আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:২৯ অপরাহ্ণ

আরও খবর

গ্রাম থেকে শহর আজ সংখ্যালঘুদের ভোট দিতে বলা হচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে হাজির করানো হচ্ছে

দখলদার ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বাংলাদেশ কার্যত এক শূন্য নিরাপত্তার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সার্বভৌমত্বের সংকটে যখন র‍্যাবকে পালিয়ে আসতে হয় : যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মাফিয়া বেশি ক্ষমতাবান, সেখানে সংস্কারের গল্প শোনান ইউনুস

মরে গেলে সবাই আফসোস করে, কিন্তু বেঁচে থাকতে কেউ দেখে না”: চার মাস ধরে জেলবন্দি স্বামীর চিন্তায় ও অনাহারে এক স্ত্রীর হাহাকার

আবেদন করা হয়নি’ বলে অপপ্রচার

আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তাই নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন’: মেজর হাফিজ

কারাগারে নেতা, কবরে স্ত্রী–সন্তান ভোটের জন্য আদর্শ বিসর্জন

আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:২৯ 9 ভিউ
আদালতের নথিতে তিনি ‘জামিনপ্রাপ্ত’, কিন্তু বাস্তবতায় তিনি এখন ‘লাশ’। গত এক সপ্তাহে মেহেরপুরের রাজনীতির মাঠে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে নাটকীয়তা আর নিষ্ঠুরতার প্রদর্শনী চলেছে, তার চূড়ান্ত যবনিকা পতন হলো একটি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা (৬০) আর নেই। গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টায় খুলনা কয়েদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেবল ‘হৃদরোগ’ বা ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে মেনে নিতে নারাজ তার পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এটি স্পষ্টত ‘পরিকল্পিত অবহেলা ও কাঠামোগত হত্যা’। জামিন যখন মৃত্যুফাঁদ: জেলগেটের ‘কালো আইন’ অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম মোস্তফা গত সপ্তাহেই

আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ায় তার বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে জেলগেট থেকে তাকে আবারও নাশকতার ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনজীবীদের মতে, একজন অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিকে জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বর্তমানে বিরোধী মত দমনের একটি ‘মোক্ষম হাতিয়ার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৬০ বছর বয়সী একজন অসুস্থ মানুষ, যিনি জেল থেকে বের হওয়ার শক্তিটুকুও পাচ্ছিলেন না, তাকে ‘অগ্নিসন্ত্রাসী’ সাজিয়ে পুনরায় আটক করা কি শুধুই পুলিশি তৎপরতা, নাকি তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ওপর মহলের নির্দেশ? চিকিৎসা নাকি কালক্ষেপণ? রহস্যজনক ২১ ঘণ্টা গোলাম মোস্তফার অসুস্থতা ও মৃত্যুর সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার

চিত্র ফুটে ওঠে: ২৩ জানুয়ারি: মেহেরপুর জেলা কারাগারে তিনি তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন। প্রথমে তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবনতি ও স্থানান্তর: চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে খুলনায় রেফার করেন। মেহেরপুর থেকে খুলনার দীর্ঘ পথ একজন মুমূর্ষু হৃদরোগীর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি, রাত ১১টা: খুলনা কয়েদী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ২৫ জানুয়ারি, ভোররাত: পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। প্রশ্ন উঠছে, ২৪ তারিখ রাতে মারা যাওয়ার পর পরিবারকে জানাতে কেন ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো? এই দীর্ঘ সময় কি মৃত্যুর কারণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল? নাকি লাশের সুরতহাল নিয়ে কোনো জটিলতা ছিল? কারা কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা

