এবার নিশানা বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি : হাজার বছরের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি মুছে বর্বর ধর্মরাষ্ট্রের স্বপ্ন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১:৩৭ অপরাহ্ণ

এবার নিশানা বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি : হাজার বছরের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি মুছে বর্বর ধর্মরাষ্ট্রের স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১:৩৭ 19 ভিউ
পুরনো ঢাকার মানুষ এবার শীতকালে আকাশে ঘুড়ি দেখবে না। পৌষ সংক্রান্তির সেই চিরচেনা উৎসব, যেখানে শাঁখারী বাজার থেকে নবাবপুর পর্যন্ত প্রতিটি ছাদে রঙিন ঘুড়ি উড়ত, সেখানে এবার নিস্তব্ধতা। কারণ, জুলাই মাসের রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইউনুস সরকার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব নিষিদ্ধ করেছে। আর এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে তাদের মূল সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর চাপ। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যেটা সবচেয়ে হাস্যকর, সেটা হলো এর ভিত্তি। বলা হচ্ছে ঘুড়ির সুতায় পাখি মরে, শব্দদূষণ হয়, আবার কেউ কেউ বলছে এটা ইসলামবিরোধী। প্রথমত, ঘুড়ির সুতায় পাখি মরার চেয়ে ঢাকা শহরের বহুতল ভবনের কাচে ধাক্কা খেয়ে, বায়ুদূষণে, মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে প্রতিদিন যত পাখি মরছে তার হিসাব

কই? বছরজুড়ে যে লাখ লাখ টন প্লাস্টিক বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয়, যে শিল্পকারখানার বর্জ্য নদী দূষিত করছে, সেটা নিয়ে তো কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে না। শব্দদূষণের অভিযোগ আরও হাস্যকর। সারা বছর ঢাকা শহরে যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ, আর সবচেয়ে বড় কথা, উচ্চ ক্ষমতার মাইকে যে ওয়াজ মাহফিল হয়, যেখানে কান ফাটানো আওয়াজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিৎকার চলে, সেখানে তো শব্দদূষণ হয় না? রমজান মাসে তারাবীর সময় যে মাইকের শব্দ পুরো এলাকা কাঁপিয়ে দেয়, সেটা কি পরিবেশবান্ধব? কিন্তু সেসব নিয়ে তো কেউ মুখ খোলে না। কারণ সেটা ধর্মের নামে হচ্ছে। আর পৌষ সংক্রান্তি বাঙালির সংস্কৃতি, তাই সেটা নিষিদ্ধ করা যায়। এখন আসি ইসলামবিরোধী হওয়ার

অভিযোগে। পৌষ সংক্রান্তি কবে থেকে ইসলামবিরোধী হলো? ঘুড়ি ওড়ানো, পিঠা খাওয়া, শীতের ফসল তোলার আনন্দ উদযাপন করা কোন ইসলামিক বিধানের বিরুদ্ধে যায়? কোরআনে কি ঘুড়ি ওড়ানো নিষেধ আছে? হাদিসে কি পিঠা খাওয়া গুনাহ? এই যুক্তি মানলে তো ঈদে সেমাই খাওয়াও নিষেধ করা উচিত, কারণ সেটাও তো একটা সাংস্কৃতিক প্রথা। কিন্তু না, জামায়াতে ইসলামীর কাছে ইসলাম মানে তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা। যা কিছু বাঙালিত্বের পরিচয় বহন করে, সবই তাদের কাছে হারাম। জামায়াতে ইসলামী এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে বাঙালি হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের নেতা গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা সবাই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রমাণিত এবং বিচারে দণ্ডিত।

এই সংগঠনটির মূল আদর্শই হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা। তারা চায় এদেশকে একটা পাকিস্তানি ধাঁচের ধর্মরাষ্ট্র বানাতে, যেখানে বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালির ঐতিহ্য সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর ইউনুস? এই লোকটা সুদ দিয়ে ব্যবসা করেছে সারা জীবন। গ্রামীণ ব্যাংকের নামে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে যে হারে সুদ নিয়েছে, তাতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট ইন্ডাস্ট্রির যে অন্ধকার দিক, যেখানে দরিদ্র নারীরা ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে আত্মহত্যা করেছে, সে সব তথ্য এখন আর গোপন নেই। বিশ্বব্যাংক নিজেই মাইক্রোক্রেডিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু ইউনুস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, আর সেই পুরস্কারের ঢাল নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত

আন্দোলন ছিল না। এটা ছিল সুপরিকল্পিত ক্যু। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হলো, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হলো, সরকারি স্থাপনা জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, সেটা কোনো সাধারণ আন্দোলনের চরিত্র ছিল না। এর পেছনে বিদেশি অর্থায়ন ছিল, জঙ্গিগোষ্ঠীর সংগঠিত উপস্থিতি ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা, সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন ছিল। নইলে একটা নির্বাচিত সরকারকে এভাবে উৎখাত করা সম্ভব হতো না। ক্ষমতায় আসার পর এই সরকার যা করছে, তাতে তাদের আসল চেহারা স্পষ্ট। বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, সংবিধান সংশোধনের নামে মৌলিক কাঠামো ভেঙে ফেলার চেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার উদ্যোগ, এবং এখন সাংস্কৃতিক উৎসব নিষিদ্ধ করা। এগুলো সব একটা বড় পরিকল্পনার

অংশ। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটা ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে জামায়াত আর তাদের মতাদর্শীরা নিয়ন্ত্রণ রাখবে। পৌষ সংক্রান্তি নিষিদ্ধ করার ঘটনা এই পরিকল্পনার একটা ধাপ মাত্র। এটা শুধু একটা উৎসব নিষিদ্ধ করা নয়, এটা বাঙালির অস্তিত্বের ওপর আঘাত। পৌষ সংক্রান্তি হিন্দু উৎসব নয়, এটা বাঙালির উৎসব। মুসলিম পরিবারেও এই দিনে পিঠা তৈরি হয়, ঘুড়ি ওড়ানো হয়। পুরনো ঢাকার যে মিশ্র সংস্কৃতি, যেখানে হিন্দু-মুসলিম একসাথে বাস করে, একসাথে উৎসব করে, সেটাই জামায়াতের চোখে কাঁটা। কারণ এই সহাবস্থান তাদের বিভাজনের রাজনীতিতে বাধা। এখন প্রশ্ন হলো, এই নিষেধাজ্ঞা কারা দিল? কোন ক্ষমতাবলে দিল? ইউনুস সরকার কি নির্বাচিত? তাদের কি জনগণের ম্যান্ডেট আছে? একটা ক্যু

সরকার, যারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের সাংস্কৃতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কে? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা একটা মৌলিক অধিকার। কিন্তু যে সরকার নিজেই অবৈধ, তারা সংবিধান মানবে কেন? দেশটা কারো একার নয়। এটা ১৭ কোটি মানুষের দেশ, যারা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছে। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটা বড় অংশ ছিল বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধীনতা। পাকিস্তান আমলে যেভাবে বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতিকে দমন করা হয়েছিল, সেই দমনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই তো এই স্বাধীনতা এসেছিল। আর এখন সেই স্বাধীন দেশেই বাঙালি সংস্কৃতি নিষিদ্ধ হচ্ছে? এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? যারা মনে করছে তারা যা বলবে সবাই মেনে নেবে, তারা ভুল করছে। বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করেনি। ১৯৫২ তে ভাষার জন্য বুক পেতে দিয়েছি, ১৯৭১ এ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। এখন যদি সংস্কৃতির জন্য লড়তে হয়, সেটাও করব। ইউনুস আর জামায়াত যতই বিদেশি টাকা আর বন্দুকের জোর পাক, শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই তাদের জবাবদিহি করতে হবে। আর সেদিন বেশি দূরে নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন