পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ মে, ২০২৬

পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ মে, ২০২৬ |
পিডিপিপিতে শুধু সুবিধা, নেই কোনো ঝুঁকির মূল্যায়ন পাউবো প্রণীত পিডিপিপিতে এই প্রকল্পের সপক্ষে কেবল একটিমাত্র যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে — পদ্মায় শুষ্ক মৌসুমের পানি ধরে রেখে তা দক্ষিণ-পশ্চিমের নদ-নদীতে প্রবাহিত করা যাবে। কিন্তু উজান ও ভাটি উভয় এলাকায় এই প্রকল্পের যে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে পিডিপিপিতে কোনো উল্লেখ বা আলোচনা নেই। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের প্রশ্ন — প্রকল্প প্রস্তুতকারীরা কি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন যে এই প্রকল্প বাংলাদেশের উপকারে আসবে? এবং যদি সমীক্ষা থেকেও থাকে, তাহলে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? প্রথম বিপদ: উজানে বন্যা ও পাড়ভাঙন ব্যারাজ নির্মিত হলে এর উজানে নদীতে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাবে। এর ফলে

প্রস্তাবিত স্থান পাংশা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার নদীর দুই তীরে বন্যা ও পাড়ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে। এই আশঙ্কার সপক্ষে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ভারতের ফারাক্কা বাঁধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ফারাক্কার কারণে উজানে বিহারের পাটনা পর্যন্ত গঙ্গার তলদেশ প্রায় ২০ ফুট উঁচু হয়ে গেছে এবং বন্যা ও পাড়ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতির মাত্রা এতটাই তীব্র যে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সেখানে প্রবল আন্দোলন গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিপদ: ভাটিতে লবণাক্ততার অগ্রাসন ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে যতটুকু পানি দক্ষিণ-পশ্চিমে সরানো হবে, দেশের মধ্যাঞ্চল ও মেঘনা মোহনার জন্য ঠিক ততটুকু পানিই কমে যাবে। এর প্রত্যক্ষ পরিণতি হবে আড়িয়াল

খাঁসহ অন্যান্য নদীর প্রবাহ হ্রাস এবং মেঘনা মোহনা দিয়ে লবণাক্ততা দেশের আরও ভেতরে প্রবেশ — যা কৃষি, পানীয় জল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। তৃতীয় বিপদ: ভারতের কাছে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা হারানোর ঝুঁকি সবচেয়ে কূটনৈতিকভাবে বিপজ্জনক দিকটি তুলে ধরেছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলছেন, পদ্মা ব্যারাজ চালু হলে ভারত দাবি করবে যে এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের পানি সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে — ফলে গঙ্গার হিস্যা বৃদ্ধির দাবিতে আর কোনো জোরালো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রকল্পের বিষয়ে ভারত নিজেই খুবই উৎসাহী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ভারত এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার সেই সময় এই পথে

পা দেয়নি। বড়াল নদের শিক্ষা: ব্যারাজ নয়, প্রতিবন্ধকতা সরানোই সমাধান বিশেষজ্ঞরা বিকল্প একটি পথের কথা বলছেন যার কার্যকারিতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। রাজশাহীর চারঘাটে ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের আমলে পাউবো নির্মিত স্লুইসগেটের কারণে বড়াল নদে গঙ্গার প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাপা ও বেনের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর গত বছর ওই স্লুইসগেট আংশিকভাবে উন্মোচন করা হলে প্রায় ৪০ বছর পর বড়ালে আবার গঙ্গার পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মতে, পাউবোর উচিত এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। আরও একটি বিশাল ও প্রশ্নবিদ্ধ কাঠামো নির্মাণের পেছনে না ছুটে, ইতিপূর্বে নির্মিত ক্ষতিকর কাঠামোগুলো অপসারণেই বরং মনোযোগ দেওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ সংগঠনের সুপারিশ বাপা ও বেন সরকারের কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট

সুপারিশ পেশ করেছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক নদ-নদীর ব্যবহারবিষয়ক জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে তার ভিত্তিতে ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহে বাংলাদেশের হিস্যা বৃদ্ধির জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো এবং আসন্ন গঙ্গা চুক্তি নবায়নে এই দাবির প্রতিফলন ঘটানো। দ্বিতীয়ত, গঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সব শাখা নদীর সংযোগ অবারিত করা এবং প্রবাহ বিঘ্নকারী সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা, যাতে গঙ্গার বর্ষাকালীন প্রবাহ এসব নদী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মতে, একদিকে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অন্যদিকে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বর্ষাকালীন প্রবাহের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা — এই দুই ধারায় অগ্রসর হওয়াই বাংলাদেশের নদীব্যবস্থার জন্য সত্যিকারের সমাধান। বস্তুনিষ্ঠ সমীক্ষা ছাড়া

৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য সঠিক হবে না বলে স্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রবাসীর স্ত্রীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র গুলিস্তান ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ লাশ: আনোয়ারায় গৃহবধূ ও জেলের রহস্যজনক মৃত্যু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ‘১০ ঘণ্টার অপেক্ষাও কিছু নয়’, খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল