সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদের আস্ফালন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারহীনতার এক চালচিত্র – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদের আস্ফালন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারহীনতার এক চালচিত্র

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৫:৩৫ 28 ভিউ
গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা এক গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে,তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, উপাসনালয় ও সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং তাদের উপর নির্যাতন। উদ্বেগের বিষয় হলো,দখলদার সরকারের পক্ষ থেকে এসব চলমান ঘটনাকে বারবার 'বিচ্ছিন্ন' বা 'সাধারণ' ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ফলে উগ্রবাদীরা আশকারা পাচ্ছে এবং নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় যা ঘটছে, তা কেবল কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং এক গভীর ষড়যন্ত্র ও চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। মিরসরাইয়ের

জাফরাবাদে হিন্দুপল্লীতে গত মাত্র এক সপ্তাহে সাতটি স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যেমন মন্দির আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি রেহাই পায়নি সাধারণ মানুষের বসতঘর ও খড়ের গাদা। গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক ব্যক্তির ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই আতঙ্ক এখন চরমে পৌঁছেছে। যখন একটি নির্দিষ্ট পাড়ায় এক সপ্তাহে সাতবার আগুন লাগে, তখন একে আর ‘দুর্ঘটনা’ বলার কোনো অবকাশ থাকে না। এটি সুপরিকল্পিত নাশকতা, যার মূল লক্ষ্য সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বাস্তুচ্যুত করা অথবা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা। মিরসরাইয়ের এই চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় চট্টগ্রামের রাউজানের সেই বিভীষিকাময় ৫০ দিনের কথা। সেখানে ১লা নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু

হওয়া তাণ্ডবে ১২টি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় ছিল—ঘরের ভেতর মানুষ থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। এটি কেবল অপরাধ নয়, এটি স্পষ্টত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অপচেষ্টা। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কতটা পৈশাচিক হলে ঘুমন্ত মানুষের ঘরে তালা দিয়ে আগুন লাগাতে পারে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো রাষ্ট্রের নির্লিপ্ত ভূমিকা। প্রতিটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘তদন্ত চলছে’ বা ‘তদন্ত হবে’—এমন গতানুগতিক আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৭ মাসে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি। আর দু-একটি ক্ষেত্রে যা প্রকাশ

পেয়েছে, তা রীতিমতো হাস্যকর ও ভুক্তভোগীদের সাথে উপহাসের শামিল। প্রকৃত নাশকতাকে আড়াল করতে ‘ফেলে দেওয়া বিড়ির আগুন’ কিংবা ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট’-এর দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র প্রবণতা উগ্রবাদী অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। যখন অপরাধীরা দেখে যে রাষ্ট্রের কাছে তাদের অপরাধের কোনো গুরুত্ব নেই, তখন তারা আরও বড় ধরনের অপরাধ করার সাহস পায়। ধর্ম মানুষকে সুশৃঙ্খল হতে শেখায়, আর রাজনীতি হওয়া উচিত বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার হাতিয়ার। কিন্তু বর্তমানে ধর্মের দোহাই দিয়ে যে উগ্রবাদ ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভাজন আর বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই দিচ্ছে না। সংখ্যালঘুদের ওপর এই নির্যাতন কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ক্ষতি

করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। গোটা দেশে ঘটে যাওয়া এবং মিরসরাই বা রাউজানের মতো ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে । দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন আর মিথ্যে অজুহাতে এই বিশাল জাতীয় সংকটকে চেপে রাখা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যদি এখনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে না যায়, তবে এই সাম্প্রদায়িক আগুনের লেলিহান শিখা একদিন গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রকেই গ্রাস করবে। তখন হয়তো আর কিছুই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Vote টিসিবির ট্রাকের পিছে ছুটছে বাংলাদেশ সংসদের বৈধতার প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বলে ছোট করতে চাইলে তারা মীর জাফর: ভাইরাল ভিডিওতে তরুণের মন্তব্য পুলিশের নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ক্ষমতায় এসেই নিজেদের লোকদের বাঁচানোর পুরনো খেলায় ফিরলো বিএনপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান দেশজুড়ে একে একে খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় হামলা-মামলা-আটকের মধ্যেই সারাদেশে মিছিল-কার্যালয় খুলছে তৃণমুলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নবগঠিত বিএনপি সরকারের সন্মতিতেই ‘কালের কন্ঠে” রাষ্ট্রপতি’র খোলামেলা সাক্ষাৎকার! চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে উদ্যোক্তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন: ডিসিসিআই সভাপতি মার্কিন শুল্কের নতুন অস্থিরতায় বাংলাদেশি রপ্তানিতে আরো তীব্র হবে অনিশ্চয়তা চাগোস দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: স্টারমারকে হুঁশিয়ারি, সামরিক ঘাঁটি নিয়ে উদ্বেগ মেক্সিকোতে কার্টেল সংঘাতের ছায়া, আতঙ্কের মধ্যেই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে আসা ফেরিওয়ালা ও তার রঙিন চশমার খদ্দেরেরা জুলাই শহীদ গেজেটঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় নোংরা রাজনীতি ও প্রতারণা! ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক আটক সাংবাদিকদের বিষয়ে ৬৩ বিশিষ্ট জনের উদ্বেগ প্রকাশ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে ভাঙনের সুর; ‘রাজসাক্ষী’ বানিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