ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে আইন সংশোধনের প্রস্তাব
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মৃত্যু বেড়ে ৮
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে
অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ৬৪ কোটি টাকা জরিমানা
‘নাই বাওয়া, হামার কিচ্ছু নাই, ঘর-বাড়ি সব হারাচি’
‘খালেদা জিয়া ১ টাকা রেখে পুরো বেতন এতিমখানায় দান করে দিতেন’, জানালেন প্রেস সচিব
আগস্টেই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে, জানালেন মন্ত্রী
বাংলাদেশ কি এখন পরাশক্তির দাবার বোর্ড? ড. ইউনূস সরকারের কূটনীতি না কি রাষ্ট্রীয় আত্মসমর্পণের নীলনকশা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে, তা কোনো শান্ত গণতান্ত্রিক বিবর্তন নয়—এটি একটি রাষ্ট্রীয় কম্পনের পূর্বাভাস। নির্বাচনের আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে: এরা কি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, নাকি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ?
বোয়িং কেনার তোড়জোড়, এয়ারবাস ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা, রাশিয়ার সস্তা গম বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চড়া দামের গম কেনা—এই ঘটনাগুলো যদি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে এগুলোকে নীতিগত ভুল বলা যেত। কিন্তু যখন এগুলো একটি ধারাবাহিক প্যাটার্নে পরিণত হয়, তখন আর ভুল থাকে না—তখন থাকে নীতি।
আর সেই নীতির নাম:
তোষণের কূটনীতি।
গোপন বৈঠক: যখন সরকার আর বিশ্বাসযোগ্য থাকে না
সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকেতটি
এসেছে তথাকথিত “গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ” থেকে। শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ড. ইউনূস প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এটি কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। এটি কূটনৈতিক ভাষায় বলা একটাই কথা: “তোমরা আর একমাত্র অপশন নও।” ইতিহাস দেখুন। ইরাকে সাদ্দাম যখন আর ভরসার জায়গা রইলেন না, তখন বিকল্প তৈরি হলো। লিবিয়ায় গাদ্দাফি যখন অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠলেন, তখন নতুন খেলোয়াড় নামল। আফগানিস্তানে যখন কাবুল সরকার ভঙ্গুর হয়ে পড়ল, তখন সমান্তরাল যোগাযোগ শুরু হলো। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কি সেই স্ক্রিপ্টের প্রথম দৃশ্য শুরু হয়ে গেছে? নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, কিন্তু বিদেশিদের কাছে ‘ব্যাকআপ প্ল্যান’? আরও ভয়ংকর বিষয় হলো—কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী
লীগ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের গোপন বৈঠকের খবর। এটি একটি রাজনৈতিক ভূমিকম্প। কারণ, যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই দৃঢ়, গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল হতো, তাহলে বিদেশিরা কেন বিকল্প খুঁজত? এর মানে একটাই: বিদেশিরা সরকারে আস্থা রাখছে না। তারা পরিস্থিতিতে আস্থা রাখছে। এবং এই সরকারকে তারা “অস্থায়ী” ধরে নিয়েছে। বোয়িং বনাম এয়ারবাস: বিমানের চেয়েও ভারী রাজনীতি সরকার বলছে, বোয়িং কেনা একটি “কারিগরি ও অর্থনৈতিক” সিদ্ধান্ত। এটি এমন একটি বক্তব্য, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ABC-কে অপমান করে। বিশ্বে কোনো বড় অস্ত্র বা বিমান চুক্তি কখনোই শুধু বাণিজ্যিক নয়। ভারত যখন রাফাল কিনেছে, সেটি ছিল ফ্রান্সের সঙ্গে কৌশলগত বন্ধন। পাকিস্তান যখন চীনের JF-17 নেয়, সেটি ছিল ওয়াশিংটনের বিকল্প। তুরস্ক যখন রাশিয়ার S-400 নেয়, সেটি ছিল
ন্যাটোর বিরুদ্ধে বার্তা। বাংলাদেশ বোয়িং কিনে কী বার্তা দিচ্ছে? এটা কি বলছে—“আমরা তোমাদের দলে”? আর যদি তাই হয়, তাহলে প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্ত কি জনগণের স্বার্থে, না কূটনৈতিক হাততালির জন্য? এর ওপর আবার অভিজ্ঞতাহীন ও বিতর্কিত লোকদের বিমানের মতো কৌশলগত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বানানো হচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা। খাদ্যনীতিতেও তোষণ: পেটে আগুন, মাথায় রাজনীতি রাশিয়া যদি সস্তায় গম দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চড়া দামে গম কেনা কোন অর্থনীতির সূত্রে পড়ে? এটি কি দক্ষতা? না কি কূটনৈতিক আনুগত্য? এই বিল কে দেবে? ড. ইউনূস দেবেন না। কূটনীতিকরা দেবেন না। মন্ত্রীরা দেবেন না। দেবে সাধারণ মানুষ। ইতিহাস সাক্ষী—রোম সাম্রাজ্য ভেঙেছে খাদ্য সংকটে। আরব বসন্ত শুরু হয়েছে রুটির দামে। শ্রীলঙ্কার সরকার পড়েছে অর্থনৈতিক চাপের কারণে। বাংলাদেশ কি সেই পথে
হাঁটছে? নির্বাচন কমিশন ভবনে মারধর: রাষ্ট্রের মর্যাদা কোথায়? নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে মারধর—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপমান। যে রাষ্ট্র নিজের নির্বাচন কমিশন ভবন রক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কীভাবে ভোটকেন্দ্র রক্ষা করবে? এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়। এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের ধস। আর এই ধস যদি এখন শুরু হয়, তাহলে নির্বাচনের দিন কী হবে? আগামী ৭–১০ দিন: আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ বাংলাদেশ এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে আগামী ৭–১০ দিন রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। বিদেশি শক্তি আরও প্রকাশ্য হবে। অভ্যন্তরীণ জোটগুলো আরও সক্রিয় হবে। রাজপথ আরও উত্তপ্ত হবে। নিষিদ্ধদের নতুনভাবে হাজির করা হবে। এটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়—এটি রাজনৈতিক পদার্থবিদ্যা। শেষ কথা: রাষ্ট্র না কি জিওপলিটিক্যাল ল্যাব? ড. ইউনূস নোবেলজয়ী। কিন্তু ইতিহাস
নোবেল দেখে না—ইতিহাস সিদ্ধান্ত দেখে। যদি এই সরকার বিদেশিদের সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয়, তাহলে তারা ইতিহাসে লেখা হবে— একটি অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে নয়, বরং একটি ভীত, দোদুল্যমান, দরকষাকষিনির্ভর প্রশাসন হিসেবে। প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, না কি পরাশক্তির পরীক্ষাগার? এই প্রশ্নের উত্তর আর বেশি দূরে নয়।
এসেছে তথাকথিত “গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ” থেকে। শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ড. ইউনূস প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এটি কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। এটি কূটনৈতিক ভাষায় বলা একটাই কথা: “তোমরা আর একমাত্র অপশন নও।” ইতিহাস দেখুন। ইরাকে সাদ্দাম যখন আর ভরসার জায়গা রইলেন না, তখন বিকল্প তৈরি হলো। লিবিয়ায় গাদ্দাফি যখন অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠলেন, তখন নতুন খেলোয়াড় নামল। আফগানিস্তানে যখন কাবুল সরকার ভঙ্গুর হয়ে পড়ল, তখন সমান্তরাল যোগাযোগ শুরু হলো। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কি সেই স্ক্রিপ্টের প্রথম দৃশ্য শুরু হয়ে গেছে? নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, কিন্তু বিদেশিদের কাছে ‘ব্যাকআপ প্ল্যান’? আরও ভয়ংকর বিষয় হলো—কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী
লীগ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের গোপন বৈঠকের খবর। এটি একটি রাজনৈতিক ভূমিকম্প। কারণ, যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই দৃঢ়, গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল হতো, তাহলে বিদেশিরা কেন বিকল্প খুঁজত? এর মানে একটাই: বিদেশিরা সরকারে আস্থা রাখছে না। তারা পরিস্থিতিতে আস্থা রাখছে। এবং এই সরকারকে তারা “অস্থায়ী” ধরে নিয়েছে। বোয়িং বনাম এয়ারবাস: বিমানের চেয়েও ভারী রাজনীতি সরকার বলছে, বোয়িং কেনা একটি “কারিগরি ও অর্থনৈতিক” সিদ্ধান্ত। এটি এমন একটি বক্তব্য, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ABC-কে অপমান করে। বিশ্বে কোনো বড় অস্ত্র বা বিমান চুক্তি কখনোই শুধু বাণিজ্যিক নয়। ভারত যখন রাফাল কিনেছে, সেটি ছিল ফ্রান্সের সঙ্গে কৌশলগত বন্ধন। পাকিস্তান যখন চীনের JF-17 নেয়, সেটি ছিল ওয়াশিংটনের বিকল্প। তুরস্ক যখন রাশিয়ার S-400 নেয়, সেটি ছিল
ন্যাটোর বিরুদ্ধে বার্তা। বাংলাদেশ বোয়িং কিনে কী বার্তা দিচ্ছে? এটা কি বলছে—“আমরা তোমাদের দলে”? আর যদি তাই হয়, তাহলে প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্ত কি জনগণের স্বার্থে, না কূটনৈতিক হাততালির জন্য? এর ওপর আবার অভিজ্ঞতাহীন ও বিতর্কিত লোকদের বিমানের মতো কৌশলগত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বানানো হচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা। খাদ্যনীতিতেও তোষণ: পেটে আগুন, মাথায় রাজনীতি রাশিয়া যদি সস্তায় গম দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চড়া দামে গম কেনা কোন অর্থনীতির সূত্রে পড়ে? এটি কি দক্ষতা? না কি কূটনৈতিক আনুগত্য? এই বিল কে দেবে? ড. ইউনূস দেবেন না। কূটনীতিকরা দেবেন না। মন্ত্রীরা দেবেন না। দেবে সাধারণ মানুষ। ইতিহাস সাক্ষী—রোম সাম্রাজ্য ভেঙেছে খাদ্য সংকটে। আরব বসন্ত শুরু হয়েছে রুটির দামে। শ্রীলঙ্কার সরকার পড়েছে অর্থনৈতিক চাপের কারণে। বাংলাদেশ কি সেই পথে
হাঁটছে? নির্বাচন কমিশন ভবনে মারধর: রাষ্ট্রের মর্যাদা কোথায়? নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে মারধর—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপমান। যে রাষ্ট্র নিজের নির্বাচন কমিশন ভবন রক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কীভাবে ভোটকেন্দ্র রক্ষা করবে? এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়। এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের ধস। আর এই ধস যদি এখন শুরু হয়, তাহলে নির্বাচনের দিন কী হবে? আগামী ৭–১০ দিন: আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ বাংলাদেশ এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে আগামী ৭–১০ দিন রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। বিদেশি শক্তি আরও প্রকাশ্য হবে। অভ্যন্তরীণ জোটগুলো আরও সক্রিয় হবে। রাজপথ আরও উত্তপ্ত হবে। নিষিদ্ধদের নতুনভাবে হাজির করা হবে। এটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়—এটি রাজনৈতিক পদার্থবিদ্যা। শেষ কথা: রাষ্ট্র না কি জিওপলিটিক্যাল ল্যাব? ড. ইউনূস নোবেলজয়ী। কিন্তু ইতিহাস
নোবেল দেখে না—ইতিহাস সিদ্ধান্ত দেখে। যদি এই সরকার বিদেশিদের সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয়, তাহলে তারা ইতিহাসে লেখা হবে— একটি অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে নয়, বরং একটি ভীত, দোদুল্যমান, দরকষাকষিনির্ভর প্রশাসন হিসেবে। প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, না কি পরাশক্তির পরীক্ষাগার? এই প্রশ্নের উত্তর আর বেশি দূরে নয়।



