বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বাতিল : পাকিস্তানপন্থীদের কাছে বাপের পরাজয় উদযাপন বিব্রতকর! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বাতিল : পাকিস্তানপন্থীদের কাছে বাপের পরাজয় উদযাপন বিব্রতকর!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ |
একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন। যেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে বিজয়ী বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। সেই বিজয়ের স্মৃতি বহন করে আসছে প্রতি বছরের কুচকাওয়াজ। কিন্তু টানা দুই বছর ধরে সেই ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন, এবারও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ হবে না। শুধু রাজধানীতে নয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এই আয়োজন থাকছে না। প্রশ্ন হলো, কেন? কোন যুক্তিতে একটি স্বাধীন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বাতিল করতে হবে? নিরাপত্তার অজুহাত দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের কারণ কি আসলে অন্য কিছু? যে

সরকার গণতান্ত্রিক পথে নয়, বরং রক্তাক্ত গণআন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টি করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বিজয়ের গৌরব কতটুকু মূল্য রাখে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। একটি নির্বাচিত সরকারকে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছে। রাস্তায় নামানো হয়েছে উন্মত্ত জনতা, যাদের হাতে ছিল অস্ত্র, যাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিদ্বেষ। পুলিশ, প্রশাসন, সাধারণ মানুষ - কেউই রক্ষা পায়নি সেই বর্বরতা থেকে। সরকারি সম্পদ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংসদ ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের পেছনে কারা ছিল, কাদের মদদ ছিল, সেটা এখন আর গোপন নয়। বিদেশি শক্তির অর্থায়ন,

ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর সক্রিয় সহায়তা এবং সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন - এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল জুলাইয়ের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি। যে দেশটি একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছিল, সেই দেশেই আবার পাকিস্তানি মদদপুষ্ট শক্তি ক্ষমতায় বসানো হলো। ইউনূস সাহেবকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বসানো হয়েছে, যার পেছনে আন্তর্জাতিক সুদী পুঁজি এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার ছায়া স্পষ্ট। এটা কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, বাস্তবতা। এখন যখন বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ বাতিল করা হচ্ছে, তখন বিষয়টি আর শুধু একটি অনুষ্ঠান বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা আসলে একটি প্রতীকী আত্মসমর্পণ। পাকিস্তান যে দেশটিকে ১৯৭১ সালে হারিয়েছিল, সেই পাকিস্তানের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা শক্তি এখন বাংলাদেশে

ক্ষমতায়। তারা কীভাবে সেই পরাজয়ের দিনটি উদযাপন করবে? কীভাবে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিজয় কুচকাওয়াজ দেখবে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি উজ্জীবিত হয়? যেখানে পাকিস্তানের পরাজয়ের কথা স্মরণ করা হয়? এই অ-সরকার যেহেতু পাকিস্তানের আশীর্বাদপুষ্ট, তাই তাদের জন্য ১৬ ডিসেম্বর একটি বিব্রতকর দিন। বিজয় দিবস উদযাপন করতে গেলে তাদের প্রভুদের অসম্মান করা হয়। তাই সহজ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে - কুচকাওয়াজ বাতিল করে দেওয়া। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনাবাহিনীর বুট খুলিয়ে দেওয়া, যেখানে তাদের গর্বিত পদচারণা থাকার কথা ছিল। বাস্তবতা হলো, এই সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই। তারা ক্ষমতায় এসেছে সুপরিকল্পিত সহিংসতার মাধ্যমে। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। তাদের বৈধতা নেই, জনসমর্থন নেই। তাই তারা

ভয়ে আছে। বিজয় দিবসে লাখো মানুষ যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে তাদের অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠতে পারে। তাই সহজ উপায় হলো, সেই সমাবেশের সুযোগই না দেওয়া। কুচকাওয়াজ বাতিল করে মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখা। কিন্তু এই কাপুরুষোচিত সিদ্ধান্ত বাঙালি জাতির মনোবল ভাঙতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। বিজয়ের গৌরব মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। যে সেনাবাহিনী একাত্তরে পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছিল, সেই সেনাবাহিনীকে এখন কুচকাওয়াজ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। এটা শুধু একটি অনুষ্ঠান বাতিল নয়, এটা জাতীয় আত্মসম্মানের ওপর আঘাত। ইতিহাস এই কাপুরুষতার বিচার করবে। যারা বিদেশি অর্থে, জঙ্গি সহায়তায় এবং সামরিক মদদে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের পতন অনিবার্য।

কোনো অবৈধ সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জনগণের শক্তি সব সময় বিজয়ী হয়। আর সেই বিজয়ের দিন আবার ফিরে আসবে, যখন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আবার কুচকাওয়াজ হবে, যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসবে। সেদিন বাংলাদেশ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আর পাকিস্তানপন্থী শক্তি আবার পরাজিত হবে। ইতিহাসের চাকা একবার ঘুরলে, তা আর পেছনে ফেরে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়াতে যা করবেন টাকায় মেলে বিচারকের স্বাক্ষর তিনগুণ মূল্যে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব পেট্রোনাসের বনের নৈসর্গিক পরিবেশে বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির অনন্য মিলনমেলা: নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ রকল্যান্ড রিট্রিট ও বইমেলা ২০২৬ ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে চীনের ১১টি জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বাড়ছে সামরিক চাপ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ‘চোর’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট: রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের ঘোষণা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফাইনালের পরেই রেফারিং ছাড়লেন স্লাভকো ভিনচিচ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাব্রালের বাঁকানো শট ‘বিশ্বকাপের সেরা গোল’ কোটা সংস্কারের পর বিসিএসে নারীদের নিয়োগে বড় পতন, প্রশ্নের মুখে সংস্কার ভারতের বাংলাদেশ সফর ঝুলে থাকার আবহেই মিরাজের সাক্ষাৎকার: বরফ গলবে কি? ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খাননি দাবি করে আম্মার- ‘আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি’ ঢাকার উত্তরায় ১০ মিনিটের ব্যাবধানে দুটি বোমা বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সড়কে ঝুলছিল নাহিদ-হাসনাতদের কুশপুতুল, স্থানীয়দের ভাষ্য- ‘লীগের ঘাড়ে দোষ চাপাতে নিজেরাই ঝুলিয়েছে’ আয়ালার ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করে মিথ্যাচারের অভিযোগ ওলমোর জঙ্গল সলিমপুরে নাশকতা: যৌথ বাহিনীর পানির পাইপ কেটে ঢালা হয় বিষ, ঝুঁকিতে স্কুলশিশুরাও বরুড়ায় একের পর এক পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি, ছাত্রদল সভাপতিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ঢাকায় বিদ্যুৎ বিলের ভয়াবহ বৃদ্ধি: একই ব্যবহারে আগের মাসের চেয়ে আসছে দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল! মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করা যুক্তরাষ্ট্র এবার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডাটাবেজ তৈরিতে আগ্রহী! যুবদল নেতাকে খুন করতে ২৫ লাখে খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমেরিকা ফার্স্ট নীতি? যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতেই ২৩৭ কোটি টাকা গচ্চায় গম কিনছে বিএনপি সরকার