সন্দেহের দানা বাঁধছে। ২০০ লাশের মিছিল ও ভয়ের সংস্কৃতি গোলাম মোস্তফার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সারাদেশে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী কারাগারে মারা গেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া, মানসিক নির্যাতন এবং জামিন অযোগ্য মামলা দিয়ে আটক রাখা—এগুলো ‘কাস্টোডিয়াল টর্চার’ বা হেফাজতে নির্যাতনের শামিল। গোলাম মোস্তফা সেই দীর্ঘ তালিকার সর্বশেষ শিকার। রাষ্ট্র কি তবে কারাগারগুলোকে ‘সংশোধনাগার’ থেকে ‘মৃত্যুপুরীতে’ রূপান্তর করেছে? পারিবারিক আর্তনাদ ও মহাজনপুরবাসীর ক্ষোভ শনিবার বিকেলে মহাজনপুরে যখন গোলাম মোস্তফার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন পুরো এলাকায় শোকের চেয়ে ক্ষোভের আগুন ছিল বেশি। নিহতের পিতা ছয়তুল্লাহ মন্ডলসহ স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের

পক্ষ থেকে বারবার একটি প্রশ্নই ফিরে আসছে: “এখন কি মোস্তফা ভাই জামিন পাবেন? নাকি এখনো সন্দেহ আছে মৃত মানুষ জীবিত হয়ে কোন অগ্নিসন্ত্রাস করবে?” রাষ্ট্রের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। আছে কেবল ক্ষমতার দম্ভ আর বিরোধী দমনের নিষ্ঠুর কৌশল। উপসংহার গোলাম মোস্তফার মৃত্যু আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নাগরিক অধিকার আজ কতটা বিপন্ন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একজন নাগরিককে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। এই মৃত্যুর দায় কি শুধুই কারা কর্তৃপক্ষের, নাকি সেই রাজনৈতিক প্রভুদের—যারা পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভিন্নমতকে কবরে পাঠাতে বদ্ধপরিকর? মহাজনপুরবাসীর দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যদিও তারা জানেন, বিচারহীনতার

এই সংস্কৃতিতে লাশের সংখ্যা বাড়লেও বিচারের বাণী নিভৃতেই কাঁদবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্রাম থেকে শহর আজ সংখ্যালঘুদের ভোট দিতে বলা হচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে হাজির করানো হচ্ছে দখলদার ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বাংলাদেশ কার্যত এক শূন্য নিরাপত্তার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সার্বভৌমত্বের সংকটে যখন র‍্যাবকে পালিয়ে আসতে হয় : যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মাফিয়া বেশি ক্ষমতাবান, সেখানে সংস্কারের গল্প শোনান ইউনুস *ঢাকা বিমানবন্দরে চীনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী–পর্যটকদের ন্যক্কারজনক হয়রানি* মরে গেলে সবাই আফসোস করে, কিন্তু বেঁচে থাকতে কেউ দেখে না”: চার মাস ধরে জেলবন্দি স্বামীর চিন্তায় ও অনাহারে এক স্ত্রীর হাহাকার আবেদন করা হয়নি’ বলে অপপ্রচার আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তাই নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন’: মেজর হাফিজ কারাগারে নেতা, কবরে স্ত্রী–সন্তান ভোটের জন্য আদর্শ বিসর্জন ইউনুসের অপশাসনে দেশ, আইনের শাসনের বদলে মববাজির রাজত্ব আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্র নয়, ‘কর্তৃত্ববাদ’: দ্য প্রিন্টকে হাসিনা সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন অবৈধ—ভোটের নামে প্রহসন চলবে না অবৈধ জামাতি ইউনুস–আসিফ নজরুলের দায়িত্বহীনতা ডুবাচ্ছে দেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশের চলমান সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত ৫ -দফা নিপীড়িত পরিবারগুলোর কান্নাই আমাদের শপথ: অপশাসন উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে বাগেরহাটে হৃদয়বিদারক ঘটনা: ফ্যানে ঝুলছিল মা, মেঝেতে পড়ে ছিল শিশুসন্তান মিয়ানমার-বাংলাদেশ সংঘাতের দিকে, ইউনুস সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে নিখোঁজ ছাত্রলীগকর্মীর হাত পা বাঁধা লাশ মিলল ট্যাংকে ছোটখাটো মামলা, কেন ছাড়ল না? আমার… আপনারা কেমন? সে তো খুনি না, সে তো খুনি না