সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদের আস্ফালন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারহীনতার এক চালচিত্র – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার!

অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে?

একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১

‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’

হাসিনা সরকারকে সরাতে ৩২ কোটি ডলার খরচ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সংবাদমাধ্যম

প্রথম আলোর আড়ালে হিযবুত তাহরির ও মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমান: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদের আস্ফালন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারহীনতার এক চালচিত্র

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা এক গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে,তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, উপাসনালয় ও সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং তাদের উপর নির্যাতন। উদ্বেগের বিষয় হলো,দখলদার সরকারের পক্ষ থেকে এসব চলমান ঘটনাকে বারবার 'বিচ্ছিন্ন' বা 'সাধারণ' ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ফলে উগ্রবাদীরা আশকারা পাচ্ছে এবং নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় যা ঘটছে, তা কেবল কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং এক গভীর ষড়যন্ত্র ও চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। মিরসরাইয়ের

জাফরাবাদে হিন্দুপল্লীতে গত মাত্র এক সপ্তাহে সাতটি স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যেমন মন্দির আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি রেহাই পায়নি সাধারণ মানুষের বসতঘর ও খড়ের গাদা। গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক ব্যক্তির ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই আতঙ্ক এখন চরমে পৌঁছেছে। যখন একটি নির্দিষ্ট পাড়ায় এক সপ্তাহে সাতবার আগুন লাগে, তখন একে আর ‘দুর্ঘটনা’ বলার কোনো অবকাশ থাকে না। এটি সুপরিকল্পিত নাশকতা, যার মূল লক্ষ্য সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বাস্তুচ্যুত করা অথবা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা। মিরসরাইয়ের এই চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় চট্টগ্রামের রাউজানের সেই বিভীষিকাময় ৫০ দিনের কথা। সেখানে ১লা নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু

হওয়া তাণ্ডবে ১২টি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় ছিল—ঘরের ভেতর মানুষ থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। এটি কেবল অপরাধ নয়, এটি স্পষ্টত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অপচেষ্টা। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কতটা পৈশাচিক হলে ঘুমন্ত মানুষের ঘরে তালা দিয়ে আগুন লাগাতে পারে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো রাষ্ট্রের নির্লিপ্ত ভূমিকা। প্রতিটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘তদন্ত চলছে’ বা ‘তদন্ত হবে’—এমন গতানুগতিক আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৭ মাসে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি। আর দু-একটি ক্ষেত্রে যা প্রকাশ

পেয়েছে, তা রীতিমতো হাস্যকর ও ভুক্তভোগীদের সাথে উপহাসের শামিল। প্রকৃত নাশকতাকে আড়াল করতে ‘ফেলে দেওয়া বিড়ির আগুন’ কিংবা ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট’-এর দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র প্রবণতা উগ্রবাদী অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। যখন অপরাধীরা দেখে যে রাষ্ট্রের কাছে তাদের অপরাধের কোনো গুরুত্ব নেই, তখন তারা আরও বড় ধরনের অপরাধ করার সাহস পায়। ধর্ম মানুষকে সুশৃঙ্খল হতে শেখায়, আর রাজনীতি হওয়া উচিত বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার হাতিয়ার। কিন্তু বর্তমানে ধর্মের দোহাই দিয়ে যে উগ্রবাদ ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভাজন আর বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই দিচ্ছে না। সংখ্যালঘুদের ওপর এই নির্যাতন কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ক্ষতি

করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। গোটা দেশে ঘটে যাওয়া এবং মিরসরাই বা রাউজানের মতো ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে । দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন আর মিথ্যে অজুহাতে এই বিশাল জাতীয় সংকটকে চেপে রাখা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যদি এখনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে না যায়, তবে এই সাম্প্রদায়িক আগুনের লেলিহান শিখা একদিন গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রকেই গ্রাস করবে। তখন হয়তো আর কিছুই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার! সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী শফিক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ভেনিসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে? Attack on Humanitarian Physician Professor Dr. Kamrul Islam by BNP Leader — Has the Country Become a Safe Haven for Thugs? একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ ‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’ হাসিনা সরকারকে সরাতে ৩২ কোটি ডলার খরচ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর আড়ালে হিযবুত তাহরির ও মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমান: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ৪৩ দিনেই ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ধার ইউনূসের পর বেপরোয়া ঋণ নিচ্ছে নতুন সরকারও ঢাকা বার নির্বাচন ২০২৬: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাধাদানের তীব্র নিন্দা ‘একতরফা নির্বাচন ঢাকা বারের ইতিহাসে কলঙ্কজনক নজির হয়ে থাকবে’ শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন একতরফা নির্বাচনে ১৫ পদের সব কটিতেই জয়ী বিএনপিপন্থীরা বন্ধুত্বের হাত, ভেতরে অবিশ্বাসের রাজনীতি চালু হতে না হতেই অচল ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’, তেলের অপেক্ষা আগের মতোই নিজেদের “জুলাই প্রোডাক্ট” আখ্যা দিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর আকণ্ঠ ঋণে নিমজ্জিত অর্থনীতি: অন্তর্বর্তীকাল থেকে নতুন সরকার- ৪৩ দিনে আরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতিতেই নিঃস্ব উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ নেতানিয়াহুর ভয়ে পোস্ট ডিলিট করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী! নারী বিশ্বকাপে থাকছে রেকর্ড প্রাইজমানি