মুবারক হো মাহে রমজান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ মার্চ, ২০২৫
     ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মুবারক হো মাহে রমজান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ মার্চ, ২০২৫ | ৪:৪৭ 115 ভিউ
মানব জীবনে ধৈর্যাবলম্বনই হলো দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদের একমাত্র প্রতিষেধক। দু’টি কারণে এই প্রতিষেধকের আয়োজন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রথমত, ইবাদত বন্দেগীর জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুত হতে হলে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানব জীবনে যা কিছু চাওয়া পাওয়া রয়েছে সবকিছু ইবাদতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে। মূলতঃ সিয়াম সাধনা ছাড়াও অন্যসব ইবাদতের জন্যও ধৈর্যের দারকার। অধৈর্য ব্যক্তি ইবাদতের কোন স্তরেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে উন্নীত হতে পারে না। ইবাদত আদায়কারী ব্যক্তিদের সামনে কয়েক ধরনের বাধা-বিপত্তি ও দুঃখ-কষ্ট এসে হাজির হয়। এতদপ্রসঙ্গে ইমাম আবু হামিদ গাজ্জালী (রহঃ) এই বাধাগুলোর শ্রেণী বিন্যাস এ ভাবে করেছেন। যেমনÑ এক ঃ এমন কোন ইবাদত নেই যাতে কোন কষ্ট থাকে না। এ জন্যই

ইবাদতের জন্য এত তাকীদ রয়েছে এবং তার বিনিময়ে সওয়াব ও পুণ্যদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইবাদতের জন্য কামনা-বাসনা বর্জন করতে হয় এবং কু-প্রবৃত্তির প্ররোচনা দমন করতে হয়। এ দুটো কাজ ইবাদত গুজার লোকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ঃ মানুষের কষ্টার্জিত পুণ্য-অটুট রাখাও তার জন্য অপরিহার্য। এজন্য সর্বদা তাকওয়া অবলম্বন করে চলতে হয় এবং এটাও ইবাদতকারীর জন্য কঠিন কাজ বটে। তিন ঃ দুনিয়া ফেতনা-ফাসাদে ভরপুর। দুনিয়াবাসীদের নানা ধরনের দুঃখ কষ্ট ও বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- স্বজন বিয়োগ, রোগ-ব্যাধি, মান-সম্মানের হানি, চলাফেরার অসুবিধা, হিংসা, কুৎসা কিংবা লোভ লালসার শিকার হওয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রেও ধৈর্যের প্রয়োজন। নতুবা অস্থিরচিত্ত নিয়ে যথাযথভাবে ইবাদত আদায় করা সম্ভবপর হয়

না। চার ঃ পারলৌকিক মুক্তিকামীর জন্য বিশেষভাবে নানারূপ দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। বিবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাকে উত্তীর্ণ হতে হয়। যে লোক যতবেশী আল্লাহর প্রিয় হতে চায় তাকে ততবেশী বিপদাপন্ন হতে হয়। তার সামনে পাহাড়তুল্য বাধা এসে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) আরও বলেনÑ তোমরা কি নূর নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী শুননি? তিনি বলেছেনÑ মানুষের মধ্যে পরীক্ষার কঠিনতর স্তর আসে নবীদের জন্য। তৎপরবর্তী স্তর আসে আলেমদের জন্য। তারপর মানুষের স্তর অনুযায়ী পরীক্ষা চলে। সুতরাং যখনই কেউ ভালো কাজের ইচ্ছা করে এবং পারলৌকিক মুক্তির পথে পা বাড়ায়, তখনই তার সামনে কঠিন বিপদাপদের পরীক্ষা এসে হাজির হয়ে যায়। ধৈর্যের অনুপস্থিতিতে সে

তখন পথভ্রষ্ট হয় এবং পুণ্যের পথ বিচ্যুত হয়। ফলে তার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা দুঃখ ক্লেশ ও বিপদাপদ সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকার জন্য আমাদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ সবের মাধ্যমে যে পরীক্ষা হয়, তাও সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেনÑ তোমরা অবশ্যই জান ও মালের পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং তোমাদের আগেকার আহলে কিতাবও মুশরিকদের তরফ হতে অবশ্যই অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। আল্লাহপাক অন্যত্র ইরশাদ করেছেনÑ আর তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ কর তাকওয়া অবলম্বন করে চল, তাহলে অবশ্যই তা বহু হিম্মতের কাজ বলে গণ্য হবে। মোট কথা, আল্লাহ পাক যেন আগেই সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, আল্লাহর পথ বড়ই বিপদসংকুল। পরীক্ষার

কঠিনতর স্তরে এসে বান্দাকে বিপর্যস্ত করে দেয়া খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং তাতে ধৈর্যাবলম্বনকারীরাই হলো প্রকৃত মানুষ। কেননা, বুঝতে হবে যে, মানবীয় দৃঢ়তা ও সংকল্পে স্থিরতা তার মধ্যে বিদ্যমান। তাই, আল্লাহর পথে যে পা বাড়াতে চায়, তাকে প্রথমেই ধরে নিতে হবে যে, সে কঠিন ঝুঁকি মাথায় নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আমরণ তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে পর্যায়ক্রমে আগত সকল প্রকার বিপদাপদ ও দুঃখ ক্লেশ সহ্য করার জন্য। নতুবা তার ইবাদতের ইচ্ছা শুধু ইচ্ছা হয়েই থাকবে। কোন আমল করাই তার পক্ষে সম্ভব হবে না। হযরত ফেজিয়েল ইবনে আয়াজ (রহঃ) বলেনÑ যে ব্যক্তি আখেরাতের পথে পা বাড়াতে চায়, সে যেন নিজের মধ্যে চার ধরনের মৃত্যুর অনুভূতি

নিয়ে অগ্রসর হয়। তাহলো (১) সাদা মৃত্যু (২) লাল মৃত্যু (৩) কালো মৃত্যু এবং (৪) পান্ডুর মৃত্যু। সাদা মৃত্যু হলো ক্ষুধার যাতনা। লাল মৃত্যু হলো শয়তানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কষ্ট। কালো মৃত্যু হলো পাপ বর্জনের ক্লেশ এবং পান্ডুর মৃত্যু হলো একের পর এক পার্থিব দুঃখ-কষ্ট, দুর্ঘটনা প্রভৃতি। এ চার ধরনের মৃত্যুর স্বাদ যে গ্রহণ করতে পারবে, তার পক্ষেই কেবল পারলৌকিক সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া চলে। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে এর পরিপূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য দান করুন, আমীন!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নিউ-জার্সিতে হাসপাতালের পানিতে মরণঘাতী ব্যাকটেরিয়া, মৃত ২ প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’, অতঃপর বন্দুক হামলা ইউনুস সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু হওয়া মানেই মৃত্যুর অপেক্ষা। গুম কমিশনে সাক্ষ্যদাতা জঙ্গিরাই আবার বোমা বানাচ্ছে, যাদের সাক্ষ্যে জঙ্গিবিরোধী পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার বাঙালী নারীদের উপর পাক হানাদারদের বর্বরতার ইতিহাস ও পরবর্তীতে হানাদারদের ক্যাম্প উড়িয়ে দেবার বিরত্ব গাঁথা শোনালেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শিশু মিয়া যে দুইদিনই বাঁচি দেশটাত যেনো শান্তিতে থাকতে পারি” – বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজা বেগম — “যুদ্ধের আগেই বাঙালি সৈনিকদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা ছড়ায় গেছে, বঞ্চনাটা এত বেশি হয়েছে যে কোন বাঙালি সৈনিক এর (মুক্তিযুদ্ধের) বাইরে থাকেনি” –বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান চৌধুরী ডেভিল হান্টের নামে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে মিছিলে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ও শেখ হাসিনার ওপর প্রাণঘাতী হামলা রাজনীতির বাঁকবদল: শেখ হাসিনার মানবিকতা বনাম ঐতিহাসিক তিক্ততা—একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগঃ বাংলাদেশে গুরুতর মানবিক সংকটের শঙ্কা মার্কিন থিংকট্যাংক সিএফআর-এর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়ন জমায় বাধা: সার্ভার ডাউন দেখিয়ে জামাতী প্রসাশনের ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি! একুশে ফেব্রুয়ারি-সরস্বতী পূজার ছুটি বাতিল, সরকারের সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক অপ্রতিরোধ্য এক দেয়ালের অবসান ঘটল খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন রুমিনসহ ৯ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি জমি বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা, কক্সবাজারে যুবদল নেতা খুন বরগুনায় এয়ারগান দিয়ে কারারক্ষীর পাখি শিকার ইউনুস সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু হওয়া মানেই মৃত্যুর অপেক্ষা। কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন,জবাবদিহি কোথায়? হাদী হত্যা: দুবাই থেকে ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি মাসুদের, দায় চাপালেন জামায়াতের ওপর