ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৫ মার্চ ১৯৭১- টঙ্গীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড ও বিক্ষোভ
শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় মহাসড়কে রূপের জাদু
দারিদ্র্যতা আর জাদুঘরে গেল না, গেল মানুষের সংসার
নারী হওয়ার আগেই কন্যাশিশুরা ধর্ষিত হয়ে মরছে—জাইমা রহমান কি জানেন সুবিধাবঞ্চিতদের কথা?
ছিনতাইয়ের স্বর্ণযুগ: ১০ শতাংশের দিন শেষ, ৩০ শতাংশের বাংলাদেশ
২রা মার্চ: ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ
নতুন গভর্নর কি ঋণখেলাপি!
নারী অধিকার সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা, জামায়াতের হুমকি এবং বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের নারী অধিকার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সীমিত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, ইসলামী জোটগুলোর বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে ৪৪৩টি সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।বিনিয়োগ সুযোগ
নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি অধ্যাদেশ—পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ—পাস করে যায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষাপটে, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী জোটের সাথে সম্পর্কিত রাজনৈতিক দলগুলোর নারীবিরোধী অবস্থানের কারণে নারী নীতি বাস্তবায়ন এবং সরকারি চাকরিতে নারী কোটা পুনর্বহালের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার, যারা জামায়াতের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চাপে রয়েছে, তারা কি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারী অধিকারকে
অগ্রাধিকার দিতে পারবে? অন্তর্বর্তী সরকারের নারী সংস্কারে ব্যর্থতা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নারী অধিকার সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করে। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ২৩ সদস্যের এই কমিশন ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড, উত্তরাধিকার আইন সংস্কার, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ ব্যাপক সুপারিশ প্রস্তুত করে। কিন্তু সূত্রমতে, কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি বিষয়ে অধ্যাদেশ পাস করা হয়: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এই দুটি অধ্যাদেশ পারিবারিক সহিংসতা (শারীরিক, মানসিক, যৌন এবং অর্থনৈতিক) এবং যৌন হয়রানি (কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) প্রতিরোধে কমিটি গঠন, শাস্তি প্রদান এবং সাপোর্ট সিস্টেম
(আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনি সাহায্য) চালু করার বিধান রাখে। এগুলো ২০১০ সালের আইনগুলোকে প্রতিস্থাপন করে আরও ব্যাপক সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু কমিশনের অন্যান্য সুপারিশগুলো, যেমন উত্তরাধিকারে সমান অধিকার বা নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, জামায়াতে ইসলামী এবং হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী জোটগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই জোটগুলো সমান অধিকারকে “পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা” বলে বর্ণনা করে এবং নারীদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে যুক্তি দেখায়। ফলে, সরকারের আমলে নারী অধিকারে সহিংসতা বাড়ার অভিযোগ উঠেছে, এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থা এই পদক্ষেপগুলোকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছে। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী জোটের নারীবিরোধী অবস্থান জামায়াতে ইসলামী, যারা ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতে
প্রধান বিরোধী দল হয়েছে, নারী অধিকারের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান নারীদের নেতৃত্বকে “অযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে “নৈতিক অধঃপতন” বা “পতিতাবৃত্তির রূপ” বলে অভিহিত করেছেন।ইউনূস জীবনী নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমালোচকরা পিতৃতান্ত্রিক বলে দেখেন। এই অবস্থান নারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিএনপি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ: নারী নীতি বাস্তবায়ন এবং কোটা পুনর্বহাল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ২১২টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। দলটি জামায়াতের সাথে আনুষ্ঠানিক জোট না করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, সংসদে
জামায়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপি নির্বাচনে ১০ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জন জিতেছে, এবং ক্যাবিনেটে ৩ জন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করেছে। দলের নেতা তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং সরকারকে নারীবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, সরকারি চাকরিতে নারী কোটা পুনর্বহালের বিষয়টি জটিল। ২০২৪ সালের কোটা প্রতিবাদে নারী কোটা সহ সব কোটা স্থগিত হয়, যা নারীদের চাকরিতে অংশগ্রহণ কমিয়েছে। নারী সংগঠনগুলো কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু জামায়াতের মতো জোটের চাপে বিএনপি কি এটি করতে পারবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সুপারমেজরিটি দিয়ে সংস্কার সম্ভব, কিন্তু রক্ষণশীল গ্রুপের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে হলে নারী নীতিতে আপস
করতে হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত পদক্ষেপ সত্ত্বেও, নতুন বিএনপি সরকারের সামনে নারী অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। জুলাই সনদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি আছে, যা রেফারেন্ডামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে, জামায়াতের প্রভাব এবং রক্ষণশীল মতাদর্শের চাপে নারীবান্ধব সংস্কার কতটা সম্ভব, তা দেখার অপেক্ষা। নারী অধিকারকর্মীরা আশা করছেন, সরকার জেনারেল জেডের আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, অন্যথায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
অগ্রাধিকার দিতে পারবে? অন্তর্বর্তী সরকারের নারী সংস্কারে ব্যর্থতা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নারী অধিকার সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করে। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ২৩ সদস্যের এই কমিশন ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড, উত্তরাধিকার আইন সংস্কার, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ ব্যাপক সুপারিশ প্রস্তুত করে। কিন্তু সূত্রমতে, কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি বিষয়ে অধ্যাদেশ পাস করা হয়: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এই দুটি অধ্যাদেশ পারিবারিক সহিংসতা (শারীরিক, মানসিক, যৌন এবং অর্থনৈতিক) এবং যৌন হয়রানি (কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) প্রতিরোধে কমিটি গঠন, শাস্তি প্রদান এবং সাপোর্ট সিস্টেম
(আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনি সাহায্য) চালু করার বিধান রাখে। এগুলো ২০১০ সালের আইনগুলোকে প্রতিস্থাপন করে আরও ব্যাপক সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু কমিশনের অন্যান্য সুপারিশগুলো, যেমন উত্তরাধিকারে সমান অধিকার বা নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, জামায়াতে ইসলামী এবং হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী জোটগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই জোটগুলো সমান অধিকারকে “পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা” বলে বর্ণনা করে এবং নারীদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে যুক্তি দেখায়। ফলে, সরকারের আমলে নারী অধিকারে সহিংসতা বাড়ার অভিযোগ উঠেছে, এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থা এই পদক্ষেপগুলোকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছে। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী জোটের নারীবিরোধী অবস্থান জামায়াতে ইসলামী, যারা ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতে
প্রধান বিরোধী দল হয়েছে, নারী অধিকারের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান নারীদের নেতৃত্বকে “অযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে “নৈতিক অধঃপতন” বা “পতিতাবৃত্তির রূপ” বলে অভিহিত করেছেন।ইউনূস জীবনী নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমালোচকরা পিতৃতান্ত্রিক বলে দেখেন। এই অবস্থান নারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিএনপি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ: নারী নীতি বাস্তবায়ন এবং কোটা পুনর্বহাল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ২১২টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। দলটি জামায়াতের সাথে আনুষ্ঠানিক জোট না করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, সংসদে
জামায়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপি নির্বাচনে ১০ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জন জিতেছে, এবং ক্যাবিনেটে ৩ জন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করেছে। দলের নেতা তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং সরকারকে নারীবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, সরকারি চাকরিতে নারী কোটা পুনর্বহালের বিষয়টি জটিল। ২০২৪ সালের কোটা প্রতিবাদে নারী কোটা সহ সব কোটা স্থগিত হয়, যা নারীদের চাকরিতে অংশগ্রহণ কমিয়েছে। নারী সংগঠনগুলো কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু জামায়াতের মতো জোটের চাপে বিএনপি কি এটি করতে পারবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সুপারমেজরিটি দিয়ে সংস্কার সম্ভব, কিন্তু রক্ষণশীল গ্রুপের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে হলে নারী নীতিতে আপস
করতে হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত পদক্ষেপ সত্ত্বেও, নতুন বিএনপি সরকারের সামনে নারী অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। জুলাই সনদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি আছে, যা রেফারেন্ডামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে, জামায়াতের প্রভাব এবং রক্ষণশীল মতাদর্শের চাপে নারীবান্ধব সংস্কার কতটা সম্ভব, তা দেখার অপেক্ষা। নারী অধিকারকর্মীরা আশা করছেন, সরকার জেনারেল জেডের আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, অন্যথায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।



