কারাগারে দেড় বছরে ঝরল ১১২ প্রাণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কারাগারে দেড় বছরে ঝরল ১১২ প্রাণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
কারাগারে হত্যা ও মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিলে এবার যুক্ত হলো সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের নাম। গতকাল রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—গত দেড় বছরে কারা হেফাজতে ১১২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। ২০২৪ সালজুড়ে মারা গেছেন ৬৫ জন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ৯৫। ভুক্তভোগী পরিবার ও দলীয় অভিযোগ, এসব মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অংশ। নিহতদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ

থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, খলিলুর রহমান ও ড. আলী রীয়াজের তথাকথিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সুক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলখানায় এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। কারাগারে আটক নেতা-কর্মীদের প্রাপ্য চিকিৎসা ও আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। কারা কর্তৃপক্ষের নথিতে অধিকাংশ মৃত্যুকে ‘বার্ধক্যজনিত’ বা ‘হৃদরোগ’ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সুচিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ প্রকট। চট্টগ্রামের ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ৮১ বছর বয়সী আব্দুর রহমান মিয়া ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া

হয়নি, এমনকি পরিবারের পৌঁছে দেওয়া ওষুধও তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয়েছে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনেরও। মৃতদের তালিকায় শুধু জ্যেষ্ঠ নেতারাই নন, রয়েছেন অনেক তরুণ ও মধ্যবয়সী নেতা-কর্মী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বগুড়া কারাগারে আটক ছয়জন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক বা অসুস্থতার’ দাবি করলেও পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নিহত একজনের সন্তান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা কখনোই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ছিলেন না এবং মৃত্যুর আগে সাক্ষাতের সময়ও তিনি সুস্থ ছিলেন। গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ৫৫ বছর বয়সী তারিক রিফাতের। তাঁর মৃত্যু

নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে রিমান্ডে নেওয়ার সময় মারা যান বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ৪৩ বছর বয়সী ওয়াসিকুর রহমান বাবু। কারা কর্তৃপক্ষ একে ‘হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ’ বলে দাবি করলেও পরিবারের দাবি, রিমান্ডে নেওয়ার পথে নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কারা হেফাজতে (কাস্টোডিয়াল ডেথ) প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা বিচারবিভাগীয় তদন্তযোগ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে এবং তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। ফলে কারাগারের চার দেয়ালে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সড়কে স্ত্রীকে মারধর করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার যুবক, ভিডিও ভাইরাল বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার সীমান্ত নিয়ে নতুন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হওয়া থেকে বেঁচে গেছে পশ্চিমবঙ্গ: অগ্নিমিত্রা হরমুজ ‌‘চিরতরে’ বন্ধ ও বাহরাইনকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল ইরান ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের বিদেশিদের অপরাধের জাল অনভিজ্ঞ পর্ষদে বড় ক্ষতি ৯ দিন বৃষ্টির আভাস যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন মুন্সীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড: নিউইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ সালিশে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ২ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে চারশ পেরিয়ে অলআউট বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ‘যথাসময়ে’ জবাব দেবে ইরান ৫ মন্ত্রী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাত্রা শুরু শুভেন্দু সরকারের সন্তানের বকেয়া শোধ না করলে পাসপোর্ট বাতিল