শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬

শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬ |
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশটিতে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সামরিক শাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। বৈষম্যহীন শোষণ মুক্ত বাঙালি যে স্বপ্ন দেখেছিল, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার সাথে সাথে তা ফিকে হয়েছিল। দেশ ভাগ হওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তান(বর্তমান বাংলাদেশ) যেন পশ্চিম পাকিস্তানের কলোনি হিসেবে আবিভূত হতে লাগলো, শোষণ বঞ্চনায় বাঙালি পৃষ্ঠ হতে লাগলো, ঠিক তখনই বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় জন্ম নিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেই নয়, বরং তৎকালীন পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও পার্লামেন্ট

গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল, এই দল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করতে শুরু করে। তখন পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলটি ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন এবং জনগণের ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ প্রাদেশিক নির্বাচন ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতির অধিকার, ভাষা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের গণরায়। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে

নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই বিজয় প্রমাণ করে যে পূর্ব বাংলার জনগণ গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষা ও বাঙালির অধিকারকে উপেক্ষা করে। এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং বাঙালির রাজনৈতিক চেতনা আরও শক্তিশালী হয়। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কয়েকটি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে “যুক্তফ্রন্ট” গঠন করে। যুক্তফ্রন্টের প্রধান নেতাদের মধ্যে ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমান। যুক্তফ্রন্ট জনগণের সামনে ২১

দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল— বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আওয়ামী লীগ ছিল যুক্তফ্রন্টের সবচেয়ে সংগঠিত ও জনপ্রিয় শক্তি। দলটির নেতাকর্মীরা গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে, আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট প্রায় সব আসনেই জয়লাভ করে এবং মুসলিম লীগ ভরাডুবির মুখে পড়ে। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল বাঙালির রাজনৈতিক জাগরণের প্রতীক। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে তারা নিজেদের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন চায়। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেয়, তবুও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রথম বড় রাজনৈতিক বিজয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণের আস্থা এই বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল। এই নির্বাচনই পরবর্তীকালে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন ছিল। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২টি আসন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৩৮টি আসন। এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ছিল

জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। পাকিস্তানের জনগণ প্রথমবারের মতো সরাসরি তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার সুযোগ পায়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অর্থাৎ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট গঠনের সাংবিধানিক অধিকার আওয়ামী লীগের হাতেই ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। আওয়ামী লীগ তখন শুধু পূর্ব পাকিস্তানের দল ছিল না; এটি পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু পরিণত হয়েছিল। যদি সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তবে আওয়ামী লীগই পাকিস্তানের সরকার গঠন করত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিবুর রহমান হতেন পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী জনগণের রায় মেনে নেয়নি। ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংগ্রাম শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দলটি পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবি, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পার্লামেন্টারি রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বলা যায়, পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি সূচনা হয় আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব আসনে বিজয়ী হয়। জনগণ এই বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাদের রায় প্রদান করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। তৎকালীন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার প্রস্তুতির আহ্বান জানান। পরবর্তীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির উপর গণহত্যা চালায়। বাঙালির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করে, শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ এবং দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে জন্ম নেয় নতুন দেশ বাংলাদেশ। পাকিস্তানের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আওয়ামী লীগের বিজয় প্রমাণ করে যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাঙনের পথকে ত্বরান্বিত করে। তাই বলা যায়, পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে হাসপাতালের ৫ তলা থেকে ফেলে তরুণীকে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালক মিলে ছাত্রদের দিনের পর দিন ধর্ষণ: ‘হাদিয়া’ দিয়ে খবর ধামাচাপার চেষ্টা সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ শিশু এই ঈদেও নিশ্চয়ই কাঁদবে সাংবাদিকের সন্তানেরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্রদলের ত্রাসের রাজত্ব সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে গণতন্ত্র উদ্ধারে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা তথাকথিত ফ্যাসিজম দমনে নাজিবাদ এর উত্থান! বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের প্রধান রুট হয়ে উঠেছে: দ্য অস্ট্রেলিয়ান টুডে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আমতলীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন আটক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, ইমামকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা সরাইলে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে ২৫% ছাড় কাবার ভেতরটা কেমন আর কী দিয়ে ঢাকা এর চারপাশ? জানুন অজানা কাহিনী হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মঞ্জুরির আসল চিঠি যাচাই করবেন যেভাবে