বিশ্ব যখন চুপ, গাজার ঈদ তখন আর্তনাদে ভরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




বিশ্ব যখন চুপ, গাজার ঈদ তখন আর্তনাদে ভরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ জুন, ২০২৫ | ৯:০৯ 84 ভিউ
ঈদুল আজহা আনন্দ, ত্যাগ আর সহানুভূতির বার্তাকেই বহন করে- যেখানে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মানুষ সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটায়। কিন্তু এ বছরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ঈদ যেন এই ধর্মীয় সৌন্দর্যের নির্মম ব্যতিক্রম। কারণ এখানে পশু নয়, কোরবানি হচ্ছে মানুষ-নিরপরাধ শিশু, নারী ও পুরুষ। গাজার অলিগলিতে এখন রক্তের স্রোত, কান্নার প্রতিধ্বনি, ধ্বংসস্তূপ আর ব্যথার চিৎকার। যেসব শিশুরা নতুন জামা পরে ঈদগাহে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তারা আজ কেউ হাসপাতালের বারান্দায়, কেউবা ধ্বংসস্তূপের নিচে নিথর দেহ। ঈদের নামাজ পড়ার মতো জায়গাও নেই অনেক এলাকায়, কারণ ঈদগাহগুলোই আর অস্তিত্বে নেই- সেগুলো আজ কেবল ধূলোমলিন স্মৃতি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে একটি

প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে, এই হত্যাযজ্ঞের দায় কার? শুধু কি দখলদার বাহিনীর? নাকি সেই সব ক্ষমতাবান রাষ্ট্রগুলোর, যারা মানবাধিকারের বুলি কপচায়, কিন্তু বাস্তবে নিরবতা পালন করে? যারা অস্ত্র বিক্রি করে আগুন জ্বালায়, পরে শান্তির অভিনয় করে? কিংবা সেইসব মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের, যারা গাজায় হত্যাযজ্ঞের সময় নীরব থাকে নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য? গাজার ঈদের বাস্তবতা দেখে চোখ ভিজে যায় বিবেকবানদের। ড. হানান আশরাওয়ি বলেন, ‘প্রতি ঈদেই গাজা কাঁদে, আর বিশ্ব থাকে নীরব। এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় সহিংসতা।’ আর্চবিশপ দেশমন্ড টুটু ফাউন্ডেশন বলেছে, ‘একটি ধর্মীয় উৎসবে যখন শিশুর কান্না, ধ্বংসস্তূপে প্রার্থনা আর পবিত্র দিনে বোমা পড়ে- তা শুধু অন্যায় নয়, বরং ঈশ্বরকেও অশ্রদ্ধা। মার্কিন অধিকারকর্মী কোরনেল ওয়েস্টের

মতে, ‘এই রক্তভেজা ঈদ আমাদের সকলের বিবেকের পরীক্ষা। কেউ কোরবানি দেয় আত্মশুদ্ধির জন্য, আর কেউ মানুষ হত্যা করে দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য।’ এই পরিস্থিতিতে এক শিশু যখন জিজ্ঞেস করে- ‘আমার বাবা-মায়ের রক্তের দায় কে নেবে?’-তখন কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বিশ্ব ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয়। আমরা যারা প্রতিদিন গাজাবাসীর রক্তমাখা ছবি দেখে চোখ ফিরিয়ে নিই, ভাবি ‘আমার তো কিছু করার নেই’ -আমরাও কি দায়মুক্ত? এই দায় কারও একার নয়- এই দায় ছড়িয়ে আছে প্রতিটি শক্তিধর রাষ্ট্রের নিরবতায়, প্রতিটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বে এবং প্রতিটি নিঃশব্দ মুসলিম নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তায়। ঈদের দিনে এমন এক প্রশ্ন জেগে ওঠে, যা তাকবিরের আওয়াজকেও ছাপিয়ে যায় : ‘আর কত ঈদ আসবে

যেখানে কেউ বুক চাপা কান্না লুকাবে, আর কেউ কবরস্থানে প্রিয়জন খুঁজবে?’ এই দায়ের হিসাব একদিন ইতিহাসই করবে- আর সেই দিন নীরবতার মুখোশ পরা সবাইকে জবাব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আন্তর্জাতিক বাজারে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল যেখানে যে কারণে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা মসজিদের টাকা নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ আফগানিস্তান-পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব চুক্তি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা, যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া টানা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ঋণের বোঝা নিয়ে বাতি জ্বলছে : বিদ্যুৎমন্ত্রী ভূমিকম্পে কাঁপল সারা দেশ দাসত্বের দালালেরা ২০০১ এ যেভাবে সফল হয়েছিল, একইভাবে এবারও সফল অতীতে মামলা-হামলার ঝুঁকির কারনে গুপ্ত রাখা নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করলো জামায়াতে ইসলামী! সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামাজ, ইফতার কর্মসূচির আড়ালে ছাত্রদের আবার সংগঠিত করার ষড়যন্ত্র! ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২০ জন নিহত জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল ভারত, সেমিফাইনাল নিশ্চিত দক্ষিণ আফ্রিকার জুলাই বিক্ষোভে নির্মমভাবে পুলিশ হত্যা: দাবি আদায়ের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে পঙ্গু করার জঙ্গি পরিকল্পনা? টঙ্গীতে ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগের অফিসে দলীয় ব্যানার, জাতীয় পতাকা উত্তোলন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরলো জামায়াতপন্থী লে. জেনারেলসহ শীর্ষ ৬ কর্মকর্তা গণভোটে অতিরিক্ত দেখানো ৯ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দিল নির্বাচন কমিশন