ষোল বছরে যা হয়নি, ষোল মাসেই তা করে দেখালেন ইউনুস! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

ষোল বছরে যা হয়নি, ষোল মাসেই তা করে দেখালেন ইউনুস!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫:৪৭ 46 ভিউ
ঢাকার একজন গৃহিণী দুপুরে ভাত চড়িয়েছেন, হঠাৎ এলপিজি শেষ। রিকশা নিয়ে পাড়ার দোকানে গেলেন, নেই। আশপাশের এলাকায় ঘুরে একটা দোকানে পেলেন, কিন্তু সরকার বেঁধে দেওয়া এক হাজার তিনশ ছয় টাকার জায়গায় দাম চাইছে দুই হাজার আড়াইশ। কিনতে বাধ্য হলেন, কারণ না হলে সন্ধ্যায় পরিবারকে খাওয়াবেন কী? এটা ২০২৬ সালের জানুয়ারির ঢাকা শহর। যে দেশে ডলার পেয়ে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একজন অর্থনীতিবিদ সরকার চালাচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ রান্নার গ্যাস জোগাড় করতে পারছে না। প্রশ্ন হলো, বিগত ষোল বছরে কি এমন পরিস্থিতি হয়েছিল? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কি কখনো তিন সপ্তাহ ধরে এলপিজি বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল? পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলেও

মানুষ তো এলপিজির বিকল্প পেত। এখন সেটাও নেই। দুদিকেই সংকট। কারণ, যারা এখন দেশ চালাচ্ছেন তাদের কাছে দেশ চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই, পরিকল্পনা নেই, এমনকি ইচ্ছাও আছে কিনা সন্দেহ। যে ইউনুস সাহেব সুদ খাইয়ে গরিবদের আরও গরিব বানানোর ব্যবসায় নোবেল পেয়েছেন, তিনি এখন পুরো দেশটাকেই তার খেলাপি ঋণগ্রহীতা বানিয়ে ফেলেছেন। জুলাই মাসে রাস্তায় নামিয়ে তরুণদের রক্ত ঝরিয়ে, পুলিশ পিটিয়ে, সরকারি ভবন জ্বালিয়ে যে অবৈধ ক্যু করা হয়েছিল, তার পেছনে কাদের টাকা ছিল সেটা এখন আর গোপন কিছু নয়। বিদেশি প্রভুদের নির্দেশে, ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর মদদে একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। এখন সেই দখলদার সরকার দেশের

মানুষকে রান্নার গ্যাসটুকু দিতে পারছে না। দেশে এলপিজির গ্রাহক এক কোটিরও বেশি। এদের বেশিরভাগই নিম্নমধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবার, যারা পাইপলাইনে গ্যাস পান না বলে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এই এক কোটি পরিবার মানে অন্তত চার কোটি মানুষ। এই চার কোটি মানুষ এখন প্রতিদিন কীভাবে রান্না করবেন সেই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। সরকার বলছে মাসে চাহিদা দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টনের কাছাকাছি। তাহলে গত তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি নেই কেন? আমদানিকারকরা বলছেন বিশ্ববাজারে সংকট, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এসব অজুহাত তো আগেও ছিল। সমস্যা হলো, এই সরকার কোনো দূরদর্শিতা নিয়ে কাজ করছে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গত

সপ্তাহে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। মানে, তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে সংকট চলছে, তারপর নির্দেশ এসেছে। প্রশ্ন হলো, এই তিন সপ্তাহ তারা কী করছিলেন? কেন আগে থেকে মজুত বাড়ানো হয়নি? জানুয়ারি মাস শীতকাল, রমজানও আসছে, এটা তো জানা কথা যে এই সময় চাহিদা বাড়বে। তাহলে ডিসেম্বর মাসেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? উত্তর সহজ, কারণ এই সরকার দেশ চালাতে আসেনি, তারা এসেছে ক্ষমতা ভোগ করতে আর তাদের বিদেশি প্রভুদের নির্দেশ পালন করতে। এখন বারোটা কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানুয়ারিতে এক লাখ সাতষট্টি হাজার টন আর ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ চুরাশি হাজার টন এলপিজি আমদানির। কিন্তু জানুয়ারি তো প্রায় শেষ, বাজারে এখনও সরবরাহ বাড়েনি। প্রতিশ্রুতি আর

বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফারাক, সেটা এই সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে। তারা শুধু ঘোষণা দিতে পারে, কাজ করতে পারে না। পাইপলাইনের গ্যাসের অবস্থা আরও করুণ। তিতাস গ্যাসের আওতায় সাতাশ লাখ আটাত্তর হাজার গ্রাহক। এদের প্রায় সবাই আবাসিক গ্রাহক, যাদের মূল কাজ হলো রান্না। তাদের দৈনিক চাহিদা একশ আশি কোটি ঘনফুটের বেশি, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে একশ পঞ্চান্ন থেকে একশ ষাট কোটি ঘনফুট। মানে, স্বাভাবিক অবস্থাতেই প্রায় বিশ কোটি ঘনফুট ঘাটতি। এর ওপর গতকাল একটা এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে একশ পঁয়তাল্লিশ কোটি ঘনফুটে। ফলে ঢাকার অসংখ্য এলাকায় মানুষ চুলায় গ্যাসই পাচ্ছে না। প্রশ্ন হলো, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ কি

হঠাৎ করে জরুরি হয়ে গেল? এটা কি পরিকল্পিত ছিল না? যদি পরিকল্পিত থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কেন করা হয়নি? পুরো দেশে যখন গ্যাস সংকট চলছে, ঠিক সেই সময় একটা টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়া মানে হলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীনতা। এটাই এই সরকারের আসল চেহারা। পেট্রোবাংলা বলছে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা তিনশ আশি কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র আড়াইশ ষাট কোটি ঘনফুট। মানে, একশ বিশ কোটি ঘনফুটের ঘাটতি নিয়ে দেশ চলছে। এই ঘাটতি একদিনে তৈরি হয়নি, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু আগের সরকার যেখানে এই ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছিল, নতুন গ্যাসক্ষেত্র খোঁজার চেষ্টা করেছিল, সেখানে এই সরকার শুধু সংকট

বাড়াচ্ছে। যে মানুষগুলো মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুরে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কষ্টের কথা লিখছেন, তারা কি জানতেন যে জুলাই মাসে রাস্তায় নেমে স্লোগান দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? তারা কি ভেবেছিলেন যে একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা তাদের জীবন সহজ করে দেবে? এখন বাস্তবতা সামনে। মাসে এক হাজার টাকার গ্যাস বিল দিয়েও চুলায় গ্যাস নেই, আবার আলাদা করে আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি কিনতে হচ্ছে। অথচ সেই এলপিজিও পাওয়া যাচ্ছে না সহজে, আর পেলেও দাম দ্বিগুণ। সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো, সরকার এলপিজির দাম বেঁধে দিয়েছে এক হাজার তিনশ ছয় টাকা, কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কোনো মনিটরিং নেই। ব্যবসায়ীরা যা খুশি দাম নিচ্ছেন, আর সরকার বসে বসে দেখছে। এটাকে কি সরকার বলা যায়? এটা তো দখলদার চক্র, যারা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া, দেশের মানুষের কষ্ট তাদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। এই যে প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবার দুপুরের রান্না মাঝপথে ফেলে এলপিজি খুঁজতে বের হচ্ছে, এই যে বিদ্যুৎ চালিত চুলা কিনে মানুষ বাড়তি খরচের বোঝা নিচ্ছে, এগুলো কি স্বাভাবিক? একটা দেশে যেখানে সরকার নিজেকে সংস্কারক হিসেবে দাবি করছে, সেখানে মানুষ রান্নার গ্যাসটুকু পাচ্ছে না, এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? আর এখন যে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে, যেখানে হ্যাঁ না ভোটের খেলা খেলানো হচ্ছে, সেখানে মানুষ যদি হ্যাঁ ভোট দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তারা এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। কারণ যে সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে, তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা একটা সাধারণ সমস্যাও সমাধান করতে পারে না। তাহলে তাদের হাতে আরও সময় দেওয়া মানে হলো নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। এক হাজার তিনশ টাকার এলপিজি এখন আড়াই হাজার টাকা, আগামীতে হয়তো তিন হাজার হবে। কিন্তু এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই তো এগুতে হবে, যদি না মানুষ বুঝতে পারে যে তারা কাদের হাতে দেশটা তুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
Bangladesh Election 2026 — Mandate or Mystery? The Story of Invisible Ballots Behind an “Unprecedented” Election শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় ‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের (ISD) বিবৃতি Bangladesh Elections Were Free & Fair? New Report Flags Irregularities In 40% Seats, Raises Concerns ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্বাচন নাটকঃ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ভর্তি বাক্স অরক্ষিত; উধাও প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি “আওয়ামী লীগ ফেরার কি আছে? আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশেই আছে।” – সজীব ওয়াজেদ জয় ছয়টি ব্যালট ভর্তি বাক্স সরিয়ে রেখে ফল প্রকাশ; নির্বাচনের চার দিন পর উদ্ধারে বিক্ষুব্ধ রংপুরবাসী, ইউএনও আটক ভোটার নেই, তবু ভোট পূর্ণ। মানুষ নেই, তবু ফলাফল প্রস্তুত।এটাই অবৈধ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। No voters, yet ballots filled. No people, yet results prepared. What TIB’s Statistics Say: Was the 13th Parliamentary ২৬ লাখ ভারতীয়’ বহাল রেখেই কি বিদায় নিচ্ছেন আসিফ নজরুল? কারাগারে অসুস্থ মুন্নির ‘খোঁজ রাখছে না’ কেউ শেখ হাসিনা মাসে ৮ হাজার কোটি , ইউনুস মাসে ২৩ হাজার কোটি ঋণ নিয়েছে। শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক