স্বস্তির রাষ্ট্র থেকে অস্থিরতার বাংলাদেশ,এক ব্যর্থ শাসনের নির্মম বাস্তবতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

আরও খবর

তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য

জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা

ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায়

দেশটা দিনে অচল থাকে, রাইতে হারিকেন: স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখল বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্ত: সংশয়ের পদ্মা সেতুতে চার বছরে আয় ৩৩৯২ কোটি টাকা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নেয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুব ঢ়াড়ী-কে পিটিয়ে হত্যা

‘মাজারবিদ্বেষীদের’ সঙ্গে নিয়ে শেষ দিনে ‘মাজারে ডিসিগিরি’ করে গেলেন সারওয়ার আলম

স্বস্তির রাষ্ট্র থেকে অস্থিরতার বাংলাদেশ,এক ব্যর্থ শাসনের নির্মম বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
বিগত পনেরো বছর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে ছিল একটি সুস্পষ্ট ধারাবাহিকতা। মানুষ তখন আয়–রোজগার নিয়ে ব্যস্ত ছিল, ব্যবসা–বাণিজ্য বিস্তারের চিন্তায় মগ্ন ছিল। সন্তানের ভবিষ্যৎ, উন্নত চিকিৎসা, প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ এসব ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের স্বাভাবিক অংশ। পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি, উৎসব, সংস্কৃতিৎমানুষ বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পাচ্ছিল। সামাজিক জীবনে টানাপোড়েন ও নিরাপত্তাহীনতা তুলনামূলকভাবে ছিল কম। দেশের ভেতরেই গড়ে উঠছিল বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র মানুষ নিজ চোখে দেখেছে। তরুণরা নতুন নতুন উদ্যোক্তা ভাবনায় আগ্রহী হচ্ছিল, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল। তখন সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক ভালো না খারাপ এসব বড় ইস্যু ছিল না। কারণ

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন। এই স্থিতিশীলতার পেছনে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বড় কোনো দ্বিধা ছিল না। শেখ হাসিনার দক্ষতা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নমুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থক সমালোচক নির্বিশেষে একটি বাস্তব স্বীকৃতি ছিল রাষ্ট্র জানে সে কোন পথে যাচ্ছে। কিন্তু এই ধারাবাহিকতা হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে শুধু একটি সরকার নয়, ভেঙে পড়ে মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার কাঠামো। ইউনুস সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে শূন্যতা ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে, তা আজ আর গোপন নয় এটি প্রতিদিন মানুষের জীবনে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ নিচ্ছে। আজ মানুষ আতঙ্কে বাস করছে। সন্ত্রাসী হামলার ভয়, ছিনতাই ও ডাকাতির ভয়, মব সন্ত্রাসের ভয়,

উগ্রবাদী শক্তির প্রকাশ্য তৎপরতা সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্র যে নাগরিককে নিরাপত্তা দেবে এই মৌলিক চুক্তিটিই যেন কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। ব্যবসা–বাণিজ্য স্থবির। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান কমছে। তরুণদের সামনে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। উন্নয়ন থেমে গেছে, অথচ বিকল্প কোনো সুসংহত পরিকল্পনাও দৃশ্যমান নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সিদ্ধান্তহীনতা ও অদক্ষতা এক ভয়াবহ শূন্যতা তৈরি করেছে। এই শাসনামলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রবাদী শক্তির পুনরুত্থান। যারা একসময় রাষ্ট্রের প্রান্তে ছিল, তারা আজ প্রকাশ্যে সাহসী। সামাজিক সহনশীলতা ভেঙে পড়ছে, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত আসছে। এটি কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রের আদর্শিক ভাঙন। মানুষ প্রশ্ন করছে এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে?

কেন রাষ্ট্র তার মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ? কেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ? কেন জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব প্রতিদিন বাড়ছে? ইউনুস সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো তারা রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা বুঝতে পারেনি, কিংবা বুঝেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। একটি রাষ্ট্র কেবল তাত্ত্বিক নৈতিকতা দিয়ে চলে না রাষ্ট্র চলে দক্ষতা, দৃঢ়তা ও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব দিয়ে। এই তিনটিরই ঘাটতি আজ প্রকট। যে বাংলাদেশ একসময় উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছিল, আজ সেই বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অস্থির ও অনিশ্চিত রাষ্ট্রের তালিকায় ঢুকে পড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক সংঘাত, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে এই আশঙ্কা মানুষ আজ আর লুকোচ্ছে না। এটি কোনো

দলীয় অভিযোগ নয়; এটি নাগরিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। মানুষ আজ শুধু প্রশ্ন করছে না মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। আর রাষ্ট্র যখন জনগণের আস্থা হারায়, তখন সেটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রবাসীর স্ত্রীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র গুলিস্তান ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ লাশ: আনোয়ারায় গৃহবধূ ও জেলের রহস্যজনক মৃত্যু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ‘১০ ঘণ্টার অপেক্ষাও কিছু নয়’, খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল