ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ |
দেশে ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে শরীরে জীবাণু থাকলেও প্রচলিত পরীক্ষায় তা ধরা পড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রোগ শনাক্তে নতুন কিট ব্যবহার শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও এই কিটের কার্যকারিতা দুই বছর ধরে পরীক্ষা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পরীক্ষার কিট বদলালেই হবে না, ব্যবহৃত ওষুধ ও টিকার কার্যকারিতাও নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ, জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী ধরন তৈরি হলে চিকিৎসা কম কার্যকর হতে পারে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে আজ শনিবার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ম্যালেরিয়া

নির্মূলে বদ্ধপরিকর: এখনই আমরা পারি, এখনই আমাদের করতে হবে’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়ার সব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও দুই রোগীর পরীক্ষার ফল বারবার নেগেটিভ আসে। পরে ওই এলাকার ২০টি নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবে পাঠানো হলে জীবাণুর জিনগত পরিবর্তন নিশ্চিত হয়। এর পরই শনাক্তকরণ কিট পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ-প্রতিরোধী ধরন শনাক্তে একটি নজরদারি গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, ম্যালেরিয়া জীবাণুর মধ্যে এইচআরপি-২/৩ জিনের অনুপস্থিতি গত বছর শুরুতে র‌্যাপিড কিটকে ফাঁকি দিচ্ছে–

এমন তথ্য আসে অধিদপ্তরের কাছে। এতে রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছে না, যা জীবনঘাতী হতে পারে। রাঙামাটির ঘটনাটি প্রমাণ করে, এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে ঘটেছে। এখন শুধু কিট পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবহৃত ওষুধ ও টিকার কার্যকারিতা পুনরায় মূল্যায়ন করা জরুরি। ঝুঁকি বাড়ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত আট বছর ধরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও চ্যালেঞ্জ প্রায় একই রয়েছে। তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীতে আক্রান্তের সংখ্যা ২০১৮ সালে ১৮ জন থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই আক্রান্ত ২৬ জন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬০ জন, তবে এ সময়ে

মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। গত বছর আক্রান্ত ছিলেন ১০ হাজার ১৫৬ জন এবং মৃত্যু হয় ১৬ জনের। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামার মধ্যেই ছিল। এই সময়ে বছরে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ১০ হাজার ৫২৩, ১৭ হাজার ২২৫, ৬ হাজার ১৩০, ৭ হাজার ২৯৪, ১৮ হাজার ১৯৫, ১৬ হাজার ৫৬৭ ও ১৩ হাজার ১০০ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ৭, ৯, ৯, ৯, ১৪, ৬ ও ৬ জনের। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিবছর মে মাস থেকে আগস্ট মাসে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ

তিন জেলা (বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার) মোট রোগীর ৯৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর বাইরে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সংক্রমণ বেশি হচ্ছে জুম চাষি, কাঠুরিয়া, কয়লা শ্রমিক ও শরণার্থীদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ম্যালেরিয়া নির্মূলে চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে দেশে প্রবেশ করা, সীমান্তে যথাযথ শনাক্ত ও নজরদারির ঘাটতি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অভাব এবং কীটতাত্ত্বিক নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দুর্বলতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেনের মতে, ম্যালেরিয়া উপদ্রুত এলাকায় না গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে মশাবাহিত রোগের নতুন সংকটগুলো মোকাবিলায় কৌশলগত পরিবর্তন প্রয়োজন। স্বাস্থ্য

অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, ২০১৭ সালের আগে-পরে ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে মন্তব্য করতে পারবেন না। আমি ২০২৪ সালে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। ওই বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা কমে ১০ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। এটাকে আমি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছি, বলেন তিনি। ম্যালেরিয়া জীবাণুর জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলা সম্ভব নয়। তবে যখনই বিষয়টি জানতে পেরেছি, তখন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিন মাসের মধ্যেই ম্যালেরিয়া পরীক্ষার কিট পরিবর্তন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত। ঢাকায় পুরোহিতের ওপর নৃশংস হামলা, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সুভাষ দেউরী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত দাবি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের রণক্ষেত্র সাতকানিয়া: সশস্ত্র জামায়াত-শিবির কর্মীদের গুলিতে রক্তাক্ত আওয়ামী লীগ কর্মী, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর বেড়ে ১২৩.৫৫ টাকাঃ দুই সপ্তাহে বেড়েছে ৭০ পয়সা, আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রিপেইড মিটারে ভৌতিক বিল কর্তনের অভিযোগ, মধ্যরাতে বিদ্যুতহীনতার ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও) ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায় মো-সা-দ এজেন্ট’ বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল সুপ্রিম কোর্টে বিদ্যুতের লোডশেডিং অতিষ্ট যুবকের প্রধানমন্ত্রী ও জায়মাকে কটুক্তি, ফেনীতে যুবক গ্রেফতার হাসপাতাল চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ, নবম দিনে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিশ্বজুড়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে শেখ হাসিনা: “এ বছরই দেশে ফিরব” কোটচাঁদপুরের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ঢাবি স্থাপনার নাম পরিবর্তন: সিনেট অধিবেশন থেকে শিবিরের ওয়াকআউট; পছন্দের নাম ‘শহিদ ওসমান হাদি’ পশ্চিম তীরে ১০০ স্থানে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরাইল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট