মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা: হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে শঙ্কা, বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা: হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে শঙ্কা, বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ এপ্রিল, ২০২৬ |
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু হত্যার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা রোগ কমার নয় বরং নজরদারি ও সেবার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। উল্লেখ্য ইউনূস সরকারের সময়ে হামের টিকা নিয়ে উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট। স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) আওতায় ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) নেমে এসেছে ১৬৯-এ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ১৯৬ এবং ২০২৩ সালে ছিল ২০১। বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্তকরণ কমে

যাওয়া মানেই রোগ কমে যাওয়া নয়; বরং এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, দেশে প্রতি লাখে ১২১ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় প্রায় ৪২ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন প্ল্যানের আওতায় পরিচালিত যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ২০২৪ সালের জুনে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেয় আওয়ামী লীঘ সরকার। কিন্তু ইউনূস এসে পরে তা অনুমোদন করেনি। ফলে ওষুধ ও কিট কেনার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে, মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড এবং গ্লোবাল ফান্ড থেকে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি

আরও জটিল হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কিছু সংশোধনীসহ ডিপিপি ফেরত পাঠালেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থায়ন সংকটের পাশাপাশি জনবল ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে রোগী শনাক্তকরণেও ভাটা পড়েছে, যা ভবিষ্যতে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে। দেশের সব বিভাগেই যক্ষ্মা শনাক্তের হার কমেছে। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি লাখে ২০০ জন শনাক্ত হলেও চতুর্থ প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে ১৪৯-এ। সিলেট বিভাগ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও সেখানে শনাক্তের হার ২১৫ থেকে কমে ২০১-এ দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি শিশুদের ক্ষেত্রে। সাধারণত মোট রোগীর ১০ শতাংশ শিশু থাকলেও বর্তমানে শনাক্ত হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে শিশু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২,৯৯৫ জন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি প্রকৃতপক্ষে শনাক্ত ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিফলন। গ্লোবাল ফান্ডের মূল্যায়নে সেবা প্রদানে ঘাটতি, তথ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে। অনেক জেলায় জিন এক্সপার্ট ল্যাব বন্ধ রয়েছে, আবার কিছু ল্যাব অর্থের অভাবে সংস্কার করা যাচ্ছে না। এতে ভুল শনাক্তের ঝুঁকিও বাড়ছে। জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির যক্ষা বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ বলেন, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ বাড়ানো, পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে স্ক্রিনিং জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শনাক্তে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে

যক্ষ্মা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গতি ফেরাতে দ্রুত ডিপিপি অনুমোদনের চেষ্টা চলছে এবং ওষুধ কেনার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। তাদের আশা, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গতি ফেরাতে ডিপিপি অনুমোদনের কাজ চলছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্জন ধরে রাখতে হলে পরিকল্পিত পদক্ষেপ, টেকসই অর্থায়ন এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত। ঢাকায় পুরোহিতের ওপর নৃশংস হামলা, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সুভাষ দেউরী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত দাবি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের রণক্ষেত্র সাতকানিয়া: সশস্ত্র জামায়াত-শিবির কর্মীদের গুলিতে রক্তাক্ত আওয়ামী লীগ কর্মী, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর বেড়ে ১২৩.৫৫ টাকাঃ দুই সপ্তাহে বেড়েছে ৭০ পয়সা, আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রিপেইড মিটারে ভৌতিক বিল কর্তনের অভিযোগ, মধ্যরাতে বিদ্যুতহীনতার ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও) ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায় মো-সা-দ এজেন্ট’ বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল সুপ্রিম কোর্টে বিদ্যুতের লোডশেডিং অতিষ্ট যুবকের প্রধানমন্ত্রী ও জায়মাকে কটুক্তি, ফেনীতে যুবক গ্রেফতার হাসপাতাল চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ, নবম দিনে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিশ্বজুড়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে শেখ হাসিনা: “এ বছরই দেশে ফিরব” কোটচাঁদপুরের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ঢাবি স্থাপনার নাম পরিবর্তন: সিনেট অধিবেশন থেকে শিবিরের ওয়াকআউট; পছন্দের নাম ‘শহিদ ওসমান হাদি’ পশ্চিম তীরে ১০০ স্থানে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরাইল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট