সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ: পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বেড়েছে অর্থপাচার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ June, ২০২৬

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ: পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বেড়েছে অর্থপাচার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ June, ২০২৬ |
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গতকাল ১৮ই জুন প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর প্রচলন তেমন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে হিসাব করলে, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা

অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছরই (২০২৫ সাল) সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমার রেকর্ড। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকও বৈধ পথে দেশটির ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। এ ছাড়া বিশ্বের নানা দেশে সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোতে সেসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থও সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের দায় হিসেবে তাদের

আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এর অর্থ হলো, সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থই পাচার করা অর্থ নয়। এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছরে যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, “আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে— অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। আমার মতে, সুইস

ব্যাংক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অর্থ পাচার হয়।” মইনুল ইসলামের মতে, এখন দেখার বিষয় হলো— বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেয়। তা না হলে অর্থ পাচার থামবে না। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটা বিশেষ শ্রেণির হাতে বিপুল অর্থ কুক্ষিগত হয়। আওয়ামী লীগ সরকরের অনেক মন্ত্রী, সাংসদ, শীর্ষ নেতার ওপর মব চালিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানায় লুটপাট, কাউকে দেশ থেকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার নাম করে ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মিথ্যা মামলার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। সমন্বয়ক, ছাত্র নেতারা ইউনূস সরকারের আমলে

বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে রাতারাতি। মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাটের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে যে অরাজকতা চলেছে, তাতে জুলাই আন্দোলনন সম্পৃক্তদের একটা বৃহৎ অংশ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। পাচার হওয়া অর্থও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান-প্রদান করত না। অর্থ পাচার-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই

দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেষ ৬ মিনিটের রোমাঞ্চে রোমাকে হারিয়ে রিয়ালের নাটকীয় জয় ছয় গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিটিকে হারালো পিএসজি ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে হত্যার নেতৃত্বে ছিল জামায়াতের নেতাকর্মীরা, বাড়ি-হাসপাতালে দু’দফা মব হামলা বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার পণ্য আসছে বাংলাদেশে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ভিনিসিউস, টাইমিং নিয়ে ক্ষুব্ধ মরিনহো স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ: ৪০ দিন বাকি, সাধারণ পরিষদের রায়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ “তোমরা একা নও, এই দেশ তোমাদেরও”: দুর্গাপূজায় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার বার্তা; সম্প্রীতির ডাক পাকিস্তানে ট্রেনে নারী পর্যটকের মোজা-অন্তর্বাস শুঁকছে পুলিশ: “স্বাভাবিক কিনা?”, উঠেছে প্রশ্ন দিল্লি’তে হল্লাঃ আন্দোলনে অংশ নেয়ায় ইমরান খান-কে ভারত ছাড়ার নোটিশ; আজ প্রতীকী অনশন কর্মসূচি আম আদমি পার্টি’র সারকাণ্ডে কৃষকের পেটে লাথিঃ অবৈধ বিএনপি সিন্ডিকেটের নগ্ন স্বেচ্ছাচারের প্রমাণপত্র সারাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের অবাধ চলাফেরায় আপত্তি না থাকলেও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের চলাফেরায় উষ্মা বিপ্লবী পরিষদের নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফাঁদে বাংলাদেশ, সামনে দীর্ঘ সংকট অপেক্ষমান জ্বালানির ভর্তুকি কমানো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাপ দিচ্ছে আইএমএফ বাংলাদেশে মার্কিন পণ্যের দ্বার উন্মোচনে মেটা-ফেসবুকের শরণাপন্ন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসন; বাংলাদেশ দ্বার খুলতে যাবে কার কাছে? নেত্রকোনায় বাড়িতে একা পেয়ে ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পলাতক টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের মার্কিন চুক্তির খপ্পরে দেশের ওষুধশিল্প: ২০ টাকার ওষুধ হবে ৫০০, কাঁচামাল আমদানিতেও খড়গ মৌখিক তিরস্কার অপরাধ নয়, মব সৃষ্টি-প্রশ্রয় দিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণতা, রিসেট বাটন চেপে সব ধ্বংস করা অপরাধ: হ্যাঁ ইউনূস, আপনি অপরাধী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে চিকিৎসাধীন যুবককে গণধোলাই দিয়ে হত্যা