ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
ফ্রিল্যান্সিং খাতে ৭.৫% কর: সম্ভাবনাময় একটি শিল্পকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন খাতে হঠাৎ করে ৭.৫ শতাংশ হারে কর কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। জুন মাসের আয় থেকেই এই কর কাটা শুরু হওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় এই সিদ্ধান্তকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে।
বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আসে ফ্রিল্যান্সিং থেকে
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং জনশক্তির দেশ হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার বার্ষিক ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। বাংলাদেশ
অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ফ্রিল্যান্সিং দেশের একটি বাংলাদেশ। ফ্রিল্যান্সাররা রেমিট্যান্স অর্জনে যে ভূমিকা রাখছেন, তা ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে আলোচনার বিষয় হয়েছে। ৬০ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার বার্ষিক ৫০ কোটি ডলার আয় করছেন বলে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছিল। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। হাসিনা সরকারের নীতি: কর মুক্ত রেখে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল পোশাক শিল্পের ওপর চাপ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ তৈরি করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল। বাজেটে বারবার এই খাতে ১০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব উঠলেও শেখ হাসিনা সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে করমুক্ত
রাখা হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান, ডেটা অ্যানালিটিক্স, আইটি ফ্রিল্যান্সিং এবং নির্দিষ্ট বিপিও-সংক্রান্ত সেবাসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম আয়কর আইনের আওতায় কর অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছিল। শেখ হাসিনার আহ্বান ছিল, “”চাকরি নয়, ফ্রিল্যান্সার হও” করমুক্ত এই পরিবেশে ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। লাখো তরুণ-তরুণী এই পেশায় যোগ দিয়ে একদিকে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছিলেন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছিলেন। ফ্রিল্যান্সিং খাতকে উৎসাহিত করতে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তিন মাসের মাথায় কর: ক্ষোভে ফুঁসছেন ফ্রিল্যান্সাররা ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যে রাজস্ব
ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার ছোট ছোট বিভিন্ন খাতে নতুন কর আরোপ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে জুন মাস থেকে ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের জুন মাসের আয় থেকে ৭.৫ শতাংশ কেটে রাখার নোটিশ পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যে পেশাকে এতদিন উৎসাহ দিয়ে বড় করা হয়েছে, হঠাৎ করে তার ওপর কর চাপানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ক্ষতি হবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিবিদ ও খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে সামান্য রাজস্ব আদায়ের আশায় দীর্ঘমেয়াদে একটি বিকাশমান খাতকে স্তিমিত করে দেওয়া হচ্ছে।
পেওনিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গড় বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ ডলার আয় করেছেন। এই সীমিত আয় থেকে ৭.৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়া নতুনদের এই পেশায় আসার উৎসাহ কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পোশাক খাতের ওপর মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিসহ নানামুখী চাপের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প উৎসের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন ফ্রিল্যান্সিং খাতে এই করারোপ কার্যত উল্টো পথে হাঁটার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দাবি: অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চলছে এবং সরকারের কাছে এই কর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি উঠছে। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট — বৈদেশিক মুদ্রা আনা একজন ফ্রিল্যান্সার দেশের
জন্য একজন প্রবাসী শ্রমিকের মতোই অবদান রাখছেন। তাঁকে নিরুৎসাহিত করা মানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকেই দুর্বল করা। সরকার যদি সত্যিই ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে আগ্রহী হয়, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে করের বোঝা থেকে মুক্ত রেখে আরও বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়াটাই হবে সঠিক নীতি — এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ফ্রিল্যান্সিং দেশের একটি বাংলাদেশ। ফ্রিল্যান্সাররা রেমিট্যান্স অর্জনে যে ভূমিকা রাখছেন, তা ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে আলোচনার বিষয় হয়েছে। ৬০ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার বার্ষিক ৫০ কোটি ডলার আয় করছেন বলে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছিল। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। হাসিনা সরকারের নীতি: কর মুক্ত রেখে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল পোশাক শিল্পের ওপর চাপ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ তৈরি করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল। বাজেটে বারবার এই খাতে ১০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব উঠলেও শেখ হাসিনা সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে করমুক্ত
রাখা হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান, ডেটা অ্যানালিটিক্স, আইটি ফ্রিল্যান্সিং এবং নির্দিষ্ট বিপিও-সংক্রান্ত সেবাসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম আয়কর আইনের আওতায় কর অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছিল। শেখ হাসিনার আহ্বান ছিল, “”চাকরি নয়, ফ্রিল্যান্সার হও” করমুক্ত এই পরিবেশে ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। লাখো তরুণ-তরুণী এই পেশায় যোগ দিয়ে একদিকে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছিলেন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছিলেন। ফ্রিল্যান্সিং খাতকে উৎসাহিত করতে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তিন মাসের মাথায় কর: ক্ষোভে ফুঁসছেন ফ্রিল্যান্সাররা ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যে রাজস্ব
ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার ছোট ছোট বিভিন্ন খাতে নতুন কর আরোপ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে জুন মাস থেকে ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের জুন মাসের আয় থেকে ৭.৫ শতাংশ কেটে রাখার নোটিশ পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যে পেশাকে এতদিন উৎসাহ দিয়ে বড় করা হয়েছে, হঠাৎ করে তার ওপর কর চাপানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ক্ষতি হবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিবিদ ও খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে সামান্য রাজস্ব আদায়ের আশায় দীর্ঘমেয়াদে একটি বিকাশমান খাতকে স্তিমিত করে দেওয়া হচ্ছে।
পেওনিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গড় বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ ডলার আয় করেছেন। এই সীমিত আয় থেকে ৭.৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়া নতুনদের এই পেশায় আসার উৎসাহ কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পোশাক খাতের ওপর মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিসহ নানামুখী চাপের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প উৎসের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন ফ্রিল্যান্সিং খাতে এই করারোপ কার্যত উল্টো পথে হাঁটার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দাবি: অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চলছে এবং সরকারের কাছে এই কর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি উঠছে। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট — বৈদেশিক মুদ্রা আনা একজন ফ্রিল্যান্সার দেশের
জন্য একজন প্রবাসী শ্রমিকের মতোই অবদান রাখছেন। তাঁকে নিরুৎসাহিত করা মানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকেই দুর্বল করা। সরকার যদি সত্যিই ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে আগ্রহী হয়, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে করের বোঝা থেকে মুক্ত রেখে আরও বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়াটাই হবে সঠিক নীতি — এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



