‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’: জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ সাম্রাজ্য ও র‍্যাব কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর

বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত!

আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব!

স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’: জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ সাম্রাজ্য ও র‍্যাব কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর। পাহাড়ঘেরা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’ বা ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ হিসেবে পরিচিত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে র‍্যাব-৭ এর অভিযানে যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা অপরাধ সাম্রাজ্যের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এই হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যু প্রশাসনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অনুসন্ধানে জানা যায়, র‍্যাবের ওপর এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র বলছে, র‍্যাবের সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি আলীনগর এলাকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই সন্ত্রাসীরা তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সচল করে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’

বলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৪-৫শ লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এটি ছিল মূলত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোণঠাসা করার একটি পুরনো কৌশল, যা জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা আগেও ব্যবহার করেছে। কে এই ইয়াছিন ও রোকন মেম্বার? হামলার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘ইয়াছিন মিয়া’ ও তার সহযোগী ‘রোকন মেম্বার’-এর নাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড় দখল, অবৈধ প্লট বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করে কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই চক্র। রোকন ও ইয়াছিন সিন্ডিকেট: এদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক মামলা

রয়েছে। সহযোগী: এই সিন্ডিকেটের অন্যতম ক্যাডাররা হলো—কালা ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, কাজী মশিউর এবং গাজী সাদেক। এরা পাহাড়ের বিভিন্ন টিলা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অস্ত্র মজুদ রাখে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে বা প্রভাবশালী হয়, তারা সেই দলের ব্যানার ব্যবহার করে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি রাতারাতি নিজেদের ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলার দিন ওই এলাকায় বিএনপির একটি কথিত কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। মূলত রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রশাসনের অভিযান থেকে বাঁচতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, এদের সাথে দলের

কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই, এরা মূলত সুবিধাভোগী দুর্বৃত্ত। জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম। সরু রাস্তা, উঁচু-নিচু পাহাড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ অবৈধ বস্তি সন্ত্রাসীদের পালানোর জন্য আদর্শ জায়গা। অবৈধ কানেকশন: এই এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই হাজার হাজার ঘরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ থাকে সিন্ডিকেটের হাতে। গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি: র‍্যাবের মতো এলিট ফোর্সের ওপর এত বড় হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৪-৫শ লোক জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকলে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো যেত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে ইয়াছিন ভাই বা রোকন মেম্বারের কথার বাইরে গাছও নড়ে না। তারা পাহাড়

কেটে প্লট বিক্রি করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয় বা গুম করা হয়। র‍্যাব আসাতে আমরা খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু তারা এতটাই বেপরোয়া যে র‍্যাব অফিসারকেও মেরে ফেলল।” নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ডিএডি আব্দুল মোতালেবের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা এখন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। কেবল গুটিকয়েক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন: ১. এলাকাটিতে সমন্বিত বা যৌথ বাহিনী (সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ) দ্বারা দীর্ঘমেয়াদী চিরুনি অভিযান। ২. পাহাড়ের অবৈধ বসতি উচ্ছেদ এবং অস্ত্র ভাণ্ডারগুলো ধ্বংস করা। ৩. রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। র‍্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের শেকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত

অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জামায়াতের নির্বাচনী আইকন নিউইয়র্ক মেয়র মামদানির অফিসে এলজিবিটি দপ্তর: বিতর্ক চরমে ইরানের মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব! স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক আচরণবিধি ভাঙায় পাকিস্তানের আঘা সালমানকে আইসিসির তিরস্কার ও ডিমেরিট বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?