কিস্তি দিতে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ October, ২০২৬

কিস্তি দিতে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ October, ২০২৬ |
গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের বেশিরভাগের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেন এমন ঋণগ্রহীতার হার এক বছরে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র এক-পঞ্চমাংশ ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে এ হার ৭৯ শতাংশ। কিস্তি পরিশোধ ও জরুরি খরচ মেটাতে অনেক পরিবারকে আবার মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ঋণনির্ভরতা বাড়লেও কৃষিতে অর্থায়নের অংশ কমছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়ন : প্রমাণ ও নীতিসংলাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বক্তব্য দেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ)

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. একে এনামুল হক, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান প্রমুখ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ঋণ নেওয়া গ্রামীণ পরিবারের হার ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। অথচ মোট গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ পরিবারে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কৃষি খাতে ঋণের অংশ কমছে। গ্রামীণ ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসছে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া

পরিবারগুলোর মধ্যে একই সঙ্গে মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। এতে ঋণ পরিশোধের দায় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো আরও ব্যয়বহুল ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নকে শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ- পুরো ব্যবস্থায় অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করা জরুরি। পিকেএসএফের এমডি ফজলুল কাদের বলেন, খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন পর্যায়ে ঋণ দিলেই হবে না; সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপেও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমাতে

এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি ও কার্যকর অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা না গেলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন। এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতের অর্থায়ন ও সেবামূল্যের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তার উপস্থাপনায় বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ খাতের সঞ্চিত উদ্বৃত্ত ২০০৬ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ সেবামূল্য ২৪ শতাংশ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারলে অর্থায়নের খরচ

ও সেবামূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন। কৃষি সচিব সেলিম খান কৃষির যান্ত্রিকীকরণে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই শতাংশেরও কম কৃষক পরিবারের নিজস্ব ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার রয়েছে। কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থের মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ ব্যাংক থেকে আসে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে যন্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিস্তিতে যন্ত্র কিনতে হয়। কৃষিযন্ত্রের আয়ও মৌসুমনির্ভর। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এপ্রিল ও মে মাসে আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু মাসিক কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বছরের অন্য সময়ে অর্থসংকট তৈরি হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গবাদিপশু খাতেও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। দেশের কৃষি জিডিপির

৭ দশমিক ৬ শতাংশ আসে এ খাত থেকে এবং ৯০ শতাংশ গবাদিপশুর মালিক ক্ষুদ্র কৃষক। অথচ কৃষিঋণের ৫ শতাংশেরও কম এ খাতে যায়। গবেষণায় গরু মোটাতাজাকরণে ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ খাতে ঝুঁকি ভাগাভাগিভিত্তিক অর্থায়ন কৃষকের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে কি-না, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কর্মশালায় আলোচকরা মনে করেন, কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিস্তি, কৃষিযন্ত্র কেনায় সহজ অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ঋণ পরিশোধে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হলে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো ও উৎপাদনে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়। তাই শুধু ঋণের প্রবাহ বাড়ানো নয়,

ঋণের শর্ত ও অর্থায়নের কাঠামোও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাড়ের সুস্থতায় যাদুকরী ৫ খাবার পানামায় ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত দাবানল হয়ে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ জ্বালানি খাতে সহায়তা চায় বাংলাদেশ চুয়েটে ১৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ কয়েকজন, অসুস্থ একাধিক চকবাজার মার্কেটে আগুন: ৮ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, কাজ করছে ১০ ইউনিট রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, সৌদির আকাশ শূন্য কিস্তি দিতে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত মব সহিংসতায় তিন মাসে নিহত ৫৪, আহত ১৪৫ দুর্গাপূজায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি মোতায়েন থাকবে মাদক সেবনকালে ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৪ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযান, দেশীয় মদসহ নারী আটক নিউইয়র্কে ১২ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার শোক পালনের অধিকারও নাগরিক অধিকার, কোনোভাবেই বাধা দিতে পারে না রাষ্ট্র শামা ওবায়েদ: ভারতের চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় চাঁদপুরের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ৫ টন চাল কুমিল্লায় বেচে দিলেন ইউপি সচিব! জৈনপুরী দরবারকে ‘যৌনপুরী’ বলায় তোপের মুখে মাফ চাইলেন রাশেদ হাসনাত আবদুল্লাহ: তারেক রহমান সরকার চালাচ্ছেন না, সরকার হাইজ্যাক হয়ে গেছে ‘রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি কেনার খরচ দেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা’