সিনওয়ার কি সত্যিই শান্তির পথে প্রধান বাধা ছিলেন? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ October, ২০২৪

সিনওয়ার কি সত্যিই শান্তির পথে প্রধান বাধা ছিলেন?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ October, ২০২৪ |
নিহত হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার কি সত্যিই শান্তির পথে প্রধান বাধা ছিলেন? যেমনটা যুক্তরাষ্ট্র তাকে তুলে ধরেছিল! তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, হামাস প্রধানের মৃত্যু শান্তি আলোচনায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ তার মৃত্যু ইসরাইলের উদ্দেশ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সিনওয়ারের মৃত্যু হয়তো শান্তি আলোচনাগুলোকে নতুনভাবে উদ্দীপিত করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার মানসিকতা পরিবর্তিত হয়নি। ইয়াহিয়া সিনওয়ার মূলত গাজার ভেতরে থেকেই হামাসের সামরিক কৌশল পরিচালনা করতেন। তাকে একজন কঠোরবাদী হিসেবে দেখা হতো। বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তির পথে মূল সমস্যা সিনওয়ার নয়, বরং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিই শান্তির পথে প্রধান

অন্তরায়। নেতানিয়াহু ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করেছেন এবং সংঘাতকে গভীরতর করেছেন। ফলে শান্তির চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের খালেদ এলগিন্ডি জানান, সিনওয়ারের মৃত্যু সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করেনি, বিশেষ করে ইসরাইলের কার্যকলাপ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য মার্কিন সরকারের চেষ্টা চললেও, কাতার ও মিশরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও শান্তিচুক্তি বেশ দূরবর্তী বলেই মনে হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন গত সপ্তাহে আলোচনার পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনার বিষয়ে আগের যে আশা প্রকাশ করেছিল, তা এখন কমে এসেছে। শুক্রবার বাইডেন জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার চেয়ে ‘কষ্টকর’ হতে পারে। সুতরাং সিনওয়ারকে যে শান্তির পথে

একটি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তার মৃত্যুর পরেও গাজা পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, ইসরাইলের নেতারাই, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই সংঘাতের মূল কারণ। কেননা, সিনওয়ারকে হত্যার পরও ইসরাইল তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা এমন কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়, যা তাদের কৌশলগত স্বার্থের বাইরে। ইসরাইলের উদ্দেশ্য: ইসরাইলের বৃহত্তর লক্ষ্য শুধু সিনওয়ার বা হামাসের কোনো নির্দিষ্ট নেতাকে নির্মূল করা নয়। তাদের সামরিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক কৌশল, যেমন- গাজার চারপাশে বাফার জোন তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডোর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রমাণ। এই সব পদক্ষেপ দেখায় যে, সংঘাতের মূল চালিকাশক্তি হলো ইসরাইলের

নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়। যা কোনো হামাস নেতার উপস্থিতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্র মিশর এবং কাতারের মতো দেশগুলোর মাধ্যমে হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালাতে সহায়তা করেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, তারা ইসরাইলের ওপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ইসরাইলের সঙ্গে মিলে চলার প্রবণতা দেখিয়েছে। যার ফলে একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা কঠিন হয়ে পড়েছে। হামাসের অবস্থান: হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ছিলেন কঠোর মনোভাবের। তবে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে হামাস কিছু শর্তে আলোচনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিল। সেই সময়ে ইসরাইল গাজাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল এবং হামাস অনেক চাপের মধ্যে ছিল খাদ্যাভাব, অবকাঠামোর ধ্বংস এবং গাজার জনসংখ্যার বড় একটি

অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। তবে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে অস্বীকার করায় এই আলোচনা ভেস্তে যায়। সিনওয়ারের মৃত্যুর প্রভাব: ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করা হলেও, এতে যুদ্ধবিরতির মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। ইসরাইলের জনসাধারণ তার মৃত্যুতে আনন্দ উদযাপন করলেও, এ ঘটনার ফলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাস গাজার সামাজিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের