রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ September, ২০২৬

রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ September, ২০২৬ |
রাজশাহীতে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে হানি ট্র্যাপে ফেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরীর আলুপট্টি এলাকায় স্বচ্ছ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন—নগরীর বোয়ালিয়া থানার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪) ও শাহরিয়ার মনন (২৯) এবং বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)। তাদের মধ্যে আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। মামলার বাদীর (২৮) বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামে। তিনি রাজশাহী

শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এজাহারে জানিয়েছেন, গত শনিবার সকাল আটটার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করেন। পরে এক তরুণী ঘটনাস্থলে এসে তাদের মধ্যকার সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান। সেখানে ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে ঢোকানোর পরপরই তার মুখ গামছা দিয়ে বেধে ফেলা হয়। এরপর অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

মারধরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয়। হয় তাদের সঙ্গে থাকা নারীকে ‘কট’ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হবে, নতুবা এক লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আবার মারধর করা হয়। এ সময় ওই নারীকে পাশে বসিয়ে তার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়। এরপর তার মোবাইল ফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তাকে উদ্ধারের জন্য তার বোনের স্বামী কৃষি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে শাহরিয়ার

মননের পূবালী ব্যাংক, রাজশাহী শাখার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ১০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয়। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিরপণ ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি কথা ডায়েরিতে লিখিয়ে রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তার বোনের স্বামীর কাছ থেকে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশট নিয়ে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামিরা পেছন পেছন গিয়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে ওই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটির মালিক রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী

খন্দকার হাসান কবির। গ্রেফতার আসামি মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে স্মরণ হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজারের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ বিষয়ে খন্দকার হাসান কবির বলেন, ফ্ল্যাটটির মালিক তিনি। সেখানে তিনি ও তার বড় ছেলে মাঝেমধ্যে থাকেন। হোটেল ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আসামিরা একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটটি খুলে ভেতরে ঢুকেছিল। আসামি আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা বিপদে পড়ায় তাদের উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন তার ছেলে। তার ছেলে ‘ফাঁদে ফেলার’ সঙ্গে জড়িত—পুলিশের

এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে বেশি কথা বলেছে, সে কারণে পুলিশ এমনটি বলতে পারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রোববার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের