‘১৫ বছর কী স্বার্থে কেন চুপ ছিলেন?’—ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে খোলা চিঠিতে প্রশ্ন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

‘১৫ বছর কী স্বার্থে কেন চুপ ছিলেন?’—ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে খোলা চিঠিতে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১:৪৫ 33 ভিউ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া জবানবন্দি ও সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের একাংশ। তাঁর বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ ও বাহিনীর জন্য ‘লজ্জাজনক’ দাবি করে একজন সেনা কর্মকর্তার লেখা একটি খোলা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চিঠিতে ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান যদি তাঁর ‘ঢালাও’ বক্তব্য সংশোধন না করেন, তবে তিনি নিজের কমিশন (পদবি) বর্জন বা সারেন্ডার করবেন। সম্প্রতি সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন এবং র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।

তাঁর সেই বক্তব্যের জেরে ‘জনৈক সেনা অফিসার’ পরিচয়ে লেখা ওই চিঠিতে সাবেক এই সেনাপ্রধানের নৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বপালনকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চিঠিতে ওই কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার পতনের পর এখন কেন সাবেক সেনাপ্রধান ‘সত্য’ প্রকাশ করছেন? তিনি লেখেন, ‘এই সত্যগুলো প্রকাশ করতে আপনাকে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হলো কেন? আপনি ২০১৫ সালে অবসরে গেছেন। আপনার সময়েও দেশে অন্যায়, দুর্নীতি ও গুমের অভিযোগ উঠেছিল। জেনে-শুনেও কেন তখন আপনি নীরব ছিলেন?’ ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও তাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়, ‘ইলেকশনের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে আমাদের ক্যাম্পের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আপনার চোখের সামনেই ইতিহাসের এক নির্মম ভোট ডাকাতি ঘটে গেল। সেদিন আপনার কণ্ঠ আমরা শুনিনি।’ সেনাপ্রধান থাকাকালে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে না দাঁড়িয়ে এখন কথা বলায় তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’দের কাতারে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পুরো বাহিনীকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ করার অভিযোগ সাবেক সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে যে কথা বলেছেন, তাতে পুরো বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয় ওই চিঠিতে। বলা হয়, গত ১৭ বছরে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ে কয়েক হাজার অফিসার চাকরি করেছেন। গুটিকয়েক কর্মকর্তার দায় হাজার হাজার কর্মকর্তার ওপর চাপানো যায় না। চিঠিতে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘আপনি যখন নির্দিষ্ট কয়েকজন জেনারেলের নাম

টেনে এনে পুরো বাহিনীর ওপর ছায়া ফেলেন, তখন প্রায় দুই লাখ সেনাসদস্যের গর্ব ও আত্মমর্যাদা ক্ষতবিক্ষত হয়। র‍্যাবে সাধারণত ৭০–৮০ জন অফিসার একসঙ্গে থাকেন। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী—তাঁরা সবাই কি অপরাধী?’ সেনাবাহিনীর ৯৮ শতাংশ কর্মকর্তা ও সৈনিক সৎ এবং পেশাদার দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, সাবেক সেনাপ্রধানের বক্তব্যের কারণে তাঁরা পরিবার ও সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না। চিঠির শেষ অংশে ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫৪ বছরের গৌরবোজ্জ্বল সেনাবাহিনীর ইতিহাসকে এভাবে ঢালাওভাবে কলঙ্কিত করার দায় সাবেক সেনাপ্রধান এড়াতে পারেন না। হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি যদি আপনার বক্তব্য অতিরঞ্জিত ছিল—এ কথা স্বীকার করে নতুন ও দায়িত্বশীল বক্তব্য না দেন, তাহলে আগামী

কিছুদিনের মধ্যেই আমি আমার কমিশন সারেন্ডার করব। আমি জানি, আমি একা নই। আরও অনেক অফিসার এই সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে।’ সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় থাকার চেয়ে বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় সাবেক সেনাপ্রধানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠির ইতি টানা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদা না পেয়ে সরকারি নিয়মের অজুহাতে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাদের মব ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারে এনসিপি-ইনকিলাব মঞ্চে আতঙ্ক ৩৪টা সইয়ে বন্দী একটা গ্রাম : হালাল মাইক, হারাম সাউন্ডবক্স চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব যে দেশে ফুল নিয়ে হাঁটা বিপজ্জনক : একটা ভাঙা বাড়ি, চারটা গ্রেপ্তার, একটা প্রশ্ন অগ্নিঝরা ৮ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর দর্শনে নারী-সমতা ও সোনার বাংলার প্রতিশ্রুতি বিএনপির স্মৃতিশক্তি বড় অদ্ভুত, নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসীকেই চিনতে পারে না! মন্দিরে বোমা হামলা, পুরোহিত হাসপাতালে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোথায়? সেহরি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন ঢাবি হলে ঢুকে ছাত্রীদের নির্যাতনসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বরখাস্ত: সাড়ে ১৬ বছর পর ডিসি কোহিনূরকে পুনর্বহাল রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে আজ থেকে বন্ধ দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে রেকর্ডভাঙা ধস শেয়ারবাজারে: দুই দিনে উধাও ১৬ হাজার কোটি টাকা, কারসাজি নিয়ে সন্দেহ ৪ হাজার সদস্য নিয়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে নির্বাচনের দুদিন আগে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সীমান্ত পার করানো হয় ফয়সালকে, অবশেষে ভারতে সঙ্গীসহ আটক আড়ং ও বাংলাদেশের গৌরবময় অর্জন: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারুশিল্পের ষ্টোর’ ঢাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান, বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম ৭ই মার্চ পোস্টের জেরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে সেহেরির সময় নির্মমভাবে পেটালো ছাত্র শিবির-ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা