ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে দুপক্ষের দাবিদাওয়া সমুহ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৭ মার্চ, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে দুপক্ষের দাবিদাওয়া সমুহ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৭ মার্চ, ২০২৬ |
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নিকট ভবিষ্যতেও আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তার এই বক্তব্য সরাসরি বিরোধিতা করছে হোয়াইট হাউজের দাবি, যেখানে বলা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা “চলমান” এবং “গঠনমূলক”। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাব ও বার্তা পাঠাচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বার্তা আদান-প্রদানকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা দরকষাকষি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সে

বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি কথিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ অস্তিত্ব স্বীকার করেনি, তবুও তারা বলেছে যে এতে “আংশিক সত্যতা” রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার

বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়, এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এখানে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। এর বিপরীতে ইরানও নিজেদের শর্ত তুলে ধরেছে। দেশটির পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে যে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রথমেই সব ধরনের সামরিক হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আবার এ ধরনের যুদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তেহরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলকে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এই সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র

ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করে, যার ফলে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আকার ধারণ করে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করছেন। একই সময়ে ইসরায়েলও তাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য “মরিয়া” হয়ে উঠেছে এবং তারা একটি “গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব” দিয়েছে, যা মূলত জ্বালানি সম্পদ ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। তবে তিনি এ বিষয়ে

বিস্তারিত কিছু জানাননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের শর্তে সমাধান চায় এবং কোনো পক্ষই আপসের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এছাড়া এই সংঘাত এমন এক সময় শুরু হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বাস্তবতা হলো—মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কৌশল পরিস্থিতিকে আরও

অনিশ্চিত করে তুলেছে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নেত্রকোণায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জুলাই স্তম্ভে আগুন, ভিডিও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ বুকে পাঁচটা তারকা আর কারও নেই: ব্রুনো গিমারেস মেসির গোলে প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা নোয়াখালীতে শিশুসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তার: জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি নোটিশ ‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার সংসদে ইসলামী ব্যাংক দখল সংক্রান্ত আলোচনায় মনক্ষুণ্ন ইআবা নেতা গাজী আতাউর নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!