জবিতে মন্দিরের পাশে ‘গরু ভোজ’ বিতর্ক: ওপরে ওপরে সম্প্রীতির বাণী, নেপথ্যে ছাত্রশক্তি নেতার সংশ্লিষ্টতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬

জবিতে মন্দিরের পাশে ‘গরু ভোজ’ বিতর্ক: ওপরে ওপরে সম্প্রীতির বাণী, নেপথ্যে ছাত্রশক্তি নেতার সংশ্লিষ্টতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬ |
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মন্দিরের পাশে গরুর মাংস রান্না ও পরবর্তী সময়ে গরু জবাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজার আগে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ‘জবিয়ানস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে গরু জবাইয়ের কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখের ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ১২ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি আয়োজনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়। রান্নার স্থান কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের

মধ্যে আপত্তি তৈরি হয়। ঘটনাটি পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জন্ম দেয়। পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ গরু জবাই ও ভোজের কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এ কর্মসূচিকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ‘জবিয়ানস’ পেজের অর্থ সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জবিয়ানস’ নামে একটি পেজ থেকে গরু জবাইয়ের কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়। অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া ব্যাংক হিসাবটি জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির জুলাইবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস শেখের। একইভাবে, অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া বিকাশ নম্বরটিও তার বলে দাবি করা হয়েছে। দাবির পক্ষে

অভিযোগকারীরা একটি ফটোকার্ড ও ট্রুকলার স্ক্রিনশটের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গত, ‘জবিয়ানস’ পেজটি এর আগে জকসু নির্বাচনের সময় শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রচারণা চালিয়েছিল। পূজার সময়ে জবি খেলাফত ছাত্র মজলিসের ‘সম্প্রীতিভোজ ও কাওয়ালী সন্ধ্যা’ আয়োজনের প্রচারও পেজটি থেকে করা হয়েছিল। তবে একই আয়োজনের পোস্ট শেয়ার করে ফেরদৌস শেখ দ্বিমত প্রকাশ করেছিলেন বলেও অভিযোগকারীদের বক্তব্য। এক্ষেত্রে পেজটির পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি প্রচারের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পেজটির প্রকৃত পরিচালকদের পরিচয়, পোস্টগুলোর প্রেক্ষাপট এবং ফেরদৌস শেখের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সম্প্রীতির বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে মন্দিরের পাশে গরু জবাই করে মাংস রান্না নিয়ে আপত্তি,

অন্যদিকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গরু জবাইয়ের কর্মসূচি—দুটি ঘটনাই ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ‘জবিয়ানস’ পেজের আগের কার্যক্রম এবং বর্তমান কর্মসূচিতে অর্থ সংগ্রহের তথ্যের মধ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকতে পারে। এ কারণে পেজটির পেছনে কারা রয়েছেন এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ কে পরিচালনা করেছেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এদিকে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া এক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই গরুর মাংস রান্না করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জয় সাহা ধর্মীয় ইস্যু

তৈরি করেছেন এবং জবি ছাত্রদল তাতে উসকানি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শাহীন মিয়া দাবি করেন, গরুর মাংস রান্নার ঘটনার সঙ্গে জাতীয় ছাত্রশক্তির কোনো নেতা-কর্মীর বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। সংগঠনটি কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয় না এবং ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন শাহীন মিয়া। তবে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হলেও ফেরদৌস শেখের নামে অর্থ সংগ্রহের হিসাব ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পর্কে সংগঠনটি কোন মন্তব্য জানায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের