‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’: জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ সাম্রাজ্য ও র‍্যাব কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে বুলবুলপুত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত: ইহুদি-খ্রিস্টান বিদ্বেষ প্রসারে আজহারির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারে ১৪২ কোটি টাকার অবৈধ ব্যয়: ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি নোটিশ

লাইসেন্স নবায়ন নামঞ্জুর, তবুও বিটিআরসির ছত্রছায়ায় চুটিয়ে চলছে মেট্রোনেটের ব্যবসা!

আবারও ভুয়া শহীদ ও ভুয়া জুলাইযোদ্ধার নাম তালিকায়, ব্যাপক ঘাপলা-অনিয়মের সন্ধান

ইউনূসের স্বাক্ষরিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিঃ অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম ছাড়, অথচ সবচেয়ে বেশী শর্ত

ট্টগ্রামে বার নির্বাচন: আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বাধাদান: জেএমবিএফ-এর নিন্দা, জাতিসংঘ-ইইউর হস্তক্ষেপ দাবি

‘এই কাঁদুনেরা ফ্যাসিস্ট জামানায় নির্যাতনে উৎসাহ জোগাত’

‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’: জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ সাম্রাজ্য ও র‍্যাব কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর। পাহাড়ঘেরা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’ বা ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ হিসেবে পরিচিত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে র‍্যাব-৭ এর অভিযানে যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা অপরাধ সাম্রাজ্যের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এই হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যু প্রশাসনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অনুসন্ধানে জানা যায়, র‍্যাবের ওপর এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র বলছে, র‍্যাবের সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি আলীনগর এলাকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই সন্ত্রাসীরা তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সচল করে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’

বলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৪-৫শ লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এটি ছিল মূলত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোণঠাসা করার একটি পুরনো কৌশল, যা জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা আগেও ব্যবহার করেছে। কে এই ইয়াছিন ও রোকন মেম্বার? হামলার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘ইয়াছিন মিয়া’ ও তার সহযোগী ‘রোকন মেম্বার’-এর নাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড় দখল, অবৈধ প্লট বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করে কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই চক্র। রোকন ও ইয়াছিন সিন্ডিকেট: এদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক মামলা

রয়েছে। সহযোগী: এই সিন্ডিকেটের অন্যতম ক্যাডাররা হলো—কালা ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, কাজী মশিউর এবং গাজী সাদেক। এরা পাহাড়ের বিভিন্ন টিলা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অস্ত্র মজুদ রাখে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে বা প্রভাবশালী হয়, তারা সেই দলের ব্যানার ব্যবহার করে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি রাতারাতি নিজেদের ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলার দিন ওই এলাকায় বিএনপির একটি কথিত কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। মূলত রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রশাসনের অভিযান থেকে বাঁচতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, এদের সাথে দলের

কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই, এরা মূলত সুবিধাভোগী দুর্বৃত্ত। জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম। সরু রাস্তা, উঁচু-নিচু পাহাড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ অবৈধ বস্তি সন্ত্রাসীদের পালানোর জন্য আদর্শ জায়গা। অবৈধ কানেকশন: এই এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই হাজার হাজার ঘরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ থাকে সিন্ডিকেটের হাতে। গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি: র‍্যাবের মতো এলিট ফোর্সের ওপর এত বড় হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৪-৫শ লোক জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকলে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো যেত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে ইয়াছিন ভাই বা রোকন মেম্বারের কথার বাইরে গাছও নড়ে না। তারা পাহাড়

কেটে প্লট বিক্রি করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয় বা গুম করা হয়। র‍্যাব আসাতে আমরা খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু তারা এতটাই বেপরোয়া যে র‍্যাব অফিসারকেও মেরে ফেলল।” নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ডিএডি আব্দুল মোতালেবের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা এখন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। কেবল গুটিকয়েক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন: ১. এলাকাটিতে সমন্বিত বা যৌথ বাহিনী (সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ) দ্বারা দীর্ঘমেয়াদী চিরুনি অভিযান। ২. পাহাড়ের অবৈধ বসতি উচ্ছেদ এবং অস্ত্র ভাণ্ডারগুলো ধ্বংস করা। ৩. রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। র‍্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের শেকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত

অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রতিকূলতার মাঝেও সাধারণ মানুষের পাশে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ: কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে বুলবুলপুত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত: ইহুদি-খ্রিস্টান বিদ্বেষ প্রসারে আজহারির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারে ১৪২ কোটি টাকার অবৈধ ব্যয়: ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি নোটিশ ঈদের আগেই বিদ্যুৎ সংকটে চামড়া শিল্পনগরী: রপ্তানি বিপর্যয়ের শঙ্কায় ট্যানারি মালিকরা লাইসেন্স নবায়ন নামঞ্জুর, তবুও বিটিআরসির ছত্রছায়ায় চুটিয়ে চলছে মেট্রোনেটের ব্যবসা! আবারও ভুয়া শহীদ ও ভুয়া জুলাইযোদ্ধার নাম তালিকায়, ব্যাপক ঘাপলা-অনিয়মের সন্ধান “হাম হলে আয়ু বাড়ে”—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বেপরোয়া মন্তব্যে ক্ষোভ, নেপথ্যে ইউনূস-নুরজাহানের টিকা ব্যর্থতা ধামাচাপার চেষ্টা? ইউনূসের স্বাক্ষরিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিঃ অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম ছাড়, অথচ সবচেয়ে বেশী শর্ত পাকিস্তানে পুলিশ ফাঁড়ি উড়িয়ে দিলো অজ্ঞাত পক্ষ, ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত ‘এটা তোমার জন্য বাবা’, দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়ে উরবিলের বিশেষ উদযাপন ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতা চর্চা করা এক কথা নয় ফ্যাক্ট চেক: ‘ভারতে হিন্দুরা মসজিদে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে’ দাবিটি গুজব, ঘটনাস্থল বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ না হলে কঠোর প্রতিরোধ, হুঁশিয়ারি ছাত্রদলের ট্টগ্রামে বার নির্বাচন: আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বাধাদান: জেএমবিএফ-এর নিন্দা, জাতিসংঘ-ইইউর হস্তক্ষেপ দাবি আকুর বড় অঙ্কের বিল দিয়েও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রিজার্ভ যেসব ভুলের কারণে ইরান যুদ্ধে হারতে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র হাম ও উপসর্গে আরও ১১ শিশুর প্রাণ গেল, মোট মৃত্যু ৪০৯ ‘এই কাঁদুনেরা ফ্যাসিস্ট জামানায় নির্যাতনে উৎসাহ জোগাত’ যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান ইরান কখনোই শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান