বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:০৫ 11 ভিউ
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে চলতি বছরে ‘অপরাধ এবং অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড’কে বাংলাদেশের প্রধানতম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগের বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের মতো বিষয় বাংলাদেশের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে স্থান পেত। এবার নির্বাচনের বছর প্রথমবারের মতো ‘অপরাধ’ সেই জায়গা নিল। গতকাল বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) জেনেভা থেকে ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় প্রধান ঝুঁকি। গত কয়েক বছরে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বা সংঘাত বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ঝুঁকির তালিকায় ছিল না। এবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্য তিনটি ঝুঁকি হলো– মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক নিম্নগতি ও ঋণ।

প্রতিবেদনে ঝুঁকির কারণ নিয়ে দেশভিত্তিক আলাদা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বার্ষিক সভা সামনে রেখে প্রতিবছর জানুয়ারিতে গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট বা বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডব্লিউইএফ। এতে জরিপের ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের পাশাপাশি নিকট মেয়াদে দেশভিত্তিক ঝুঁকির তালিকা বিষয়গুলো তুলে ধরে সতর্ক করা হয়। দেশভিত্তিক প্রধান ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে নির্বাহী মতামত জরিপ (ইওএস) চালায় ডব্লিউইএফ। এটি মূলত ধারণাভিত্তিক জরিপ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আগামী দুই বছরে আপনার দেশের জন্য প্রধান পাঁচটি ঝুঁকি কী কী, যা দেশের জন্য বড় হুমকি?’ অংশগ্রহণকারীদের ৩৪টি ঝুঁকির তালিকা দেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা পাঁচটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করেন। ডব্লিউইএফ গত বছরের মার্চ থেকে জুন সময়কালে ‘জাতীয়

ঝুঁকি ধারণা’ জরিপ করে। বিভিন্ন খাতের প্রধান নির্বাহীরা এতে অংশ নেন। জরিপে চিহ্নিত বাংলাদেশের প্রধান পাঁচ ঝুঁকির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী (অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নিযুক্ত) বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন বিস্তারিত না দেখে তাঁর পক্ষে মতামত দেওয়া কঠিন। তবে এটি ঠিক যে, বিশ্ব এখন নানাভাবে বিভক্ত। কোথায় কখন যুদ্ধ শুরু হবে, তা কেউ জানে না। সে বিবেচনায় ভূরাজনীতির ইস্যু বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে থাকবে– এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে ‘অপরাধ’ প্রধান ঝুঁকি হিসেবে থাকায় প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। ছোট জায়গার মধ্যে অনেক মানুষ

থাকে। এখানে যে অপরাধ হয় না, তা নয়; অপরাধ সব দেশেই হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও জনসমাগমে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইউএন-এসকাপের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, যারা গবেষণা বা জরিপ করছেন, তাদের দেখা উচিত সরকার কীভাবে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি একটু বেশি; কিন্তু তা অসহনীয় নয়। এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। ডলারের দরে স্থিতিশীলতা এসেছে। সরবরাহ চেইনে কিছু সমস্যা আছে। এগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অংশীদার প্রতিষ্ঠান গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বাংলাদেশে এবার ‘অপরাধ’ কেন এক

নম্বর ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হলো– জানতে চাইলে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিশেষত, ‘মব ভায়োলেন্স’-এর প্রচুর ঘটনার কারণে আগামীর ঝুঁকি হিসেবে মানুষের চিন্তায় এসেছে। এটি নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি বড় বার্তা। ‘অপরাধ’-এর সঙ্গে ‘অবৈধ বা বেআইনি অর্থনৈতিক কার্যক্রম’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী হতে পারে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, সামাজিক অপরাধ বেড়ে গেলে তার প্রভাব অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পড়ে। সেই বিবেচনায় হয়তো জরিপে অংশগ্রহণকারীরা এটিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন।’ ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বলতে ডব্লিউইএফ নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি শুল্ক এবং বিনিয়োগ পর্যালোচনার মতো বিষয় বুঝিয়েছে। এ বিষয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ভূরাজনীতির ভূমিকা

অনেক বড়, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ততা বৃদ্ধি যার অন্যতম কারণ। ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষত রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে বড় প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নে অনেক সময় ভূরাজনীতির প্রভাব থাকে। এ ধরনের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য ভূরাজনৈতিক ইস্যু বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি

একটু কমলেও তা এখন অনেক উচ্চ পর্যায়ে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে যথেষ্ট ধীরগতি রয়েছে। ফলে জরিপে যেসব ঝুঁকির কথা এসেছে, সেগুলো আমলে নিয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ এসেছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে, যেহেতু অনেক বেশি মানুষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের বঞ্চিত মনে করছে এবং জীবনমান উন্নতির আশা হারাচ্ছে, তাই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। যেমন– বাংলাদেশ ও নেপালে ২০২৪ সালে এবং শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে। আগের বছরগুলোতে কোন কোন ঝুঁকি ছিল ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৫’-এ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল মূল্যস্ফীতি। কেননা, এর আগের বছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি ছিল। অন্য চার ঝুঁকির মধ্যে ছিল যথাক্রমে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, পরিবেশদূষণ, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক নিম্নগতি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৪ সালের রিপোর্টে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ছিল নিকট মেয়াদে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বাকি চারটি ঝুঁকি ছিল– মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক নিম্নগতি, সম্পদ ও আয়বৈষম্য এবং সরকারের ঋণ ও নিম্ন কর্মসংস্থান। ২০২৩ সালের রিপোর্টে এক নম্বরে ছিল মূল্যস্ফীতি। অন্য চার ঝুঁকি ছিল– ঋণ সংকট, পণ্যমূল্যের গুরুতর অভিঘাত বা প্রভাব, মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয় এবং সম্পদের ওপর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। ২০২২ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি ছিল কর্মসংস্থান ও জীবিকা। অন্য প্রধান ঝুঁকির মধ্যে ছিল ডিজিটাল বৈষম্য, কৌশলগত সম্পদের ভূরাজনীতি, মানুষের দ্বারা পরিবেশের ক্ষতিসাধন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সাইবার নিরাপত্তায় ব্যর্থতা। পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারাদেশে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে তিন হাজার ৭৮৫টি। আগের বছরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেশি। ২০২৪ সালে তিন হাজার ৪৩২টি খুন, ৬৪২টি অপহরণ ও ১৭ হাজার ৫৭১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অবশ্য পুরোনো ঘটনায় ২০২৫ সালে বেশ কিছু মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে উঠে আসে। ২০২৫ সালে দেশে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ১০২টি। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক অপহরণ হয়েছে। সারাদেশে অপহরণের ঘটনা ঘটে এক হাজার ১০২টি। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। এই হিসাবে অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬০টি; শতাংশের হিসাবে ৭১ দশমিক ৬৫। এর আগে ২০২৩ সালে অপহরণের ঘটনা ৪৬৩, ২০২২ সালে ৪৬০ ও ২০২১ সালে ৪৪৫টি। অপরাধের অন্যান্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঝলমলে চুল পেতে জাপানিরা যেভাবে যত্ন নেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের মেডেল ‘উপহার’ দিলেন মাচাদো নোবেল পুরস্কার ‘হস্তান্তরযোগ্য নয়’, বলল নোবেল পিস সেন্টার আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে কিনা- সন্দেহ দেবপ্রিয়র পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারী বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত স্থগিত হয়ে যেতে পারে বিপিএল আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম ও ঐতিহ্যের মহামিলন *নির্বাচনী চাপে দায়িত্ব পালনের ফলে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু: ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যু ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন *ডলার সংকটে গ্যাস আমদানি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে* *বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর মার্কিন স্যাংশন,কূটনৈতিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা* ❝পোস্টাল ব্যালট ও ট্রান্সফার করা ভোটব্যাংক হলো জামাত এনসিপি জোটের ডামি নির্বাচনের সুপরিকল্পিত কৌশল❞ পাকিস্তানের ইশারায় ক্রিকেট ধ্বংস, ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা আর আসিফ নজরুলের নীরবতা—বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ নেতৃত্বহীন লাশ শিবির ক্যাডারদের হাতে কারাগার, কারাগারে আটকে আওয়ামী লীগের উপর চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্বীকৃত সত্য : দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির শিরোমণি বাংলাদেশ এখন রাজাকারের সাথে কে যোগ দিছে? বলেন আপনারা দেশের মানুষ” – জনতার কথা যারা মেধার কথা বলে রাজপথ জ্বালিয়েছিল, তারাই আজ কোটা খেয়ে সরকারি অফিসে— কোটা আন্দোলনের মুখোশে ক্ষমতার সিঁড়ি, সাধারণ ছাত্রদের ভাগ্যে শুধু ধোঁকা!