চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ মার্চ, ২০২৬ |
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন কৌশলগত কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার প্রধান লক্ষ্য। ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় নারকীয় তাণ্ডব শুরুর সমান্তরালে চট্টগ্রামেও নেমে আসে যমদূত। তবে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও বাঙালি সামরিক সদস্যরা কেবল মরেনি, তারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছিল এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। মার্চের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা ‘এমভি সোয়াত’ জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ২৬শে মার্চ সকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জাহাজ থেকে ভারী অস্ত্র নামাতে গেলে বীর বাঙালি শ্রমিক ও সাধারণ জনতা ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। ক্ষিপ্ত পাকিস্তানি সেনারা ব্রাশফায়ার শুরু করলে কয়েকশ নিরস্ত্র বাঙালি শ্রমিকের

রক্তে রঞ্জিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা। তাদের মরদেহগুলো ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এবং খুলশী এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা এক ভয়াবহ নরমেধ যজ্ঞ চালায়। বিশেষ করে রেলওয়ে কলোনিতে বসবাসরত বাঙালি পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে চলে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। নারী- শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে শত শত মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করা হয়। আজও সেই মাটি খুঁড়লে পাওয়া যায় একাত্তরের সেই বিভীষিকার কঙ্কাল। ঢাকার বাইরে প্রথম সুসংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে চট্টগ্রামে। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়ার নেতৃত্বে বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দখল করে

স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়, যা সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয় বাঙালির মুক্তির বার্তা। পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েও কয়েকদিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এক পর্যায়ে তারা ভারী আর্টিলারি ও নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে শেলিং শুরু করলে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শহরের প্রতিটি অলিগলি দখলে নিতে পাকিস্তানি সেনারা ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে যুবকদের ধরে নিয়ে যেতে শুরু করে। আন্দরকিল্লা, চকবাজার এবং লালদীঘি এলাকায় শত শত দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকাগুলোকে টর্চার সেলে রূপান্তর করা হয়, যেখানে নিয়ে যাওয়া বাঙালিদের আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী লড়াই প্রমাণ করেছিল যে, কামানের গোলা দিয়ে একটি জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে গুঁড়িয়ে

দেওয়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রামের মাটি থেকে শুরু হওয়া সেই বিদ্রোহই পরবর্তীতে পুরো ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে বাঙালির সাহস জোগিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাকরি বাঁচাতে নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: তোপ দাগলেন ড. মোমেন প্রিজন ভ্যান থেকে সাবেক এমপি তুহিনের আকুতি: ‘অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, ন্যায়বিচার চাই’ বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ইফতার বিতরণ: শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যাবর্তনে দোয়া কামনা বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অদম্য প্রতিরোধের মুখে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াহিয়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায় সংস্কারের মুখোশে দমন: ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই যখন নিরাপদ না, তখন সাধারণ মানুষের কথা কে ভাববে? জ্বালানি সংকটে ভরসা রূপপুর: শেখ হাসিনার মেগা প্রজেক্টেই স্বস্তিতে দেশ শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ: শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ইনসাফের দোকানে ভেজাল মাল: নিমের মাজনে নিম নেই, জামায়াতের ইসলামে ইসলাম নেই পাঠ্যবই দুর্নীতি : ইউনুসের সংস্কার, সিন্ডিকেটের উৎসব জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন উত্তাল মার্চের স্মৃতিতে শিব্বীর আহমেদের পাঁচটি দেশাত্মবোধক গান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন