ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রক্তে রাঙানো ৫ই মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার মহড়া
স্বাধীনতা পদক তালিকায় বিতর্কিত চরিত্র মেজর জলিলের নাম: ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা
৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ‘গ্রিন সিগন্যাল’, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা: ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে জিয়াউর রহমান
৭ই মার্চ: বাঙালির মুক্তির আহ্বান, ইতিহাসের অনন্ত শপথ
৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ কিনা- প্রশ্নের জবাবে শাহবাগের ওসি: সাংবাদিক হয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করেন কেন?
চানখারপুলে সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোয় আটক অন্তত ৪
বেতন ৪৯ হাজার টাকা, নিজের ও স্ত্রীর নামে গড়েছেন অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়
মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের ধাক্কা দেশের জ্বালানি ও শিল্পখাতে: উত্তরণের পথ দেখছেন না উদ্যোক্তারা
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা, ইরানে মার্কিন ইসরায়েলে হামলা ও আগ্রাসনের প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি ও শিল্প খাতে এসে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো কার্যকর সমাধান দেখছেন না শিল্পোদ্যোক্তারা।বাংলাদেশ ভ্রমণ
তবে সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং শুরু করেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করেছে। তাছাড়া এ নিয়ে জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে।
যদিও এই রেশনিং ব্যবস্থা কতদিন চলবে, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট সংঘাত পরবর্তী সময় থেকে ধুঁকতে থাকা শিল্পখাত কবে পূর্বের অবস্থায় যেতে পারবে- কিংবা আদৌ যেতে পারবে কিনা শঙ্কা
প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন যে ব্যবসায়ীরা, তারা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন কিনা- প্রশ্নগুলো ঝুলে রয়েছে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। শিল্প উদ্যোক্তারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শিল্প উৎপাদনের গতি কমে যেতে পারে এবং রপ্তানি খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের
(বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরাসরি তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তবে জ্বালানি সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ তিনি আরও বলেন, সরকার যদি বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করে এবং তার প্রভাব শিল্প খাতে পড়ে, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এ অবস্থায় জ্বালানি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক, কর ও ভ্যাট সাময়িকভাবে কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি
হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরল জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত বা অবরোধ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতের বড় অংশই আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সমুদ্রপথে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ
পশ্চিমমুখী বাজারে পাঠানো বেশিরভাগ চালান এখন আফ্রিকা ঘুরে কেপ অব গুড হোপ রুট ব্যবহার করে পাঠাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, ২০২৩ সালের শেষ দিক এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রায় সব পশ্চিমমুখী সমুদ্রপথের রপ্তানি পণ্যের চালান এই বিকল্প রুটে পাঠানো হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহনে আগের তুলনায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ দিন বেশি সময় লাগছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। তিনি আরও বলেন, এই বাড়তি সময় নতুন কোনো সমস্যা নয়। গত প্রায় দুই বছর ধরেই এটি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে যে ১০ থেকে ১৫ দিনের অতিরিক্ত সময় লাগছে, তা ২০২৩-২০২৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। রপ্তানিকারকদের মতে, দীর্ঘ এই রুট ব্যবহারের
ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় আগে থেকেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিদ্যমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা বলছেন, তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পরিবহন সময় বেড়ে গেলে উৎপাদন পরিকল্পনা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ ছাড়া দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহারের কারণে জাহাজ ভাড়া, বিমা ব্যয় এবং সামগ্রিক লজিস্টিক খরচও বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানিকারকদের ব্যয় কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায়
৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা ছাড়া অধিকাংশ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও জরুরি খাতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের সীমিত সরবরাহ বজায় থাকলে শিল্প উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, মার্চ মাসে বাংলাদেশে মোট সাতটি এলএনজি কার্গো আসার কথা ছিল—এর মধ্যে কাতার থেকে ছয়টি এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি। তবে কাতার জানিয়েছে, তারা দুটি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না।বাংলাদেশ ভ্রমণ এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যেখানে দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গানভোর এশিয়া ও ভাইটাল এশিয়ার কাছ থেকে দুটি এলএনজি কার্গো কিনেছে। আগামী ১৫ ও ১৮ই মার্চের মধ্যে এসব কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি কার্গোর দাম পড়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ ডলারের বেশি এবং অন্যটির দাম প্রায় ২৪ ডলার। অথচ কয়েক দিন আগেও স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলারের নিচে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে এলএনজির দাম প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস কাতার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এলএনজি কার্গো আসে দেশটি থেকে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কাতার এনার্জি কয়েকটি চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজোর’ ধারা কার্যকর করেছে, যার আওতায় বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনি দায় ছাড়াই সাময়িকভাবে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা যায়। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২ মার্চ কাতার এনার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। চলতি বছরে বাংলাদেশ মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০টি কার্গো সরবরাহ করার কথা কাতারের। ফলে দেশটির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে সরকার। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে সরকারিভাবে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে, তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। সরকারের দাবি, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৯ দিনের, অকটেনের মজুত প্রায় ১৫ দিনের এবং ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬০ দিনের। কয়েক সপ্তাহ আগেও ফার্নেস অয়েলের মজুত ছিল প্রায় ৯৩ দিনের। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে, তেলের মজুদ রয়েছে মাত্র ৪ দিনের।
প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন যে ব্যবসায়ীরা, তারা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন কিনা- প্রশ্নগুলো ঝুলে রয়েছে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। শিল্প উদ্যোক্তারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শিল্প উৎপাদনের গতি কমে যেতে পারে এবং রপ্তানি খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের
(বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরাসরি তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। তবে জ্বালানি সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ তিনি আরও বলেন, সরকার যদি বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করে এবং তার প্রভাব শিল্প খাতে পড়ে, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এ অবস্থায় জ্বালানি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক, কর ও ভ্যাট সাময়িকভাবে কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি
হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরল জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত বা অবরোধ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতের বড় অংশই আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সমুদ্রপথে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ
পশ্চিমমুখী বাজারে পাঠানো বেশিরভাগ চালান এখন আফ্রিকা ঘুরে কেপ অব গুড হোপ রুট ব্যবহার করে পাঠাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, ২০২৩ সালের শেষ দিক এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রায় সব পশ্চিমমুখী সমুদ্রপথের রপ্তানি পণ্যের চালান এই বিকল্প রুটে পাঠানো হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহনে আগের তুলনায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ দিন বেশি সময় লাগছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। তিনি আরও বলেন, এই বাড়তি সময় নতুন কোনো সমস্যা নয়। গত প্রায় দুই বছর ধরেই এটি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে যে ১০ থেকে ১৫ দিনের অতিরিক্ত সময় লাগছে, তা ২০২৩-২০২৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। রপ্তানিকারকদের মতে, দীর্ঘ এই রুট ব্যবহারের
ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় আগে থেকেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিদ্যমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা বলছেন, তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পরিবহন সময় বেড়ে গেলে উৎপাদন পরিকল্পনা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ ছাড়া দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহারের কারণে জাহাজ ভাড়া, বিমা ব্যয় এবং সামগ্রিক লজিস্টিক খরচও বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানিকারকদের ব্যয় কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায়
৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা ছাড়া অধিকাংশ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও জরুরি খাতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের সীমিত সরবরাহ বজায় থাকলে শিল্প উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, মার্চ মাসে বাংলাদেশে মোট সাতটি এলএনজি কার্গো আসার কথা ছিল—এর মধ্যে কাতার থেকে ছয়টি এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি। তবে কাতার জানিয়েছে, তারা দুটি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না।বাংলাদেশ ভ্রমণ এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যেখানে দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গানভোর এশিয়া ও ভাইটাল এশিয়ার কাছ থেকে দুটি এলএনজি কার্গো কিনেছে। আগামী ১৫ ও ১৮ই মার্চের মধ্যে এসব কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি কার্গোর দাম পড়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ ডলারের বেশি এবং অন্যটির দাম প্রায় ২৪ ডলার। অথচ কয়েক দিন আগেও স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলারের নিচে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে এলএনজির দাম প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস কাতার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এলএনজি কার্গো আসে দেশটি থেকে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কাতার এনার্জি কয়েকটি চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজোর’ ধারা কার্যকর করেছে, যার আওতায় বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনি দায় ছাড়াই সাময়িকভাবে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা যায়। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২ মার্চ কাতার এনার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। চলতি বছরে বাংলাদেশ মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০টি কার্গো সরবরাহ করার কথা কাতারের। ফলে দেশটির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে সরকার। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে সরকারিভাবে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে, তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। সরকারের দাবি, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৯ দিনের, অকটেনের মজুত প্রায় ১৫ দিনের এবং ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬০ দিনের। কয়েক সপ্তাহ আগেও ফার্নেস অয়েলের মজুত ছিল প্রায় ৯৩ দিনের। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে, তেলের মজুদ রয়েছে মাত্র ৪ দিনের।



