ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
মার্কিন গবাদিপশুতে মাংসখেকো পরজীবি শনাক্ত: বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস আমদানি নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ভয়ংকর মাংসখেকো পরজীবি ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন মাংস আমদানির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরজীবি কতটা বিপজ্জনক?
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি বাছুরের মধ্যে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ নামক এক পরজীবি মাছি পাওয়া গেছে, যার লার্ভা গবাদিপশু, পোষা প্রাণি এবং বন্যপ্রাণিসহ উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট যেকোনো প্রাণির জীবন্ত মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। এই পরজীবিটি টেক্সাসের লা প্রিওর শহরের কাছে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী একটি বাছুরে শনাক্ত হয়েছে বলে কৃষি সচিব ব্রুক রলিন্স নিশ্চিত করেছেন।
কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন গবাদিপশুতে
এই পরজীবি মাছিটি শনাক্ত হলো। এই সংক্রমণের ফলে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দ্বিতীয় আরেকটি সংক্রমণও শনাক্ত করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই পরজীবি মাছির স্ত্রী পোকা পশুর খোলা ক্ষতে ডিম পাড়ে এবং লার্ভা জীবন্ত মাংসে গর্ত করে বৃদ্ধি পায়, যা চিকিৎসা না হলে গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে কী আছে? বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপের হুমকি এড়াতে এই চুক্তি করা হয়, যার ফলে
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কৃষিপণ্য, দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রি আমদানিতে মার্কিন সনদ গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক এসপিএস (স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি) ব্যবস্থা স্বীকৃতি দিতে হবে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ আলাদাভাবে মার্কিন মাংসের নিরাপত্তা পরীক্ষা করার ক্ষমতা সীমিত করে নিয়েছে। চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে বিক্রীত যেকোনো কৃষি-জৈব প্রযুক্তি পণ্য বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি দিতে হবে, বাংলাদেশের কোনো স্বাধীন পূর্ব-বাজার পর্যালোচনা বা অতিরিক্ত লেবেলিং ছাড়াই। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, মার্কিন মাংস আমদানি দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাত এবং এই
খাতে নিযুক্ত মানুষের জীবিকার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন মুরগি ও মাংসের গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টা ও সয়াবিন জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত এবং মুরগির খাদ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পশুজাত উপজাত (মূলত গরু ও শূকরের মাংসের গুঁড়ো) মেশানো হয়, যা বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ডব্লিউটিও চুক্তি কি সুরক্ষা দেবে? বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) এবং টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার টু ট্রেড (টিবিটি) চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিসংগত শর্ত আরোপ করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। তবে মার্কিন সনদকে প্রাথমিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই অধিকার
কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সংশয়ী। যুক্তরাষ্ট্রেই আতঙ্ক এই পরজীবি শনাক্তের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইতোমধ্যে মার্কিন গরুর মাংসের দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। মেক্সিকোতে ২০২৪ সাল থেকে এই রোগের বিস্তার শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে পশুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গত বছর মেক্সিকোতে ৪১ জন মানুষও এই পরজীবিতে আক্রান্ত হন। করণীয় কী? প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে মার্কিন মাংস আমদানির প্রশ্নে স্বাধীন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং স্ক্রুওয়ার্ম-আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল থেকে মাংস আমদানিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। একইসাথে চুক্তির মাংস-আমদানি সংক্রান্ত ধারাগুলো পুনরায় পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় বিনিয়োগকারী ও কৃষকদের প্রচেষ্টা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন — দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভর একটি দেশের কেন এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ উৎস থেকে মাংস আমদানির দরজা খুলে দেওয়া উচিত?
এই পরজীবি মাছিটি শনাক্ত হলো। এই সংক্রমণের ফলে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দ্বিতীয় আরেকটি সংক্রমণও শনাক্ত করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই পরজীবি মাছির স্ত্রী পোকা পশুর খোলা ক্ষতে ডিম পাড়ে এবং লার্ভা জীবন্ত মাংসে গর্ত করে বৃদ্ধি পায়, যা চিকিৎসা না হলে গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে কী আছে? বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপের হুমকি এড়াতে এই চুক্তি করা হয়, যার ফলে
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কৃষিপণ্য, দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রি আমদানিতে মার্কিন সনদ গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক এসপিএস (স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি) ব্যবস্থা স্বীকৃতি দিতে হবে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ আলাদাভাবে মার্কিন মাংসের নিরাপত্তা পরীক্ষা করার ক্ষমতা সীমিত করে নিয়েছে। চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে বিক্রীত যেকোনো কৃষি-জৈব প্রযুক্তি পণ্য বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি দিতে হবে, বাংলাদেশের কোনো স্বাধীন পূর্ব-বাজার পর্যালোচনা বা অতিরিক্ত লেবেলিং ছাড়াই। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, মার্কিন মাংস আমদানি দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাত এবং এই
খাতে নিযুক্ত মানুষের জীবিকার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন মুরগি ও মাংসের গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টা ও সয়াবিন জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত এবং মুরগির খাদ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পশুজাত উপজাত (মূলত গরু ও শূকরের মাংসের গুঁড়ো) মেশানো হয়, যা বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ডব্লিউটিও চুক্তি কি সুরক্ষা দেবে? বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) এবং টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার টু ট্রেড (টিবিটি) চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিসংগত শর্ত আরোপ করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। তবে মার্কিন সনদকে প্রাথমিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই অধিকার
কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সংশয়ী। যুক্তরাষ্ট্রেই আতঙ্ক এই পরজীবি শনাক্তের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইতোমধ্যে মার্কিন গরুর মাংসের দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। মেক্সিকোতে ২০২৪ সাল থেকে এই রোগের বিস্তার শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে পশুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গত বছর মেক্সিকোতে ৪১ জন মানুষও এই পরজীবিতে আক্রান্ত হন। করণীয় কী? প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে মার্কিন মাংস আমদানির প্রশ্নে স্বাধীন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং স্ক্রুওয়ার্ম-আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল থেকে মাংস আমদানিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। একইসাথে চুক্তির মাংস-আমদানি সংক্রান্ত ধারাগুলো পুনরায় পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় বিনিয়োগকারী ও কৃষকদের প্রচেষ্টা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন — দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভর একটি দেশের কেন এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ উৎস থেকে মাংস আমদানির দরজা খুলে দেওয়া উচিত?



