ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর

বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত!

আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব!

স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশের রাজনীতি কি আবারও এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জনগণের রায় নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত স্বার্থই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? ওয়াশিংটন পোস্টের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন—বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামিকে তারা “বন্ধু” হিসেবে দেখতে চান। প্রশ্ন হলো: কেন? এবং এর মূল্য কে দেবে? এই বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক মন্তব্য নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক নীতির প্রতিধ্বনি—‘ম্যানেজেবল ইসলাম’। অর্থাৎ, এমন ইসলামপন্থী শক্তি, যারা ভোটে জিততে পারে, রাস্তায় প্রভাব রাখে, কিন্তু প্রয়োজনে যাদের অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা

তৈরি হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই নতুন ‘পাওয়ার ব্রোকার’ খুঁজছে। গণতন্ত্র নয়, মানবাধিকার নয়—প্রথম বিবেচনায় আছে স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব। আর সেই হিসাবেই জামায়াতে ইসলামি এখন ওয়াশিংটনের আলোচনার টেবিলে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই কূটনৈতিক আলাপে বাংলাদেশের জনগণ নেই, সংসদ নেই, এমনকি নির্বাচিত সরকারও নেই। আছে শুধু “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক”—এই উপনিবেশিক সুরের বক্তব্য। বন্ধুত্ব কিসের বিনিময়ে? নীতির? সার্বভৌমত্বের? না কি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর অদৃশ্য ভেটোর? মার্কিন কূটনীতিক দাবি করেছেন, জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে না—কারণ প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাবে, পোশাক শিল্প বন্ধ করে দেবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ৪০ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ‘লিভারেজ’। এটি কি বন্ধুত্ব, না

কি অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল? আরেকটি ভয়ংকর ইঙ্গিত এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে। ভারত বহু বছর ধরেই জামায়াতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক যখন নিজেই টালমাটাল, তখন ওয়াশিংটন স্পষ্টতই দিল্লির উদ্বেগ উপেক্ষা করতেও প্রস্তুত। ফলে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে মার্কিন-ভারত কৌশলগত দূরত্বের একটি পরীক্ষামঞ্চে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান প্রশ্নাতীত নয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো পর্দার আড়ালে কার সঙ্গে কথা বলছে, কাকে গ্রহণযোগ্য ভাবছে—সেই তালিকা কি জনগণের সামনে পরিষ্কার? নাকি আবারও আমরা দেখব, নির্বাচন হবে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে বিদেশি দূতাবাসের বৈঠকখানায়? জামায়াত নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী, সুশাসনের দল হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু ইতিহাস কি

এত সহজে মুছে যায়? ১৯৭১, যুদ্ধাপরাধ, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু প্রশ্ন—এসব কি শুধুই “ইমেজ সফটেনিং”-এর আড়ালে চাপা দেওয়া যাবে? নাকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বদলে এসব প্রশ্নকে অস্বস্তিকর বলে এড়িয়ে যাওয়া হবে? বিএনপির ভূমিকাও এখানে ধোঁয়াশাপূর্ণ। একদিকে তারা জামায়াতকে জোটে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্ক বলছে—জামায়াতের শক্ত অবস্থান উপেক্ষা করা সহজ হবে না। ফলে একটি নীতিহীন সমঝোতার রাজনীতি ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট—বাংলাদেশের নির্বাচন এখন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, এমনকি চীনের কৌশলগত দৃষ্টি-কেন্দ্র। এই খেলায় সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ ভোটার, শ্রমিক, সংখ্যালঘু এবং নারীসমাজ। প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি আবারও এমন এক ব্যবস্থায় ঢুকছে, যেখানে জনগণ

শুধু ভোট দেবে, কিন্তু ক্ষমতার রিমোট থাকবে বিদেশে? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আজ না খোঁজা হয়, তাহলে কাল হয়তো উত্তর দেওয়ার সুযোগও থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জামায়াতের নির্বাচনী আইকন নিউইয়র্ক মেয়র মামদানির অফিসে এলজিবিটি দপ্তর: বিতর্ক চরমে ইরানের মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব! স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক আচরণবিধি ভাঙায় পাকিস্তানের আঘা সালমানকে আইসিসির তিরস্কার ও ডিমেরিট বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?