কারখানা বন্ধ, কর্মহীন নারী শ্রমিকরা বাধ্য হচ্ছেন পতিতাবৃত্তিতে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ জানুয়ারি, ২০২৫
     ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

আরও খবর

সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা

ভোটের আগেই সিট ভাগ হয়ে গেছে। আর এখন দেশের টাকায় চলছে লোক দেখানো নাটক।

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা

মবসন্ত্রাস মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও কারা হেফাজতে সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি

উন্নয়ন দেখলেই গাত্রদাহ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ‘অজ্ঞ’ তারেক: ফ্লাইওভার নিয়ে হাস্যকর দাবি

ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার?

‘ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ নয়াদিল্লি ভারত ।

কারখানা বন্ধ, কর্মহীন নারী শ্রমিকরা বাধ্য হচ্ছেন পতিতাবৃত্তিতে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ | ৭:৪৭ 96 ভিউ
গত পাঁচ মাসে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী, ইপিজেডসহ বিশেষায়িত শিল্প এলাকার বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানায় কাজ করেন কয়েক লাখ নারী-পুরুষ। যাদের বড় অংশই নারী। কর্মহীন এই নারীদের জন্য সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিকল্প আয়ের উৎস না পেয়ে তারা বাধ্য হচ্ছেন পতিতাবৃত্তিতে নাম লেখাতে। জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতায় সৃষ্ট বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন অসংখ্য কারখানার মালিক। যেসব কারখানা চালু আছে, সেখানেও কার্যাদেশ এতটাই কমেছে যে, খরচ পোষাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মালিকদের। ফলে অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পড়েছে কয়েক মাসের। এমন

অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। নিম্ন আয়ের এই বিপুল জনগোষ্ঠী ঢাকা শহরে টিকে থাকার সংগ্রামে বিকল্প খুঁজছেন হন্যে হয়ে। তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, তারওপর চাকরি নেই; খাওয়া-পরার খরচ আর বাড়িভাড়া মেটাতে হচ্ছে ধারকর্জ করে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? উপায়ন্তর না দেখে বাধ্য হলেন তারা অন্ধকার রাস্তায় নামতে। রাতের আঁধারে রাস্তায় নামা আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসের নারী শ্রমিক শারমিন আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, “তিন মাস বেতন বন্ধ, পরে কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে বৃদ্ধ মা-বাপ— কীভাবে তাদের মুখে খাবার তুলে দেব? কাজের জন্য অনেক জায়গায় গেছি, কিন্তু কাজ পাইনি। বাধ্য হয়ে অন্য মেয়েদের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। এই

কাজ করতে ভালো লাগে না, কিন্তু পেট তো মানে না।” টঙ্গীর একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিক রুনা বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, “আমার স্বামী নাই। গার্মেন্টে কাজ করতাম। ওইটা বন্ধ হয়ে যাবার পর ধার-কর্জ করেছি, না খেয়েও থেকেছি। কিন্তু বাচ্চারা তো ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। তাই এই পথে নামতে বাধ্য হলাম।” আশুলিয়ার এক দোকানদার মো. জাকির হোসেন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, “এই মেয়েরা চাকরি করত, এখন রাত-বিরাতে রাস্তায় দাঁড়ায়। ওরা অনেকেই আমার দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনত। এখন তাদের অবস্থা দেখে মন খারাপ হয়। কী করবে বলেন! দেশের যে অবস্থা, মানুষের হাতে টাকা-পয়সা নাই। যারা ছোট চাকরি করত, এদের মাস চলতে টানাটানি। আমরা

তো দোকানদারি করি, মানুষের পকেটের অবস্থা বুঝি সবার আগে। এই মেয়েগুলোরও পরিবার, বাচ্চাকাচ্চা আছে। এরা এই পথে না নেমে কই যাবে?” খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিদেশি ক্রেতারা অন্তত ২০ শতাংশ অর্ডার বাতিল করেছেন, যার প্রধান কারণ শ্রমিক অসন্তোষ এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি আস্থার সংকট। বিশেষ করে আশুলিয়ার কারখানাগুলোর বিষয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ বেশি। বিজিএমইএ-এর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার, বছরের অর্ধেক সময় পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি রপ্তানি হলেও জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকে রপ্তানি আয়। অবশেষে ২০২৪ শেষ হয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ে; যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে

৪ বিলিয়ন ডলার কম। এর ফলে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ২য় সর্ববৃহৎ গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান হারিয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আগামী ৬ মাসে দেশের আরও ১০০টির মতো কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি এক বছরেও স্বাভাবিক না হলে বন্ধ হয়ে যাবে কয়েকশ কারখানা। ইতিমধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় থাকা ৪৫০টি কারখানার মধ্যে অনেকগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতার ফলে। বর্তমানে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তালিকাভুক্ত প্রায় ২শ কারখানা বন্ধ। বিদেশি ক্রেতারা এই অঞ্চলগুলোর শ্রমিক অসন্তোষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এখানকার কারখানাগুলোতে কাজ দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন মানবিক বিপর্যয় আর দেখা দেয়নি উল্লেখ করে দুস্থ নারীদের নিয়ে

কাজ করা উন্নয়নকর্মী ফারজানা সুলতানা, বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছে এই পথে নামতে। অথচ এই নারী শ্রমিকরাই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করতে না পারলে সমাজ এবং অর্থনীতি দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যৌনপেশায় বাধ্য হওয়া তাদের ইচ্ছার অধীন নয়, এটি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ফল। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।” বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ব্র্যান্ড ও বায়াররা এখন আশুলিয়া অঞ্চলের কারখানাগুলোতে কাজ দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তারা খুব সতর্ক হয়ে গেছে এবং তাদের আস্থা তলানিতে। আমাদের অর্ডার অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ সামনে আসবে। শ্রমিক অসন্তোষ ছাড়াও বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিকে কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে

বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে চাই। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমাদের কারখানাগুলো বন্ধের পথে। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করে, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” কর্মহীন নারী শ্রমিকদের পেটের দায়ে পতিতাবৃত্তি করা প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, “নারী শ্রমিকদের এমন পেশা বেছে নেওয়া থেকে স্পষ্ট, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক সংকট চরমে। পেটের দায়ে কেউ শরীর বিক্রিতে বাধ্য হবেন, এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি। এই সংকট দূরীকরণে সরকার, কারখানার মালিকপক্ষ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। তা না হলে এই সংকট আরও গভীর হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
২৫ লাখ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ মজুত রয়েছে সৌদি আরবে সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা প্রতিদিন ১২০০ জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি স্কুলে শিশুকে নির্যাতনের মামলায় ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার ভোটের আগেই সিট ভাগ হয়ে গেছে। আর এখন দেশের টাকায় চলছে লোক দেখানো নাটক। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা মবসন্ত্রাস মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও কারা হেফাজতে সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি উন্নয়ন দেখলেই গাত্রদাহ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ‘অজ্ঞ’ তারেক: ফ্লাইওভার নিয়ে হাস্যকর দাবি ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার? ‘ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ নয়াদিল্লি ভারত । বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ নয়াদিল্লিতে ড. মোমেন ঢাকার অশান্ত রাজপথ : যে অরাজকতার মূল কারণ বসে আছে যমুনায় লাশের পাহাড় আর কতো উঁচু হলে ইউনুসের চোখে পড়বে? গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট? দখলদার ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইনের নির্বাচনের আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে দেশকে জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে পুরোপুরি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা। ম্যাজিশিয়ান ইউনুস! যা ধরে, তাই ভ্যানিস হয়ে যায়! এবার ভোটের পালা! নির্বাচন বর্জনই নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাবধান! ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট : অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়নামা ইউনুসের গণভোট প্রহসন : সংবিধান ও গণতন্ত্রের সাথে নগ্ন প্রতারণা