ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামাতে গভর্নরের কাছে চিঠি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ September, ২০২৪

ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামাতে গভর্নরের কাছে চিঠি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ September, ২০২৪ |
শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তার অনুসারীরা এখনো বিভিন্ন উপায়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করে যাচ্ছ। এবার এনআরবিসি ব্যাংককেও নৈরাজ্য করার চেষ্টা করছে দুর্নীতিবাজরা। পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত সাবেক পরিচালক ও কিছু সাবেক কর্মকর্তা মিলিতভাবে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাংকটি দখল করে আবার লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা। গত ২৩ আগস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের কাছে এক চিঠিতে এই ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অসাধু চক্রটি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে

ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এনআরবিসি ব্যাংকের গতি থামাতে নানা অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যাংকগুলোকে বিপদে ফেলে দিলেও এনআরবিসি ব্যাংক তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক গত দুই বছরে প্রায় এক লাখ মানুষকে স্বল্প সুদে বিনা জামানতে ঋণ দিয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ব্যাংকটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংক সবসময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঋণ বিতরণ থেকে বিরত থেকেছে, যা তাদের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। গত সাত বছরে ব্যাংকটি সব আর্থিক সূচকে অসামান্য উন্নতি করেছে। নিট

মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে, আমানত সংগ্রহ সাড়ে চার গুণ বেড়েছে এবং ঋণ বিতরণ পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের হাত ধরে এনআরবিসি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলেও ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী ব্যাংকটির লাইসেন্স নেওয়ার পর থেকেই ব্যাপক চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হন। প্রাথমিক শেয়ার বিক্রিতে দ্বিগুণ দামে শেয়ার বিক্রি এবং ঘুষের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ব্যাংক পরিচালনা শুরু করেন। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা, যারা ব্যাংকটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন। ফরাসত আলী এবং তার সহযোগীরা এনআরবিসি ব্যাংকের বিভিন্ন শেয়ার বেনামে ক্রয় করেন, যা আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় এবং ফরাসত আলীসহ

ছয় পরিচালককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। পাশাপাশি ফরাসত আলীকে দুই বছরের জন্য আর্থিক খাতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ফরাসত আলী আবারও ব্যাংকটিকে দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এবার তার সহযোগী হিসেবে যোগ দেন ব্যাংক থেকে দুর্নীতির কারণে চাকরি হারানো কিছু প্রাক্তন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে আছেন শাফায়েত ওয়াহেদ, সৈয়দ মো. মহররম হোসেন, মাহফুজুর রহমান এবং রিয়াজ উদ্দিন আসিফ। এই চক্রটি ২০২০ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও গণমাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে আসছে। চিঠিতে ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাদের নামেও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী

সরকারের পতনের পর তারা আবারো সক্রিয় হয়েছে এবং এনআরবিসি ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। চিঠির শেষাংশে দাবি করা হয়েছে, এনআরবিসি ব্যাংক ধ্বংসের মুখ থেকে উঠে এসে দেশের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অসাধু চক্রটি এখন আবারও ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে যদি এই চক্রান্ত থামানো না হয়। তাই এনআরবিসি ব্যাংককে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের