জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ, উত্তেজনা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ August, ২০২৬

জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ, উত্তেজনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ August, ২০২৬ |
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ ছাত্র ও পথচারীরা আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সায়েন্সল্যাব মোড়ে ঢাকা কলেজে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষে একাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন। বিকেলে সায়েন্সল্যাব মোড়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন। লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী

জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। সভার শুরুর আগে কক্ষ ডেকোরেশনের সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সভায় বাধা ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মারধর করেন। এ ঘটনার পর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের মূল ফটক ও নায়েমের গলিতে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান করছেন। অপরপাশে ঢাকা কলেজের বিপরীতে মেঘনা ফিলিং স্টেশনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। ঢাকা কলেজ ঢাকা কলেজের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অবস্থান/ছবি: শাকিল আহমেদ ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী

আহত হয়েছেন। ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, শিবির সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ভাইদের হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। আমরা আমাদের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এখানে অবস্থান নিয়েছি। সন্ত্রাসীদের কোনো কার্যক্রম এ ক্যাম্পাসে হবে না। আমরা শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করব। কোনোভাবেই এই ক্যাম্পাসে তাদের রাজনীতি করতে দেব না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ দুপুরে পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আহতরা পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সেখানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও

ছাত্রদলের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস ছাড়া করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় ২০-৩০ জন আহত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আদালত পাড়ায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসায় উত্তেজনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বকশিবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। উভয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানেও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ

আল মামুন বলেন, ছাত্রদল ও শিবিরের দুই গ্রুপের মাঝে পুলিশ অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুই ছাত্রদল নেতা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন– সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭)। আহত রাব্বি জানান, তিনি ওই মাদ্রাসার ছাত্র নন। তবে সেখানে তার অনেক বন্ধু রয়েছে। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আড্ডা দেওয়ার সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন

তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত ও পড়ে গিয়ে বাম হাতে চোট লেগেছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা এলাকার চারপাশে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের