ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরল
ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনারের চারপাশ ঘিরে শৌচাগার নির্মাণ
জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করুন
নিঃসঙ্গ এক সন্তের বিদায়
তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য
জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা
চরম দুর্ভোগে রাঙামাটি: বাঘাইছড়িতে পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ, ৬ দিনে ১০৪ পাহাড়ধস
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কিছুটা কমলেও রাঙামাটার বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় এখনো প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
একই সঙ্গে গত ছয় দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আজ ১০ই জুলাই, শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমলেও প্লাবিত এলাকার পানি উল্লেখযোগ্যভাবে নামেনি। বাঘাইছড়ির পাশাপাশি লংগদু, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার পরিস্থিতিতেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বন্যার পানি, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অচল থাকায় দুর্গত মানুষের
দুর্ভোগও কমেনি। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক আটকে নেই। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে পাহাড়ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানায়, পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তাদের কার্যক্রম
অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পুরো জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তদারকিও সরকারি ব্যবস্থাপনায় জোরদার করা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া এবং নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থানরত অনেক দুর্গত মানুষের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হলেও প্লাবিত এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকা অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের পাশাপাশি রাঙামাটির সংসদ সদস্য, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় সেই সহায়তা
এখনো পর্যাপ্ত নয়। দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার বাদ পড়বে না।” জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় দিনে রাঙামাটিতে মোট ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, লংগদুতে ৪টি, কাপ্তাইয়ে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে জেলার একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা আমানে মারজান বলেন, “ভারী বর্ষণ কমায় নতুন করে পানি না বাড়লেও বাঘাইছড়ির নিচু এলাকাগুলো এখনও প্লাবিত রয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পাহাড়ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ এবং খাদ্য ও ত্রাণসংকট মিলিয়ে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার
ও ত্রাণ কার্যক্রমও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “জেলার বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ যাতে নিরাপদ স্থানে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যান, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।”
দুর্ভোগও কমেনি। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক আটকে নেই। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে পাহাড়ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানায়, পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তাদের কার্যক্রম
অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পুরো জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তদারকিও সরকারি ব্যবস্থাপনায় জোরদার করা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া এবং নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থানরত অনেক দুর্গত মানুষের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হলেও প্লাবিত এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকা অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের পাশাপাশি রাঙামাটির সংসদ সদস্য, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় সেই সহায়তা
এখনো পর্যাপ্ত নয়। দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার বাদ পড়বে না।” জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় দিনে রাঙামাটিতে মোট ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, লংগদুতে ৪টি, কাপ্তাইয়ে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে জেলার একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা আমানে মারজান বলেন, “ভারী বর্ষণ কমায় নতুন করে পানি না বাড়লেও বাঘাইছড়ির নিচু এলাকাগুলো এখনও প্লাবিত রয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পাহাড়ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ এবং খাদ্য ও ত্রাণসংকট মিলিয়ে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার
ও ত্রাণ কার্যক্রমও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “জেলার বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ যাতে নিরাপদ স্থানে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যান, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।”



