আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিরোধ বাড়লে ‘নারীবিরোধী’ জামায়াত বড় সাফল্য পেতো: ব্রিটিশ এমপি রুপা হক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে

‘বিদেশের বন্ধু নিয়ে শোকাতুর ইউনূস নিজের দেশের শিশুদের গণমৃত্যুতে নির্বিকার’

হিমাগারে সংরক্ষন ব্যায়বহুল বিধায় আলু ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা, সামনে কৃষি সংকটের আশঙ্কা

ইউনূস-নুরজাহানের সৃষ্ট হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুঃ সাবেক মুখপাত্র শফিকুল ইউনিসেফ-আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপালেন দুর্নীতির দায়

বাংলাদেশে ধর্ষণ মহামারি: মাদ্রাসা থেকে রাজপথ — নিরাপদ নয় কোনো শিশু, কোনো নারী

বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স-২০২৬ কি আদৌ মুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে?

‘সক্ষমতা বাড়াতে’ দরপত্র ছাড়াই র‌্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন

আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিরোধ বাড়লে ‘নারীবিরোধী’ জামায়াত বড় সাফল্য পেতো: ব্রিটিশ এমপি রুপা হক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে ‘দুই পক্ষই খারাপ’—এ ধরনের জনঅসন্তোষ যদি সমাজজুড়ে আরও বিস্তৃত হতো, তাহলে সদ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত ইসলামি আদর্শভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় সাফল্য পেতে পারত বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির বাংলাদেশ বংশভূত সংসদ সদস্য রুপা হক। এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারতো। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল বিএনপি বড় ব্যবধানে জয় পেলেও রাজনৈতিক হতাশা যদি গভীরতর হতো, তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারত। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ দৈনিক The Telegraph–এ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ নিডস অ্যা নিউ স্টার্ট–বাট উইল গেট ইট ওয়ান?’ শীর্ষক নিবন্ধে রুপা হক এসব

কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সময়টি পুরোনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ারও কারণ নেই বলেও তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের কিংস্টনে অবস্থানের পর দেশে ফিরেছেন এবং এখন দলের উত্তরসূরি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার আমলে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি লেখেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অডিও বার্তায় সর্বশেষ নির্বাচনকে ‘একতরফা প্রহসন’ এবং ইউনূস সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গণভোট ও ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ রুপা হক লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের গণভোট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের

মতে, এটি ছিল ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ ধরনের কঠোর ভোটের প্রস্তাব। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। তার ভাষায়, তিনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রুপা হক বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার স্মৃতি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মামলা, নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের চক্রও ফিরে আসে। প্রবাসী ভোট ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিবন্ধে তিনি ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কর্মস্থলে এক সহকর্মী তাকে জানান, তিনি প্রবাসী ভোট দিয়েছেন এবং তার পছন্দ ছিল জামায়াত। রুপা হক প্রশ্ন করেছিলেন, “ইসলামপন্থীরা?” জবাবে সহকর্মী বলেন, “একবার ওদেরও সুযোগ দিয়ে দেখা যাক।” তিনি অবশ্য মন্তব্য করেন,

একজনের মতামত দিয়ে সামগ্রিক চিত্র বোঝা যায় না। তবে এটি একটি প্রবণতার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরোনো চক্রের পুনরাবৃত্তি রুপা হক স্মরণ করেন, ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে তিনি দুই প্রধান নেত্রীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন শেখ হাসিনার দল সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ আসন দখলে রেখেছিল এবং বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পথে ছিল। তার বিশ্লেষণে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই অবিশ্বাসের রাজনীতি তীব্র হয়েছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা প্রতিপক্ষকে দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা করে; আর বিরোধীরা নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগে বর্জন করে। এই চক্র বারবার ফিরে আসে। পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নতুন প্রজন্ম তিনি লেখেন, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক রাজতন্ত্র নেই, তবু রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক। জিয়াউর

রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব নেন; ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পান। তার মতে, এই বাস্তবতায় নতুন ও সতেজ রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন ছিল। ছাত্রদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি ‘বাংলাদেশ–২.০’-এর সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নতুন গঠিত ছাত্রদল এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে তিনি বিস্ময়কর বলে আখ্যা দেন। সামনে কোন পথ? রুপা হক বলেন, পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে বাংলাদেশ সামরিক শাসন, হত্যাকাণ্ড, গুম, সাজানো নির্বাচন ও অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা দেখেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হয়েছে। তার প্রশ্ন—এবার কি সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে, নাকি পুরোনো অভ্যাসই আবার ফিরে আসবে? তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পারস্পরিক বিরোধ যদি আরও

তীব্র হতো এবং জনমনে হতাশা বাড়ত, তাহলে জামায়াত বড় রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারত। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছে, সেটি কতটা বাস্তব রূপ পাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মুন্সীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড: নিউইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ সালিশে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ২ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে চারশ পেরিয়ে অলআউট বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ‘যথাসময়ে’ জবাব দেবে ইরান ৫ মন্ত্রী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাত্রা শুরু শুভেন্দু সরকারের সন্তানের বকেয়া শোধ না করলে পাসপোর্ট বাতিল চার মাস পর্যন্ত অবরোধে টিকে থাকতে পারে ইরান, সিআইএ রিপোর্টে নতুন তথ্য মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেগুনি শাড়িতে রাজকীয় সাজে মেহজাবীন স্কুল-কলেজের চেয়ে বেশি ঈদের ছুটি মাদরাসায় আর পুরোপুরি গোপনীয় থাকছে না এআই-আড্ডা শেরপুরে ১১ বছরের শিশু-কে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগঃ মরদেহ টয়লেট থেকে উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক ‘বিদেশের বন্ধু নিয়ে শোকাতুর ইউনূস নিজের দেশের শিশুদের গণমৃত্যুতে নির্বিকার’ হিমাগারে সংরক্ষন ব্যায়বহুল বিধায় আলু ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা, সামনে কৃষি সংকটের আশঙ্কা ইউনূস-নুরজাহানের সৃষ্ট হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুঃ সাবেক মুখপাত্র শফিকুল ইউনিসেফ-আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপালেন দুর্নীতির দায় বাংলাদেশে ধর্ষণ মহামারি: মাদ্রাসা থেকে রাজপথ — নিরাপদ নয় কোনো শিশু, কোনো নারী