অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত আসত ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে: বিস্ফোরক মন্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত আসত ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে: বিস্ফোরক মন্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিক কেবিনেটে (উপদেষ্টা পরিষদে) আলোচনা করে নেওয়া হতো না; বরং সেগুলো কেবিনেটের বাইরে থাকা অদৃশ্য একটি বলয় বা ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে আসত। সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ‘কিচেন কেবিনেট’ ও মতানৈক্য সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, সরকারে যারা স্বাধীনভাবে ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো ও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। বড় সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তাদের অন্ধকারে রাখা হতো। তিনি বলেন, "সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে বলে শুনেছি। তবে সেখানে কারা ছিলেন, তা আমি জানি না। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে

বলতে চাই, আমি ওই বলয়ে ছিলাম না। হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না বলে তারা ধরে নিয়েছিল যে, আমি তাদের সঙ্গে একমত হতে পারব না।" ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে কেন তিনি সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে আসার পর তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তখন তাকে বলেন, "৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে দেশে একটি খারাপ বার্তা যাবে।" এই কথা বলে তাকে তখন থেকে যেতে বলা হয়েছিল। লুট হওয়া অস্ত্র ও রহস্যময় হেলিকপ্টার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভেঙে পড়েছিল, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সাখাওয়াত হোসেন। সেই সময়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে

ধরে তিনি বলেন, থানাগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের পর প্রায় ৪ হাজার রাইফেল বেহাত হয়। এর মধ্যে কিছু উদ্ধার হলেও এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল এখনো নিখোঁজ, যা বর্তমান সরকারের জন্য বড় একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, আনসারদের আন্দোলনের সময় ৭.৬২ এমএম বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেলের মতো মারাত্মক সামরিক সমরাস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। এগুলো পুলিশের অস্ত্র নয়। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, হামলাকারীদের কয়েকজনের চেহারা ও শারীরিক গঠন স্থানীয় বাংলাদেশিদের মতো ছিল না। এমনকি পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। দায়িত্বে না থাকায় তিনি এই রহস্যের শেষ পর্যন্ত তদন্ত করে যেতে

পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। বিদেশি প্রভাব ও গোপন চুক্তি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, সব ক্ষেত্রে না হলেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের বড় ধরনের চাপ ছিল। অনেক চুক্তিতে ‘নন-ডিসক্লোজার ক্লজ’ বা গোপনীয়তার শর্ত থাকায় তা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের নীতিনির্ধারণ ছিল চরমভাবে ‘দিল্লিকেন্দ্রিক’। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এমন নগ্ন বিদেশি প্রভাবই শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। নির্বাচন ও জামায়াতের উত্থান সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পৃথিবীর কোথাও শতভাগ নিখুঁত বা খাঁটি নির্বাচন হয় না। তবে বাংলাদেশের মানুষ টানা তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে

বঞ্চিত ছিল।" রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়াকে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি ‘বড় ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলন ৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে মানববন্ধন: বাংলাদেশে আটক সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি ‘গুম’ থাকা আয়েশা ৭ বছর পর ফিরলেন জীবিত! চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ কর্মী গ্রেপ্তার, ‘পুলিশের বস্তাপচা নাটকের স্ক্রিপ্ট’ বদলের দাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তিন জেলায় তুলকালাম: সড়ক অবরোধ, ককটেল নিক্ষেপ ও ১৪৪ ধারা মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশান্তরি ঢাকা পোস্ট সম্পাদকের স্মৃতিচারণ: শফিক ও তার প্রেশারগ্রুপ থেকে সন্তানদের রক্ষায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও চার ব্যাংকের, ১০ ব্যাংক এক কাতারে উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না ১৭ ব্যাংক, বিধিনিষেধ আরোপ ফিফার তহবিলে উন্নয়নের জন্য তিনটি স্টেডিয়াম পাচ্ছে বাফুফে নীরবতাও অপরাধ: ইউনূসের অরাজকতা আর দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে নীরব থাকা আনু মুহাম্মদ গংও অপরাধী ১৯৬৫-র যুদ্ধ থেকে তারেক রহমানের বর্তমান নীতি: জিয়া-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক ব্যবচ্ছেদ হাম থেকে বেঁচে ফিরলেও শিশুদের মস্তিষ্কের ভয়ঙ্কর ঝুঁকি, আসছে বছরগুলোয় এসএসপিই’র শঙ্কা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: হাম-রুবেলার হাত ধরে ফিরে এলো চার দশক আগে বিলুপ্ত গুটি বসন্ত, শিক্ষকের মৃত্যু দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ শিশু মৃত্যু বিধানসভা নির্বাচনে তারকাদের হাল যেমন আমিরাতের পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা ১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা শুভেন্দুর কাছে হেরে গেলেন মমতা দেশের জন্য সতর্কবার্তা