ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রবীন্দ্র সরোবরে বর্ষামঙ্গল উদযাপন: গান-কবিতা-নৃত্যে মুখরিত হলো ধানমন্ডি
সংসদ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোথাও ঠাঁই না পেয়ে ১১ দলীয় জোট ছাড়ছেন ইসলামিক দলগুলো
সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে চরম অনিয়ম: রাজনৈতিক প্রভাব ও বহিরাগতদের দাপটে প্রশ্নবিদ্ধ পরীক্ষা
চট্টগ্রাম রেলওয়েতে ছাত্রদল নেতার মাস্তানি, বখরা না পেয়ে দপ্তরে হামলা, প্রকৌশলী লাঞ্ছিত
বিএনপি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প: রংপুরে নির্মাণের ১৫ দিনেই সড়কে ফাটল, উঠে গেছে কার্পেটিং
প্রশাসনকে দলীয়করণে অতীতের সকল রেকর্ড ভাঙ্গলো বিএনপি
মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?
ভারতীয় সন্দেহে বিজিবি গাড়ি বহরের উপর আক্রমণে নিহত সন্ত্রাসীরা স্থান পেলো জুলাই শহিদ গেজেটে
এনায়েত কবির ও অচেনা একজন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের একটি কনভয় পিকআপ ট্রাক ও কয়েকটি বাসে করে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। দুপুরের দিকে, প্রায় ৮০ জন বিজিবি সদস্য নিয়ে দুটি বাস যখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মুলাইদের বাংলাদেশ ফিলিং স্টেশনে পৌঁছায়, তখন “ছাত্র ও সাধারণ জনতা সেজে থাকা দুষ্কৃতকারীদের” একটি দল তাদের থামিয়ে দেয়। হামলাকারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে যে বাস দুটিতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অথবা ভারতের বহিরাগত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র’) এর সদস্যরা বিজিবির পোশাক পরে ছদ্মবেশে রয়েছে। তারা গুজব ছড়ায় যে যাত্রীরা হিন্দি বলছে, তাই তারা ভারতীয়। ঘটনা সম্পর্কিত সংবাদের লিংকঃঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিজিবির গাড়ি
ঘেরাও, গুলিতে নিহত ৬
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর হামলাকারীরা আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি সদস্যরা বারবার তাদের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
বিকেলজুড়ে একাধিক দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে ১১টি বিজিবি যান ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীদের হাতে বিজিবির নায়েক মো. আব্দুল আলিম শেখ প্রহারে নিহত হন এবং আরও ১০ জন বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন। সন্ধ্যা ৮টার পর সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে।
সংঘর্ষে আটজন হামলাকারী নিহত হয় এবং ৫০ জনের বেশি ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়।
সংঘর্ষে নিহত এই আটজনকে পরবর্তীতে সরকারের জুলাই শহিদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের নাম গেজেটে নিম্নরূপে উল্লেখিত হয়েছে:
- সিরিয়াল নং ১৩৫ – আসির ইন্তিশারুল হক
- সিরিয়াল নং ২৭৫ – মাসুম বিল্লাহ
- সিরিয়াল নং ৪৪৫ – শিফাত উল্লাহ
- সিরিয়াল নং ৪৫২ – শরিফুল ইসলাম
- সিরিয়াল নং ৪৮২ – জাকির হোসেন রানা
- সিরিয়াল নং ৫০১ – কাওসার মিয়া
- সিরিয়াল নং ৫৩৭ – জুয়েল মিয়া
- সিরিয়াল নং ৭২২ – রহমত মিয়া
২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানায় ঘটনার সাথে সম্পর্কিত দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। উভয় এফআইআরে একই তারিখ ও স্থান উল্লেখ থাকলেও মৃত্যুর সময় ও ঘটনার বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে।
জুলাই গেজেটে আরও ভুয়া শহিদ এর নাম
সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে হামলা
একইদিন (৫ আগস্ট ২০২৪) গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতেও বড় ধরনের হামলা হয়। একটি বড় দল একাডেমির প্রধান ফটক ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আনসার সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহত নয়জনকেও জুলাই শহিদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।অন্যদিকে গুজব ছড়িয়ে এক বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, বিজিবি সদস্যদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার জনকে আসামি করে ১৯শে সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় বিজিবি’র ময়মনসিংহ সেক্টর সদর দপ্তরের নায়েব
সুবেদার সোহেল রানা একটি মামলা দায়ের করে।
সুবেদার সোহেল রানা একটি মামলা দায়ের করে।
একই দিন অর্থাৎ ৫ই আগষ্ট বিকালে গাজীপুরে কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে দুর্বৃত্তরা সদলবলে হামলা চালায়। একাডেমির দুইটি প্রধান ফটক ও ভেতরের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আনসার সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়লে কয়েকজন নিহত হয়, এরমধ্যে ৯ জনের নাম শহীদ গেজেটে স্থান পায়। এদের নাম ও গেজেট নাম্বার হলোঃ
জুলাই শহিদ গেজেট এর সিরিয়ালঃ
- ৮২ নাম্বার সিরিয়ালে আছে আয়াতুল্লাহ,
- ১২৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে অন্তর ইসলাম,
- ২৯৩ নাম্বার সিরিয়ালে আছে রুখতন মিয়া (আসলে হবে রোস্তম / রুস্তম মিয়া),
- ৩৩৭ নাম্বার সিরিয়ালে আছে
মোঃ শাহিনুর মামুদ শেখ, - ৪২৭ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আরিফুল মিয়া,
- ৪৭১ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মাহফুজ,
- ৪৮৬ নাম্বার সিরিয়ালে আছে জুয়েল রানা,
- ৫১২ নাম্বারে সিরিয়ালে আছে ইলিম হোসেন এবং
- ৫৭৫ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ মোস্তফা’র নাম।
শহিদ পরিবারের ভুয়া মামলা
বিজিবি ও আনসার -ভিদিপি একাডেমিতে হামলায় নিহতদের পরিবার পরবর্তিতে নিন্মের মামলা সমুহ দায়ের করেন- গেজেটের ৮২ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা নিহত আয়াতুল্লাহ’র পিতা সিরাজুল ইসলাম ১৮ই সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে।
dir="auto"> গেজেটের ১২৮ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা এই ঘটনায় নিহত অন্তর হোসেনের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৫শে সেপ্টেম্বর সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজাহান খানসহ আওয়ামী লীগের ২৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩০০/৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
- গেজেটের ২৯৩ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা নিহত রোস্তম মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে ২রা জুন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সহ আওয়ামী লীগের ৩১৬ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো অনেকজনকে আসামী করে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
- গেজেটের ৪৭১ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা নিহত মাহফুজের ভাই আপেল মাহমুদ আদালতের শরণাপন্ন হলে ৩০শে মে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থানায় মামলাটি করার নির্দেশ দেন। মাহফুজ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সহ ৩৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা ৩০০/৪০০ জনকে আসামী করা হয়।
- গেজেটের ৫১২ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা ইলিম হোসেন এর সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে উপজেলার হরিণহাটি এলাকার সেকান্দার আলীর ছেলে আবু সাইদ (রাজু) বাদী হয়ে ২৭শে জুলাই কালিয়াকৈর থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ৪২ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০০/৪০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
- গেজেটের ৫৭৫ নাম্বার সিরিয়ালে থাকা মোস্তফার পিতা স্বপন মিয়া গত বছর ২৮শে নভেম্বর গাজীপুর কোর্টে বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।
- জাকির হোসেন রানার বাবা জামাল উদ্দিন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ৩৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং আরও ৪০০-৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে নামীয় আসামিদের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা “ছাত্র ও জনতার” উপর নির্বিচারে গুলি চালায়।
- রহমত মিয়ার বাবা মো. মুনজু মিয়া আরেকটি হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, ৬০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও ৫০০-৬০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা বিজিবির অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়।
- এছাড়া শিফাত উল্লাহর বাবা, মাসুম বিল্লাহর মা, ইন্তিশারুল হকের বাবা, জুয়েল মিয়ার স্ত্রীসহ অন্যান্য স্বজনরা বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব ও অসংখ্য অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।



