বিদ্যুৎ খাতের হিসাবনিকাশ, ভর্তুকির পাহাড়, উন্নয়নের সাফল্য থেকে লোকসানের গভীর সংকটে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতের হিসাবনিকাশ, ভর্তুকির পাহাড়, উন্নয়নের সাফল্য থেকে লোকসানের গভীর সংকটে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এক সময় উন্নয়নের প্রতীক ছিল। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় গ্রিড শক্তিশালী করা, শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এসব ছিল বাস্তব অর্জন, যার সুফল জনগণ সরাসরি ভোগ করেছিল। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রিত ছিল, শিল্প উৎপাদন চলমান ছিল এবং অর্থনীতির চাকা সচল ছিল। তখন বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সংকট ছিল না। আজ সেই বিদ্যুৎ খাতই লোকসানের অতল গহ্বরে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনুস সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন থেকে সরে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও নীতিগত বিশৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো শীত মৌসুমে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বনিম্ন থাকার কথা, তখনও দেশ অন্ধকারে

ঢেকে যাচ্ছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি ব্যর্থ শাসনের সরাসরি ফল। সরকারি হিসাবই সাক্ষ্য দিচ্ছে এই ব্যর্থতার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই লোকসান বেড়েছে প্রায় ৯৪ শতাংশ। এমন বিপর্যয় কি কেবল বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে? না কি এটি নীতিগত ব্যর্থতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল এই প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ খাতে ‘সংস্কার’-এর গল্প শোনাচ্ছে। বিশেষ আইন বাতিল, ব্যয় সাশ্রয়, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানো, ট্যারিফ পুনঃআলোচনার মতো শব্দচয়নে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতায় এসব কেবল কাগুজে ঘোষণা। ফলাফল শূন্য। বরং সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে বেসরকারি আইপিপির

কাছে আরও বেশি আত্মসমর্পণ করেছে সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিডিবি বিদ্যুৎ কিনতেই ব্যয় করেছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি, অথচ আয় করেছে মাত্র ৬৯ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে সরকার দিয়েছে কমপক্ষে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কিছু হিসাবে যা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন হলো, জনগণের করের টাকা কি অনির্দিষ্টকাল ধরে লোকসান ঢাকতেই ব্যয় হবে? বিদ্যুৎ খাতের লোকসানের মূল কারণ কোনো রহস্য নয়। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করে তা অব্যবহৃত রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখা এবং সরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনা এই নীতিই বিপিডিবিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হয়েছে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা এটাই ‘সংস্কার’-এর বাস্তব ফল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম এখন নিম্নমুখী। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম প্রায় ৬০ ডলার। তবুও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমছে না। কেন? এর সোজাসাপ্টা উত্তর কেউ দিতে চায় না। কারণ উত্তরটি ক্ষমতার অস্বস্তিকর জায়গায় গিয়ে ঠেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে লাগামহীন সিস্টেম লস। বৈশ্বিক মান যেখানে ৮ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ১০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশই অপচয়, চুরি বা দুর্বল ব্যবস্থাপনার শিকার। এই অপচয়ের দায় কে নেবে? বিশেষজ্ঞরা

স্পষ্টভাবে বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে প্রকৃত সংস্কার হয়নি। বিপিডিবির একক মনোপলি ভাঙা হয়নি, ব্যয়বহুল চুক্তি পুনঃআলোচনা হয়নি, ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমানো হয়নি। সরকার এসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বা নিতে চায়নি। বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসান কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা নয় এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত। ভর্তুকির পাহাড় যত উঁচু হবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে ব্যয় তত সংকুচিত হবে। বিদ্যুৎ খাতের ব্যর্থতার মূল্য দেবে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন মানে কেবল মেগাওয়াট বাড়ানো নয় এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই জবাবদিহি না থাকলে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের গল্প নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দলিল হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কান উৎসবে প্রাধান্য পাচ্ছেন স্বাধীন নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দল যাবে না ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১৯৪০ টাকা প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন, শান্তি চুক্তি ‘হবে’ : ট্রাম্প দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের সম্পর্ক নেই যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কে থালাপতি বিজয় শেখ মুজিবকে প্রাপ্ত সম্মান দিতে হবে: শাহাদাত হোসেন চবিতে পোস্টার হাতে ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী উৎপাদন বন্ধ হয়ে অচল দেশের সার কারখানাগুলো, আমদানি নির্ভরতায় বাংলাদেশ: জানালেন শিল্পমন্ত্রী এবার বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানাটিও জ্বালানি তেলের সংকট: দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার দুই সপ্তাহ ব্যবধানে নজিরবিহীন দুই দফা দাম বৃদ্ধি: ১২ কেজির এলপিজি এখন ১৯৪০ শরীফুলের স্পেলই নাকি কিউইদের মিরপুর জয়ের পথ দেখিয়েছে! তথ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে স্ক্রল আকারে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনায় সাংবাদিক সায়ের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের টাকায় এনজিও অভিযোগ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের