ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ক্ষমতার পাঁচ মাসেই ‘হাইব্রিড’ আতঙ্ক
আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভাড়াটে খুনিদের দাপট
বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য
টাকায় মেলে বিচারকের স্বাক্ষর
কোটা সংস্কারের পর বিসিএসে নারীদের নিয়োগে বড় পতন, প্রশ্নের মুখে সংস্কার
ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খাননি দাবি করে আম্মার- ‘আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি’
জঙ্গল সলিমপুরে নাশকতা: যৌথ বাহিনীর পানির পাইপ কেটে ঢালা হয় বিষ, ঝুঁকিতে স্কুলশিশুরাও
১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙ্গালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠারও আন্দোলন। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা শেখ মুজিব ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালির সর্বাত্মক লাভ করেন। বায়ান্নোর পথ ধরে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালের ২০-২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। বঙ্গবন্ধু শহীদ মিনার পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে মিছিলের আগে মিনার চত্বরে এক বিরাট ছাত্র-জনসমাবেশে ভাষণ দেন। উক্ত ভাষণের অংশবিশেষ উদ্ধৃত হলো-
"বাঙ্গালিদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে আরো রক্তদানের জন্যে ঘরে ঘরে প্রস্তুত থাকুন। বাঙ্গালি শহীদ হবে না। এবার তারা গাজী হয়ে বাঁচবে। যারা বুকের রক্ত দিয়ে দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, যারা নিজের রক্ত দিয়ে
আমাকে মুক্ত করে এনেছে, মধ্যরাতে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে বলছি, তাঁদের রক্তের ঋণ আমি শোধ করবোই। শহীদের আত্মা আজ বাংলার ঘরে ঘরে ফরিয়াদ করে ফিরছে, বাঙ্গালি তুমি কাপুরুষ হয়ো না, স্বাধিকার আদায় করো। আমি আজ এই শহীদ বেদী থেকে বাংলার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, প্রস্তুত হও, দরকার হয় রক্ত দিব। নির্বাচনে আমরা বিপুল সাফল্য অর্জনের পরও বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আজো চলছে। যে ষড়যন্ত্রের পরিণতি এই ২১ ফেব্রুয়ারি, যে ষড়যন্ত্রের পরিণামে বাঙ্গালিকে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, সে ষড়যন্ত্র আজো শেষ হয়নি। কিন্তু শোষকদের জানা উচিত, ৫২ সালে বাঙ্গালির যে রূপ ছিল, তার সাথে ৭১ সালের বাঙ্গালির অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারোর
উপর আমাদের কোন আক্রোশ নাই। আমরা স্বাধিকার চাই। আমরা চাই আমাদের মতোই পাঞ্জাবী, সিন্ধু, বেলুচ, পাঠানরা নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকুক। কিন্তু তার মানে এই না যে ৭ কোটি বাঙ্গালী কারো গোলাম হয়ে থাকবে। ভ্রাতৃত্বের অর্থ দাসত্ব নয়-সম্প্রীতির, সংহতির নামে বাংলাকে আর কলোনি বা বাজার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে না। শুধু গুলি খেয়ে নয়, না খেয়েও শহীদ হচ্ছে। যারা বাঙ্গালীর স্বাধিকারের দাবী বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, বাঙ্গালিদের ভিখিরী বানিয়ে, ক্রীতদাস করে রাখতে চাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে যে কোন মূল্যে ব্যর্থ করে দেয়া হবে। সামনে আমাদের কঠিন দিন। আমি আনাদের মাঝে নাও থাকতে পারি। মানুষকে তো একদিন মরতেই হয়। তাই আজ আমি আপনাদের
এবং সারা বাংলার মানুষকে ডেকে বলছি, চরম ত্যাগের জন্যে প্রস্তুত হোন। বাঙ্গালি যেন আর অপমানিত-লাঞ্চিত না হয়। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। শহীদ স্মৃতি অমর হোক।"
আমাকে মুক্ত করে এনেছে, মধ্যরাতে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে বলছি, তাঁদের রক্তের ঋণ আমি শোধ করবোই। শহীদের আত্মা আজ বাংলার ঘরে ঘরে ফরিয়াদ করে ফিরছে, বাঙ্গালি তুমি কাপুরুষ হয়ো না, স্বাধিকার আদায় করো। আমি আজ এই শহীদ বেদী থেকে বাংলার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, প্রস্তুত হও, দরকার হয় রক্ত দিব। নির্বাচনে আমরা বিপুল সাফল্য অর্জনের পরও বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আজো চলছে। যে ষড়যন্ত্রের পরিণতি এই ২১ ফেব্রুয়ারি, যে ষড়যন্ত্রের পরিণামে বাঙ্গালিকে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, সে ষড়যন্ত্র আজো শেষ হয়নি। কিন্তু শোষকদের জানা উচিত, ৫২ সালে বাঙ্গালির যে রূপ ছিল, তার সাথে ৭১ সালের বাঙ্গালির অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারোর
উপর আমাদের কোন আক্রোশ নাই। আমরা স্বাধিকার চাই। আমরা চাই আমাদের মতোই পাঞ্জাবী, সিন্ধু, বেলুচ, পাঠানরা নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকুক। কিন্তু তার মানে এই না যে ৭ কোটি বাঙ্গালী কারো গোলাম হয়ে থাকবে। ভ্রাতৃত্বের অর্থ দাসত্ব নয়-সম্প্রীতির, সংহতির নামে বাংলাকে আর কলোনি বা বাজার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে না। শুধু গুলি খেয়ে নয়, না খেয়েও শহীদ হচ্ছে। যারা বাঙ্গালীর স্বাধিকারের দাবী বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, বাঙ্গালিদের ভিখিরী বানিয়ে, ক্রীতদাস করে রাখতে চাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে যে কোন মূল্যে ব্যর্থ করে দেয়া হবে। সামনে আমাদের কঠিন দিন। আমি আনাদের মাঝে নাও থাকতে পারি। মানুষকে তো একদিন মরতেই হয়। তাই আজ আমি আপনাদের
এবং সারা বাংলার মানুষকে ডেকে বলছি, চরম ত্যাগের জন্যে প্রস্তুত হোন। বাঙ্গালি যেন আর অপমানিত-লাঞ্চিত না হয়। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। শহীদ স্মৃতি অমর হোক।"



