ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফয়েজ আহমেদ তৈয়বের সবার আগে দেশত্যাগ ও আইসিটি খাতে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ
স্ক্রিনশট ফাঁস করে ‘প্রিয় তারেক রহমান’ সম্বোধনে ঢাবি শিক্ষক মোনামির আকুতিভরা পোস্ট ভাইরাল
ধানমন্ডি ৩২ শে যাওয়া কি অপরাধ?
“আমার মা কখনও কাউকে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেননি, শুধুমাত্র যারা পুলিশ বা অন্যদের ওপর হামলা করছিল, তাদের ক্ষেত্রে ছাড়া।” – সজীব ওয়াজেদ
নিরঙ্কুশ জয়, এখনো সরকার গঠন হয়নি: এর আগেই ধানমন্ডিতে ঢাবি শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্ছিত, প্রশ্নবিদ্ধ ‘ভবিষৎ গণতন্ত্র’
ছয়বার জামিন পেয়েও মেলেনি মুক্তি, কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃত্যু
গণতন্ত্রের নতুন সমীকরণ: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ ও বিএনপির ‘কৌশলী’ দাবার চাল
আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিরোধ বাড়লে ‘নারীবিরোধী’ জামায়াত বড় সাফল্য পেতো: ব্রিটিশ এমপি রুপা হক
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে ‘দুই পক্ষই খারাপ’—এ ধরনের জনঅসন্তোষ যদি সমাজজুড়ে আরও বিস্তৃত হতো, তাহলে সদ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত ইসলামি আদর্শভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় সাফল্য পেতে পারত বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির বাংলাদেশ বংশভূত সংসদ সদস্য রুপা হক।
এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারতো।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল বিএনপি বড় ব্যবধানে জয় পেলেও রাজনৈতিক হতাশা যদি গভীরতর হতো, তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারত। উল্লেখ্য,
ব্রিটিশ দৈনিক The Telegraph–এ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ নিডস অ্যা নিউ স্টার্ট–বাট উইল গেট ইট ওয়ান?’ শীর্ষক নিবন্ধে রুপা হক এসব
কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সময়টি পুরোনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ারও কারণ নেই বলেও তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের কিংস্টনে অবস্থানের পর দেশে ফিরেছেন এবং এখন দলের উত্তরসূরি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার আমলে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি লেখেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অডিও বার্তায় সর্বশেষ নির্বাচনকে ‘একতরফা প্রহসন’ এবং ইউনূস সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গণভোট ও ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ রুপা হক লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের গণভোট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের
মতে, এটি ছিল ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ ধরনের কঠোর ভোটের প্রস্তাব। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। তার ভাষায়, তিনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রুপা হক বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার স্মৃতি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মামলা, নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের চক্রও ফিরে আসে। প্রবাসী ভোট ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিবন্ধে তিনি ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কর্মস্থলে এক সহকর্মী তাকে জানান, তিনি প্রবাসী ভোট দিয়েছেন এবং তার পছন্দ ছিল জামায়াত। রুপা হক প্রশ্ন করেছিলেন, “ইসলামপন্থীরা?” জবাবে সহকর্মী বলেন, “একবার ওদেরও সুযোগ দিয়ে দেখা যাক।” তিনি অবশ্য মন্তব্য করেন,
একজনের মতামত দিয়ে সামগ্রিক চিত্র বোঝা যায় না। তবে এটি একটি প্রবণতার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরোনো চক্রের পুনরাবৃত্তি রুপা হক স্মরণ করেন, ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে তিনি দুই প্রধান নেত্রীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন শেখ হাসিনার দল সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ আসন দখলে রেখেছিল এবং বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পথে ছিল। তার বিশ্লেষণে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই অবিশ্বাসের রাজনীতি তীব্র হয়েছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা প্রতিপক্ষকে দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা করে; আর বিরোধীরা নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগে বর্জন করে। এই চক্র বারবার ফিরে আসে। পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নতুন প্রজন্ম তিনি লেখেন, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক রাজতন্ত্র নেই, তবু রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক। জিয়াউর
রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব নেন; ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পান। তার মতে, এই বাস্তবতায় নতুন ও সতেজ রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন ছিল। ছাত্রদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি ‘বাংলাদেশ–২.০’-এর সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নতুন গঠিত ছাত্রদল এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে তিনি বিস্ময়কর বলে আখ্যা দেন। সামনে কোন পথ? রুপা হক বলেন, পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে বাংলাদেশ সামরিক শাসন, হত্যাকাণ্ড, গুম, সাজানো নির্বাচন ও অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা দেখেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হয়েছে। তার প্রশ্ন—এবার কি সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে, নাকি পুরোনো অভ্যাসই আবার ফিরে আসবে? তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পারস্পরিক বিরোধ যদি আরও
তীব্র হতো এবং জনমনে হতাশা বাড়ত, তাহলে জামায়াত বড় রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারত। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছে, সেটি কতটা বাস্তব রূপ পাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সময়টি পুরোনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ারও কারণ নেই বলেও তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের কিংস্টনে অবস্থানের পর দেশে ফিরেছেন এবং এখন দলের উত্তরসূরি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার আমলে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি লেখেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অডিও বার্তায় সর্বশেষ নির্বাচনকে ‘একতরফা প্রহসন’ এবং ইউনূস সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গণভোট ও ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ রুপা হক লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের গণভোট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের
মতে, এটি ছিল ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ ধরনের কঠোর ভোটের প্রস্তাব। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। তার ভাষায়, তিনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রুপা হক বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার স্মৃতি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মামলা, নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের চক্রও ফিরে আসে। প্রবাসী ভোট ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিবন্ধে তিনি ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কর্মস্থলে এক সহকর্মী তাকে জানান, তিনি প্রবাসী ভোট দিয়েছেন এবং তার পছন্দ ছিল জামায়াত। রুপা হক প্রশ্ন করেছিলেন, “ইসলামপন্থীরা?” জবাবে সহকর্মী বলেন, “একবার ওদেরও সুযোগ দিয়ে দেখা যাক।” তিনি অবশ্য মন্তব্য করেন,
একজনের মতামত দিয়ে সামগ্রিক চিত্র বোঝা যায় না। তবে এটি একটি প্রবণতার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরোনো চক্রের পুনরাবৃত্তি রুপা হক স্মরণ করেন, ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে তিনি দুই প্রধান নেত্রীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন শেখ হাসিনার দল সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ আসন দখলে রেখেছিল এবং বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পথে ছিল। তার বিশ্লেষণে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই অবিশ্বাসের রাজনীতি তীব্র হয়েছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা প্রতিপক্ষকে দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা করে; আর বিরোধীরা নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগে বর্জন করে। এই চক্র বারবার ফিরে আসে। পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নতুন প্রজন্ম তিনি লেখেন, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক রাজতন্ত্র নেই, তবু রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক। জিয়াউর
রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব নেন; ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পান। তার মতে, এই বাস্তবতায় নতুন ও সতেজ রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন ছিল। ছাত্রদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি ‘বাংলাদেশ–২.০’-এর সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নতুন গঠিত ছাত্রদল এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে তিনি বিস্ময়কর বলে আখ্যা দেন। সামনে কোন পথ? রুপা হক বলেন, পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে বাংলাদেশ সামরিক শাসন, হত্যাকাণ্ড, গুম, সাজানো নির্বাচন ও অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা দেখেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হয়েছে। তার প্রশ্ন—এবার কি সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে, নাকি পুরোনো অভ্যাসই আবার ফিরে আসবে? তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পারস্পরিক বিরোধ যদি আরও
তীব্র হতো এবং জনমনে হতাশা বাড়ত, তাহলে জামায়াত বড় রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারত। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছে, সেটি কতটা বাস্তব রূপ পাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।



