ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
নীরবতাও অপরাধ: ইউনূসের অরাজকতা আর দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে নীরব থাকা আনু মুহাম্মদ গংও অপরাধী
আইনের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি আছে — যে অপরাধ করে এবং যে জেনেশুনে সেই অপরাধ হতে দেয়, উভয়েই সমান অপরাধী। নৈতিক দর্শনেও এই সত্য সমানভাবে স্বীকৃত। একজন মানুষ যখন চোখের সামনে রাষ্ট্র ধ্বংস হতে দেখেও নীরব থাকেন — বিশেষত যখন তার কণ্ঠস্বরের সামাজিক ওজন আছে — তখন সেই নীরবতা আর নিরীহ উদাসীনতা থাকে না। সেটি পরিণত হয় সক্রিয় সহযোগিতায়, অপরাধে অংশীদারিত্বে।
এই মানদণ্ডে বিচার করলে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং তার সমমনা বামপন্থী বুদ্ধিজীবীগোষ্ঠী ইউনূস সরকারের সৃষ্ট অরাজকতা, শিশু হত্যা, প্রজন্ম ধ্বংস এবং দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রের দায় থেকে কোনোভাবেই মুক্ত নন। বরং তারা এই সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞের নৈতিক অংশীদার এবং পরোক্ষ অপরাধী।
যা ঘটেছিল, তা
ইতিহাস ভুলবে না ইউনূস সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্র ভাঙনের নীলনকশা — যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে। শিশুর রক্তও লেগেছে এই সরকারের হাতে। হামের টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে ইউনূস সরকার তিনশোরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। এই শিশুগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল না। তারা ছিল নিষ্পাপ, অসহায়, রাষ্ট্রের সুরক্ষার উপর নির্ভরশীল। সেই সুরক্ষা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি অবহেলা নয় — এটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। মবের তাণ্ডবে শত শত কলকারখানায় হামলা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক রাতারাতি রাস্তায় নেমেছেন। হাজারো মানুষের প্রাণ গেছে। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে চুরমার
হয়েছে। শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো সময়জুড়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে — যা দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র বলেই অনেকে অভিহিত করছেন। এই দীর্ঘ ধ্বংসযজ্ঞের পুরো সময়টায় আনু মুহাম্মদ গং কোথায় ছিলেন? চুপ। সম্পূর্ণ চুপ। রহস্যজনকভাবে চুপ। একটি প্রজন্মকে সহিংস করে গড়া হয়েছে ইউনূস সরকারের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ হয়তো এটি নয় যা আমরা এখন দেখছি — বরং যা আগামী দশকে আমরা ভোগ করব। এই সরকার তরুণ ও যুবকদের সংগঠিত সহিংসতায় উৎসাহিত করেছে। মবকে তারা কেবল প্রশ্রয়ই দেয়নি — সরকারের চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে প্রেশারগ্রুপের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে
মবকে বৈধতা দিয়েছে। স্কুল-কলেজের কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীরা যখন দলবদ্ধ হয়ে শিক্ষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, শিক্ষকদের হেনস্তা করেছে, অপমান করেছে, চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করেছে — তখন রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে বসে থেকেছে। কোথাও কোথাও সেই মবকে পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও দেওয়া হয়েছে। এর পরিণতি কী? একটি গোটা প্রজন্ম শিখেছে — আলোচনায় নয়, যুক্তিতে নয়, সংঘবদ্ধ সহিংসতায় সমস্যার সমাধান হয়। তারা শিখেছে, শিক্ষক সম্মানের পাত্র নয় — ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়ালে শিক্ষককেও মাটিতে নামানো যায়। হাজার হাজার শিক্ষক যখন ছাত্রদের হাতে অপমানিত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা চিরতরে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। এই যে সহিংস মানসিকতার বীজ একটি প্রজন্মের ভেতর বপন করা হয়েছে — এর ফসল বাংলাদেশ
কাটবে আগামী বিশ থেকে ত্রিশ বছর ধরে। এটি কেবল রাজনৈতিক অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ হত্যার অপরাধ। নীরবতা যেভাবে অপরাধে পরিণত হয় আনু মুহাম্মদ বাংলাদেশের একজন বহুল পরিচিত বুদ্ধিজীবী। শ্রমিক অধিকার, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের নামে তিনি দশকের পর দশক ধরে জনমানসে একটি বিশেষ নৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। তার কণ্ঠস্বরের প্রভাব আছে, অনুসরণকারী আছে, মিডিয়া কভারেজ আছে। ঠিক এই কারণেই তার নীরবতা একজন সাধারণ মানুষের নীরবতার চেয়ে অনেক বেশি ভারী এবং অনেক বেশি অপরাধমূলক। যখন হামের টিকা বন্ধ হয়ে তিনশোর বেশি শিশু মারা যাচ্ছিল — একজন মানবতাবাদী হিসেবে তার চিৎকার করার কথা ছিল। যখন মবের হামলায় শ্রমিকের কারখানা পুড়ছিল — একজন শ্রমিক-অধিকারকর্মী
হিসেবে তার রাজপথে নামার কথা ছিল। যখন স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল — একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তার প্রতিরোধ করার কথা ছিল। যখন তরুণ প্রজন্মকে সহিংসতার হাতিয়ার বানানো হচ্ছিল — একজন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা ছিল। যখন দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী চুক্তি হচ্ছিল — একজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার গর্জে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তিনি করেননি। এই না-করাটাই তাকে অপরাধী করে তোলে। কারণ তার নীরবতা জনমনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে — “যা হচ্ছে তা হয়তো ঠিকই আছে।” এই নীরব সম্মতি ইউনূস সরকারকে আরও নির্ভয়ে, আরও নির্লজ্জভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও সুযোগ দুটোই করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য যখন দিনের আলোর
মতো স্পষ্ট শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আনু মুহাম্মদ বিএনপি সরকারের মাত্র আড়াই মাসের কার্যক্রম নিয়ে যে তীব্র সমালোচনায় মুখর হলেন, তা তার আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ — বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে। অথচ ইউনূস সরকারের আমলে অনুরূপ এবং আরও গুরুতর মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির সময় তিনি একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। শিশু মৃত্যুর সময় কথা বলেননি। শিক্ষক লাঞ্ছনার সময় কলম ধরেননি। তরুণ প্রজন্মকে সহিংস করে গড়ার সময় প্রতিবাদ করেননি। এই স্ববিরোধিতা আকস্মিক নয়, এটি কোনো বিস্মৃতিও নয়। এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক অবস্থান। তার সমালোচনার লক্ষ্য কখনো রাষ্ট্রের কল্যাণ ছিল না — লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে ঘায়েল করা। ইউনূস সরকার তার পছন্দের ছিল বলেই সেই সরকারের ভয়াবহ অপরাধ তার চোখে পড়েনি। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক সততা নয়। এটি রাজনৈতিক ভাড়াটেপনা। এটি নৈতিক দেউলিয়াত্ব। দায়মুক্তির কোনো পথ নেই যারা দেশ ধ্বংস করেছে তারা প্রত্যক্ষ অপরাধী। যারা শিশু হত্যার নীতি নিয়েছে তারা প্রত্যক্ষ খুনি। যারা একটি প্রজন্মকে সহিংস করে গড়েছে তারা জাতির ভবিষ্যৎ হত্যাকারী। যারা শিক্ষকদের লাঞ্ছনা হতে দিয়েছে তারা শিক্ষার কবর রচনাকারী। আর যারা এই সবকিছু জেনেশুনে, সচেতনভাবে হতে দিয়েছেন — তারা প্রতিটি অপরাধে সমান অংশীদার। আনু মুহাম্মদ ও তার গোষ্ঠীর নীরবতা কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত — যার মূল্য দিয়েছে তিনশোর বেশি নিষ্পাপ শিশু, লক্ষ লক্ষ বেকার শ্রমিক, হাজারো অপমানিত শিক্ষক এবং একটি বিপথগামী প্রজন্ম। আদালতের কাঠগড়ায় না হলেও, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আনু মুহাম্মদ গংকে এই প্রতিটি অপরাধের জবাব একদিন অবশ্যই দিতে হবে। জনগণের প্রশ্ন এখন কেবল একটাই যে মা তার শিশুকে হামে হারিয়েছেন অথচ টিকা পাননি, যে শ্রমিক কারখানা হারিয়ে পথে বসেছেন, যে শিক্ষক ছাত্রের হাতে অপমানিত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, যে তরুণ সহিংসতার পথে পা দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন — তারা সকলে আজ একটাই প্রশ্ন করছেন: “আপনারা কোথায় ছিলেন যখন আমাদের সর্বনাশ হচ্ছিল? আপনাদের এই নীরবতার মূল্য আমরা কেন জীবন দিয়ে, সন্তান দিয়ে, সম্মান দিয়ে চুকাব?” এই প্রশ্নের কোনো সৎ উত্তর আনু মুহাম্মদ গংয়ের কাছে নেই। আর যার কাছে সৎ উত্তর নেই — ইতিহাস তাকে কখনো নির্দোষ বলে না।
ইতিহাস ভুলবে না ইউনূস সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্র ভাঙনের নীলনকশা — যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে। শিশুর রক্তও লেগেছে এই সরকারের হাতে। হামের টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে ইউনূস সরকার তিনশোরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। এই শিশুগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল না। তারা ছিল নিষ্পাপ, অসহায়, রাষ্ট্রের সুরক্ষার উপর নির্ভরশীল। সেই সুরক্ষা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি অবহেলা নয় — এটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। মবের তাণ্ডবে শত শত কলকারখানায় হামলা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক রাতারাতি রাস্তায় নেমেছেন। হাজারো মানুষের প্রাণ গেছে। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে চুরমার
হয়েছে। শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো সময়জুড়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে — যা দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র বলেই অনেকে অভিহিত করছেন। এই দীর্ঘ ধ্বংসযজ্ঞের পুরো সময়টায় আনু মুহাম্মদ গং কোথায় ছিলেন? চুপ। সম্পূর্ণ চুপ। রহস্যজনকভাবে চুপ। একটি প্রজন্মকে সহিংস করে গড়া হয়েছে ইউনূস সরকারের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ হয়তো এটি নয় যা আমরা এখন দেখছি — বরং যা আগামী দশকে আমরা ভোগ করব। এই সরকার তরুণ ও যুবকদের সংগঠিত সহিংসতায় উৎসাহিত করেছে। মবকে তারা কেবল প্রশ্রয়ই দেয়নি — সরকারের চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে প্রেশারগ্রুপের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে
মবকে বৈধতা দিয়েছে। স্কুল-কলেজের কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীরা যখন দলবদ্ধ হয়ে শিক্ষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, শিক্ষকদের হেনস্তা করেছে, অপমান করেছে, চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করেছে — তখন রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে বসে থেকেছে। কোথাও কোথাও সেই মবকে পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও দেওয়া হয়েছে। এর পরিণতি কী? একটি গোটা প্রজন্ম শিখেছে — আলোচনায় নয়, যুক্তিতে নয়, সংঘবদ্ধ সহিংসতায় সমস্যার সমাধান হয়। তারা শিখেছে, শিক্ষক সম্মানের পাত্র নয় — ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়ালে শিক্ষককেও মাটিতে নামানো যায়। হাজার হাজার শিক্ষক যখন ছাত্রদের হাতে অপমানিত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা চিরতরে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। এই যে সহিংস মানসিকতার বীজ একটি প্রজন্মের ভেতর বপন করা হয়েছে — এর ফসল বাংলাদেশ
কাটবে আগামী বিশ থেকে ত্রিশ বছর ধরে। এটি কেবল রাজনৈতিক অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ হত্যার অপরাধ। নীরবতা যেভাবে অপরাধে পরিণত হয় আনু মুহাম্মদ বাংলাদেশের একজন বহুল পরিচিত বুদ্ধিজীবী। শ্রমিক অধিকার, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের নামে তিনি দশকের পর দশক ধরে জনমানসে একটি বিশেষ নৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। তার কণ্ঠস্বরের প্রভাব আছে, অনুসরণকারী আছে, মিডিয়া কভারেজ আছে। ঠিক এই কারণেই তার নীরবতা একজন সাধারণ মানুষের নীরবতার চেয়ে অনেক বেশি ভারী এবং অনেক বেশি অপরাধমূলক। যখন হামের টিকা বন্ধ হয়ে তিনশোর বেশি শিশু মারা যাচ্ছিল — একজন মানবতাবাদী হিসেবে তার চিৎকার করার কথা ছিল। যখন মবের হামলায় শ্রমিকের কারখানা পুড়ছিল — একজন শ্রমিক-অধিকারকর্মী
হিসেবে তার রাজপথে নামার কথা ছিল। যখন স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল — একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তার প্রতিরোধ করার কথা ছিল। যখন তরুণ প্রজন্মকে সহিংসতার হাতিয়ার বানানো হচ্ছিল — একজন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা ছিল। যখন দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী চুক্তি হচ্ছিল — একজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার গর্জে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তিনি করেননি। এই না-করাটাই তাকে অপরাধী করে তোলে। কারণ তার নীরবতা জনমনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে — “যা হচ্ছে তা হয়তো ঠিকই আছে।” এই নীরব সম্মতি ইউনূস সরকারকে আরও নির্ভয়ে, আরও নির্লজ্জভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও সুযোগ দুটোই করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য যখন দিনের আলোর
মতো স্পষ্ট শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আনু মুহাম্মদ বিএনপি সরকারের মাত্র আড়াই মাসের কার্যক্রম নিয়ে যে তীব্র সমালোচনায় মুখর হলেন, তা তার আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ — বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে। অথচ ইউনূস সরকারের আমলে অনুরূপ এবং আরও গুরুতর মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির সময় তিনি একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। শিশু মৃত্যুর সময় কথা বলেননি। শিক্ষক লাঞ্ছনার সময় কলম ধরেননি। তরুণ প্রজন্মকে সহিংস করে গড়ার সময় প্রতিবাদ করেননি। এই স্ববিরোধিতা আকস্মিক নয়, এটি কোনো বিস্মৃতিও নয়। এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক অবস্থান। তার সমালোচনার লক্ষ্য কখনো রাষ্ট্রের কল্যাণ ছিল না — লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে ঘায়েল করা। ইউনূস সরকার তার পছন্দের ছিল বলেই সেই সরকারের ভয়াবহ অপরাধ তার চোখে পড়েনি। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক সততা নয়। এটি রাজনৈতিক ভাড়াটেপনা। এটি নৈতিক দেউলিয়াত্ব। দায়মুক্তির কোনো পথ নেই যারা দেশ ধ্বংস করেছে তারা প্রত্যক্ষ অপরাধী। যারা শিশু হত্যার নীতি নিয়েছে তারা প্রত্যক্ষ খুনি। যারা একটি প্রজন্মকে সহিংস করে গড়েছে তারা জাতির ভবিষ্যৎ হত্যাকারী। যারা শিক্ষকদের লাঞ্ছনা হতে দিয়েছে তারা শিক্ষার কবর রচনাকারী। আর যারা এই সবকিছু জেনেশুনে, সচেতনভাবে হতে দিয়েছেন — তারা প্রতিটি অপরাধে সমান অংশীদার। আনু মুহাম্মদ ও তার গোষ্ঠীর নীরবতা কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত — যার মূল্য দিয়েছে তিনশোর বেশি নিষ্পাপ শিশু, লক্ষ লক্ষ বেকার শ্রমিক, হাজারো অপমানিত শিক্ষক এবং একটি বিপথগামী প্রজন্ম। আদালতের কাঠগড়ায় না হলেও, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আনু মুহাম্মদ গংকে এই প্রতিটি অপরাধের জবাব একদিন অবশ্যই দিতে হবে। জনগণের প্রশ্ন এখন কেবল একটাই যে মা তার শিশুকে হামে হারিয়েছেন অথচ টিকা পাননি, যে শ্রমিক কারখানা হারিয়ে পথে বসেছেন, যে শিক্ষক ছাত্রের হাতে অপমানিত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, যে তরুণ সহিংসতার পথে পা দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন — তারা সকলে আজ একটাই প্রশ্ন করছেন: “আপনারা কোথায় ছিলেন যখন আমাদের সর্বনাশ হচ্ছিল? আপনাদের এই নীরবতার মূল্য আমরা কেন জীবন দিয়ে, সন্তান দিয়ে, সম্মান দিয়ে চুকাব?” এই প্রশ্নের কোনো সৎ উত্তর আনু মুহাম্মদ গংয়ের কাছে নেই। আর যার কাছে সৎ উত্তর নেই — ইতিহাস তাকে কখনো নির্দোষ বলে না।



