি অনুমান মাত্র, মাসভেদে সংখ্যায় ওঠানামা রয়েছে। অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ এক নয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আঞ্জুমানের হিসাবকে রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া মোট অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা ধরা যাবে না। উদ্ধারের সময় পরিচয় জানা না থাকলে মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে পুলিশ পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষেও পরিচয় শনাক্ত না হলে সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো সরকারি পরিসংখ্যানও মেলেনি। আঞ্জুমানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কোনো মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় না।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পরই মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইটিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৫৭টি অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া গেছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। এই হিসাব ভিন্ন সূত্রের ও ভিন্ন সংজ্ঞার। অজ্ঞাত মরদেহের একটি অংশ পরে শনাক্ত হয়, ফলে সব অজ্ঞাত মরদেহ বেওয়ারিশ হয় না। পুলিশ ও বিশ্লেষকদের বক্তব্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এত বিপুল সংখ্যক মরদেহ বেওয়ারিশ থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিতে পরিচয় শনাক্ত না হলে পুলিশ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেও চেষ্টা চালায়। অর্ধগলিত মরদেহের ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা
সংরক্ষণ করা হয়, কিন্তু মর্গে জায়গার সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন মরদেহ রাখা যায় না, ফলে শেষ পর্যন্ত দাফন করতে হয়। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কোনো মানুষই পরিচয়হীন নন এবং অজ্ঞাত মরদেহ বেশি পাওয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার ঘাটতির যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহ সংরক্ষণের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা এবং মর্গে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অপরাধের বিচার হচ্ছে না। তাঁরা মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্ত, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন। কবরস্থানের জায়গা-সংকট একসময় দাফনের জায়গা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক বেওয়ারিশ লাশ দীর্ঘদিন মর্গে পড়ে ছিল। জায়গা-সংক্রান্ত সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে
বলে জানিয়েছেন আঞ্জুমানের কামরুল আহমেদ।
হয়েছে। একটি মরদেহ সৎকার করা হয়েছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে। আগের বছরগুলোর তুলনা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১০৪টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বছরভিত্তিক চিত্র: সাল দাফন-সৎকারকৃত বেওয়ারিশ মরদেহ মাসিক গড় (আনুমানিক) ২০২৩ ৪৯০ ৪১ ২০২৪ ৫৭০ ৪৭–৪৮ ২০২৫ ৬৪৪ ৫৪ ২০২৬ (জানু–আগস্ট) ৪০০ ৫০ ২০২৩ সালে ৪৯০টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৫ সালে ৭৪টি বেড়ে ৬৪৪টি মরদেহ দাফন হয়েছিল। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বেড়েছে ৮০টি (প্রায় ১৬ শতাংশ), আর ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭৪টি (প্রায় ১৩ শতাংশ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৪৪ মাসে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৪৮টি। চলতি বছরের মাসিক গড় ৫০টি। এই ধারা বছরের বাকি চার মাসেও বজায়
থাকলে বছর শেষে মোট সংখ্যা ৬০০-এর কাছাকাছি হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে সামান্য কম। তবে এটি অনুমান মাত্র, মাসভেদে সংখ্যায় ওঠানামা রয়েছে। অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ এক নয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আঞ্জুমানের হিসাবকে রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া মোট অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা ধরা যাবে না। উদ্ধারের সময় পরিচয় জানা না থাকলে মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে পুলিশ পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষেও পরিচয় শনাক্ত না হলে সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো সরকারি পরিসংখ্যানও মেলেনি। আঞ্জুমানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কোনো মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় না।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পরই মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইটিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৫৭টি অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া গেছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। এই হিসাব ভিন্ন সূত্রের ও ভিন্ন সংজ্ঞার। অজ্ঞাত মরদেহের একটি অংশ পরে শনাক্ত হয়, ফলে সব অজ্ঞাত মরদেহ বেওয়ারিশ হয় না। পুলিশ ও বিশ্লেষকদের বক্তব্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এত বিপুল সংখ্যক মরদেহ বেওয়ারিশ থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিতে পরিচয় শনাক্ত না হলে পুলিশ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেও চেষ্টা চালায়। অর্ধগলিত মরদেহের ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা
সংরক্ষণ করা হয়, কিন্তু মর্গে জায়গার সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন মরদেহ রাখা যায় না, ফলে শেষ পর্যন্ত দাফন করতে হয়। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কোনো মানুষই পরিচয়হীন নন এবং অজ্ঞাত মরদেহ বেশি পাওয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার ঘাটতির যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহ সংরক্ষণের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা এবং মর্গে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অপরাধের বিচার হচ্ছে না। তাঁরা মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্ত, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন। কবরস্থানের জায়গা-সংকট একসময় দাফনের জায়গা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক বেওয়ারিশ লাশ দীর্ঘদিন মর্গে পড়ে ছিল। জায়গা-সংক্রান্ত সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে
বলে জানিয়েছেন আঞ্জুমানের কামরুল আহমেদ।



